মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

অরক্ষিত রুয়েট, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপালী ব্যাংকের রুয়েট শাখায় ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় ডাকাতি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে নগরের মতিহার থানায় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সোয়াইবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান।
ডাকাত দলের সদস্যরা ব্যাংক লুট করতে ব্যর্থ হলেও তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত প্রহরী লিটনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দিনগত রাত ১২টার দিকে রুয়েট ক্যাম্পাসে অবস্থিত রূপালী ব্যাংকের এ শাখার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। প্রথমে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা ভাঙে তারা। এরপর এ শাখায় নিরাপত্তা লিটনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। এরপর ব্যাংকের ভল্ট ঘেঁষে দেয়াল ভাঙালেও টাকা লুট করতে পারেনি। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় আহত লিটনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলমত সংগ্রহ করেছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংকের ডাকাতির চেষ্টার পর গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সোয়াইবুর রহমান জানান, সিসি ক্যামেরায় মুখোশধারী একজনকে দেখা গেছে। রড কাটা মেশিন দিয়ে ভল্টের দেয়াল ভাঙতে চেষ্টা করে সে ব্যর্থ হয়। ফলে ব্যাংক থেকে কিছু খোয়া যায়নি।
এদিকে রুয়েটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এই ক্যাম্পাস চত্বরে ঘটছে একের পরে এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। রুয়েটের মতো দেশের অন্যতম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টার ঘটনাটি ঘটার পরে এখানকার নিরাপত্তা কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রুয়েটে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সেটি কানে তোলেনি প্রশাসন।
এর আগে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে রুয়েটের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের সামনে বাস চালক আব্দুস সালামকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এছাড়াও রুয়টের হলগুলোতে মাঝে-মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সম্প্রতি তুলকালাম কা- ঘটে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যেও। কিন্তু তার পরেও রুয়েটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি।
রুয়েটের একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো বালায় নাই। প্রধান ফটকে আনসার সদস্য দায়িত্ব থাকলেও তারা যেন কিছু দেখেও না দেখার ভান করে বসে থাকে। ফলে রুয়েটে একের পর এক বড় বড় অপকর্ম ঘটে চলেছে রাতের আঁধারে। কিন্তু রুয়েট প্রশাসন এসব ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। যার কারণে রুয়েটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম হুমকিরমুখে পড়েছে।’ বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close