খেলানাগরিক মতামতশিরোনাম-২

বিশ্বকাপ ও রাজনীতি : দর্শক ও প্লেয়ার

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

বাংলাদেশ এবং সারাবিশ্ব এখন ‘বিশ্বকাপ ফুটবলের’ জোয়ারে ভাসছে। কোন দল জিতে আর কোন দল হারে – তা নিয়ে টেনশন ও উত্তেজনার শেষ নেই। প্রতিটি খেলা চলাকালে এবং তার আগে ও পরে, কোটি কোটি মানুষের মুখে মুখে এখন বিশ্লেষণ-পর্যালোচনার খই ফুটছে। সবাই এখন হয়ে উঠেছে ‘ফুটবল বিশেষজ্ঞ’। আমাদের দেশের রাজনীতিতেও এখন অনেকটাই এই বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশ্বকাপের একেকটি খেলায় খেলোয়াড়, রেফারি, লাইনসম্যান প্রমুখ মিলে মাত্র ডজনদুয়েক মানুষ মাঠে থাকে। তারাই ‘প্লেয়ার’। মাঠের বাইরে এদের সঙ্গে যুক্ত থাকে কোচ, অতিরিক্ত খেলোয়াড়, ফিজিও, ডাক্তার প্রমুখসহ আরও কয়েক ডজন টেকনিক্যাল ব্যক্তি। শুধু তারাই কেবল খেলার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। কিন্তু মাঠের চতুর্দিকের গ্যালারিতে ঠাসা হয়ে বসে খেলা দেখে হাজার বা লাখো দর্শক। টেলিভিশনের সুবাদে সেই খেলা সরাসরি দেখে আরও কয়েক কোটি মানুষ। খেলার অগ্রযাত্রার তালে তালে তারা আনন্দে, উচ্ছ¡াসে, টেনশনে, হতাশায়, বেদনায় ভাসতে থাকে। জিন্দাবাদ-মুর্দাবাদ বলে গলা ফাটিয়ে তাদের অনেকের মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হয়। মাঝে মাঝেই তারা কেউ কেউ নিজেদের মধ্যে মারামারি করে নিহত-আহতও হয়। অথচ তারা কেউ কিন্তু প্রকৃত ‘প্লেয়ার’ নয়। খেলে শুধু দুডজন ‘প্লেয়ার’। আর কোটি কোটি মানুষ হলো ‘প্লেয়ারদের’ সেই খেলার ‘দর্শক’ মাত্র।
দেশের রাজনীতির অবস্থাও এখন হয়ে উঠেছে অনেকটা বিশ্বকাপ ফুটবলের মতোই। এখন দেশের রাজনীতির প্রকৃত ‘প্লেয়াররা’ হলো হাতেগোনা যায় এমন নগণ্যসংখ্যক মুষ্টিমেয় দেশি-বিদেশি লুটেরা শাসক-শোষক, তাদের স্বার্থরক্ষাকারী দলগুলোর শীর্ষ নেতা-নেত্রী, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা প্রমুখ। আমজনতা তথা ষোলো কোটি ‘পাবলিক’ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিছক ‘গ্যালারির দর্শক’ হয়ে আছে।
জনগণের জীবনে সমস্যা-সংকটের অন্ত নেই। বেপরোয়া লুটপাট, দুর্নীতি-সন্ত্রাসের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, পুষ্টিহীনতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, চরম হতে থাকা বৈষম্য ইত্যাদি মানুষকে প্রতিনিয়তই হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। লিঙ্গবৈষম্য, যৌন নিপীড়ন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার, ভেজাল, মাদকাসক্তি, নিয়ন্ত্রণহীন দুর্ঘটনা ইত্যাদি দুর্বিষহ বোঝা হয়ে কাঁধে চেপে আছে। আইনের শাসনের ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না, চলছে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড, অব্যাহত আছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। রাজনীতির ক্ষেত্রে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হচ্ছে খর্বিত, নির্বাচন পরিণত হয়েছে তামাশায়, গণতন্ত্রহীনতার শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে দেশবাসী আজ বন্দি। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কোনো ভ‚মিকা পালনের সুযোগ এখন আর নেই বললেই চলে। অথচ সংবিধানের শুরুতেই ঘোষণা করা হয়েছে যে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।’
এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ পথের সন্ধান চায়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ আজও সে পথ পরিষ্কারভাবে চিনে উঠতে পারেনি। আজও তারা পরিপূর্ণভাবে এই অভিজ্ঞতা আত্মস্থ করে উঠতে পারেনি যে, এসব দুর্দশার উৎসমূল হলো প্রচলিত ‘লুটপাটের সমাজব্যবস্থা’। এখনো বেশিরভাগ মানুষ এই ভ্রান্ত আশায় বিভোর হয়ে রয়েছে যে, ‘একে’ বাদ দিয়ে ‘ওকে’ গদিতে আনতে পারলেই হয়তো দুর্দশা দূর হবে। নৌকা, ধানের শীষ, ওয়ান-ইলেভেন ইত্যাদি শক্তি, মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলার মতো, মানুষের ভ্রান্ত আশাকে পুঁজি করে, সেই লুটপাটের ব্যবস্থাকেই পালাক্রমে চালু রাখতে সক্ষম হচ্ছে। গদির বদল হয়, কিন্তু আগের অর্থনৈতিক-সামাজিকব্যবস্থা বদল হয় না। ফলে বদল হয় না মানুষের দুর্দশা-দুর্গতির।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ হলো সমাজতন্ত্র-অভিমুখীন সমাজ বিপ্লব। জনগণ, বিশেষত মেহনতি জনগণের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই কেবল সেরূপ সমাজ বিপ্লব সাধিত হতে পারে। জনগণকে সমাজ বিপ্লবের শক্তি হয়ে ওঠার জন্য অর্জন করতে হবে চেতনা, ঐক্য ও সংগঠন। এসব প্রস্তুতিকাজ চালানোর জন্য স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুকূল। তাই গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে মেহনতি মানুষসহ জনগণের স্বার্থ ও আগ্রহই সবচেয়ে বেশি। এ কথা ঠিক যে, কোনো একটি সুনির্দিষ্ট মুহূর্তে জনগণকে যদি ‘সর্বহারার গণতন্ত্র’ ও ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্রের’ মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়, তা হলে তাদের উচিত হবে প্রথমটিকেই বেছে নেওয়া। কিন্তু তাকে যদি ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ ও ‘বুর্জোয়া স্বৈরতন্ত্রের’ মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, তা হলে অবশ্যই তার উচিত হবে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার’ পক্ষে দাঁড়ানো। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনকে রক্ষা করার সঙ্গে মেহনতি মানুষ তথা জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বেশি জড়িত।
পক্ষান্তরে সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণিসহ শোষক শ্রেণি গণতন্ত্রকে তাদের স্বার্থ হাসিলের পথে অন্তরায় বলে মনে করে। গণতন্ত্রের অবাধ বিকাশকে তারা তাদের শোষণব্যবস্থার প্রতি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে। কারণ গণতন্ত্র একটি বহুমাত্রিক ও প্রসরমান বিষয়। এর মর্মকথা হলো জনগণের শাসন। তাই গণতন্ত্র বহাল থাকলে তা শুধু ৪-৫ বছর পরপর ভোটের প্রক্রিয়ার মধ্যে (দেশি-বিদেশি শোষকরা যাকে টাকার জোরে ‘ম্যানেজ’ করতে পারবে বলে মনে করে) সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি সব ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার প্রসারিত হওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হতে থাকবে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সে পথে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। দেশকে সে কারণেই মুক্তিযুদ্ধের ধারা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই শোষকদের ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের পথের বদলে স্বৈরতান্ত্রিক পথে চলাটিই স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে উঠেছে।
কিন্তু শোষকদের জন্য তাতেও মুশকিল। স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে শোষকদের একটি অংশ অবাধ লুটপাট চালিয়ে তাদের নিজেদের ষোলো আনা স্বার্থ আদায় করে নিতে পারলেও অন্যান্য অংশ লুটপাটের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। স্বৈরাচারীব্যবস্থা শোষকদের প্রতিটি অংশ বা গোষ্ঠীর লুটপাটের স্বার্থ সমান মাত্রায় দেখভাল করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই অবধারিত হয়ে ওঠে লুটপাটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্ব›দ্ব-কলহ-সংঘাত-সংঘর্ষ। তাই শোষকদের শ্রেণিগত স্বার্থেই ‘গণতন্ত্র’কে একটি নিয়ন্ত্রিত সীমার মধ্যে বেঁধে রাখতে হয়। প্রকৃত ও নিরঙ্কুশ গণতন্ত্র তো নয়ই, এমনকি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে গণতন্ত্রকে আবদ্ধ রেখে পথ চলতেও শোষক শ্রেণি তাই অপারগ হচ্ছে। লুটপাটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে সৃষ্ট সংঘাত-সংঘর্ষ যে নৈরাজ্যের জন্ম দিয়ে চলেছে তা গোটা শোষণব্যবস্থার অস্তিত্বকেই এখন বিপদাপন্ন করে তুলছে। এমতাবস্থায় সামরিক অভ্যুত্থান, প্যারা-সামরিক অভ্যুত্থান ইত্যাদি ঘটিয়ে স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় শোষকদের স্বার্থরক্ষায় সচেষ্ট হওয়া ছাড়া তাদের জন্য অন্য কোনো পথ খোলা থাকছে না।
অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, লেবাসি গণতন্ত্রের আবরণটুকু বজায় রাখলে শাসক-শোষকদের পক্ষে শক্ত হাতে ‘ছোটলোকদের জাগরণ’ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই এ দেশে এখন বুর্জোয়া গণতন্ত্রের নিছক লেবাসি আবরণটিও ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শাসনব্যবস্থা উন্মত্ত স্বৈরাচারের বর্বর রূপ ধারণ করছে। শাসনব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদী প্রবণতা জন্ম নিচ্ছে।
গণতন্ত্রের জন্য দেশের জনগণ অঢেল রক্ত ঝরিয়েছে। লাখো শহীদের রক্তের দামে অর্জিত সেই গণতন্ত্র বিসর্জন দেওয়া যায় না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা দেশবাসীর সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক কর্তব্য। কিন্তু সেই কর্তব্য পালন সরল-সোজা কোনো কাজ নয়। কারণ গণতন্ত্র ইলেকট্রনিক সুইচ অন করার মতো ‘এক ঝটকার’ কোনো ব্যাপার নয়। গণতন্ত্রশূন্যতা থেকে গণতন্ত্রপূর্ণতায় উত্তরণ দেয়ালের এদিক-ওদিক করার মতো এক লাফে এপার-ওপার করার কোনো সরল বিষয় নয়। গণতন্ত্র হলো একটি বহুমাত্রিক বিষয়, যার রয়েছে বহু ধরনের উপাদান। তা ছাড়া সব রাষ্ট্রের গণতন্ত্র এক কিছিমের নয়। এসব বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রিকতার মাঝ থেকেই, প্রতিটি দেশের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতার আলোকে, সে দেশে ‘গণতন্ত্রের’ মর্মকথা সুপ্রথিত করতে হবে।
গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণাগত ভিত্তি হলো ‘গণ’, অর্থাৎ জনগণ। জনগণ বলতে সাধারণ অর্থে ‘সব মানুষের সর্বাংশ’ বলতে যা বোঝায়, সেভাবেই তাকে বুঝতে হবে। তার একাংশকে কিংবা তার প্রতিনিধিত্বশীল বলে দাবিদার একাংশকে ‘জনগণ’ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে না। তাই ‘গণতন্ত্রের’ মূল কথা হলো, প্রাকৃতিক জগতের নিয়ন্ত্রণ-অসাধ্য ঘটনাবলির বাইরে, মানুষের ইহলৌকিক সামাজিকজীবনের ওপর জনগণের পরিপূর্ণ ও কার্যকর কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। অর্থাৎ জনগণের নিজেদের হাতে নিজেদের শাসনকাজের নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করা।
গণতন্ত্র অর্থবহ করার জন্য অর্থনীতির ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একটি প্রধান ও নির্ধারক প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গটি ‘গণতন্ত্র’ সম্পর্কে সমাজতন্ত্রীদের ধারণার একটি মূল স্তম্ভ। তাদের সঙ্গে পুঁজিবাদী ‘মুক্ত অর্থনীতির’ প্রবক্তরা অবশ্য মোটেই একমত নন। মতপার্থক্যটি চ‚ড়ান্ত বিচারে এসে দাঁড়ায় উৎপাদন উপকরণের ওপর মালিকানার আইনগত রূপের ক্ষেত্রে। সেই মালিকানা ‘সমষ্টিগত স্বার্থভিত্তিক যৌথতার’ ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, নাকি ‘ব্যক্তিমালিকানার স্বাধীনতার’ ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা হবে – দুপক্ষের মধ্যে মূল দ্ব›দ্বটি হলো এ নিয়ে।
সেই বিতর্কে প্রবেশ না করেই আমরা যদি শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমন্ডলে কার্যকর গণতন্ত্রের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি তা হলেও সে ক্ষেত্রে ‘জনগণের শাসনব্যবস্থা’র একটি আবশ্যিক শর্ত হলো শাসনকাজে জনগণের সর্বাংশের সক্রিয় অংশগ্রহণ। প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের এই অধিকার ও কর্তব্য অন্য কারো কাছে হস্তান্তর (abdicate) করা যায় না। এ ক্ষেত্রে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নির’ যুক্তি প্রযোজ্য হতে পারে না। ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নির’ যুক্তি দেখিয়ে, জনগণের জায়গায় ‘জনপ্রতিনিধিদের’ শাসন প্রতিস্থাপন করে তাকে প্রকৃত গণতন্ত্র বলে চালিয়ে দেওয়া যেতে পারে না। প্রতিনিধিদের হাতে কর্তৃত্ব স্থানান্তর ও কুক্ষিগত করে জনগণকে নিষ্ক্রিয় বসিয়ে রাখা দ্বারা ‘এমপিতন্ত্র’, ‘চেয়ারম্যানতন্ত্র’ ইত্যাদি স্থাপন করা গেলেও ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা হয় না। শাসনকাজে জনগণের স্বার্থরক্ষা কেবল জনগণের দ্বারাই করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ‘প্রক্সি’র কোনো সুযোগ নেই। এ কথা কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ‘জমি বর্গা দেওয়া সম্ভব হলেও স্বার্থ ও অধিকার কোনোদিন বর্গা দেওয়া যায় না।’
বিশ্বকাপের ফুটবল খেলায় কোটি কোটি দর্শক ‘প্লেয়ার’ হয় না। সে সুযোগও তাদের নেই। কোটি কোটি দর্শকের ‘প্রতিনিধি’ হয়ে দুই ডজন খেলোয়াড় তাদের পক্ষে ‘প্লেয়ারের’ দায়িত্ব পালন করে। খেলার ফলাফল এই মুষ্টিমেয় ‘প্লেয়াররাই’ নির্ধারণ করে। গ্যালারির ও টিভি স্ক্রিনের কোটি কোটি দর্শকের সে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভ‚মিকার অবকাশ নেই। কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণকে গ্যালারির দর্শক হয়ে শুধু জিন্দাবাদ-মুর্দাবাদ দিয়ে দিন কাটালে হবে না। দেশের ষোলো কোটি নাগরিকের সবাইকে সে জন্য ‘নিজ নিজ অধিকারজুড়ে দাঁড়াতে’ হবে। রাজনীতির খেলার মাঠে জনগণকে এখন দর্শকের কাতার থেকে উঠে এসে ‘প্লেয়ার’ হয়ে মাঠে নামতে হবে। তবেই প্রকৃত গণতন্ত্রের সত্যিকার রূপায়ণের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।
জনগণের প্রতি নূরুলদীনের সেই ডাকটি আজ আবার স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে – ‘জাগো বাহে, কুণ্ঠে সবাই’!
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

Close