মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

রাজশাহীতে চার দফা দাবিতে ৮ম দিনের মত নার্সিং বিক্ষোভ

মহানগর প্রতিবেদক: ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি ইন নার্সিং এর পুরাতন কারিকুলাম বহালসহ ৪ দফা দাবিতে সারা দেশের সরকারী নার্সিং কলেজগুলো বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট নার্সেস এসোসিয়েশন (বিবিজিএসএনএ) এর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজশাহীতে ৮ম দিনের মত, শনিবার ক্লাস, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস , পরীক্ষা বর্জন , প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বিক্ষোভটি রাজশাহী নার্সিং কলেজ কাম্পাস থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুর মোড় প্রদক্ষিণ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে দিয়ে আবার একই স্থানে শেষ হয়।
তাদের দাবি ২০১৮-১৯ ইং সেশন হতে অভিন্ন পাঠ্যক্রম হিসেবে ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের জন্য বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইইফারি কাউন্সিল ( বিএনএমসি) এর মাধ্যমে যে নতুন কারিকুলাম প্রনয়ন করেছে এবং বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পুনরায় পর্যালোচনা করে ফাউন্ডেশন কোর্সসমূহ অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না রেখে আলাদা স্বতন্ত্র কোর্স হিসেবে রাখতে হবে এবং তার আগ পর্যন্ত পুরাতন কারিকুলাম বহাল রাখতে হবে। এই বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং এ পড়তে আসা শিক্ষার্থীবৃন্দ শিক্ষাগ্রহন শেষে নার্সিং পেশায় তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখার আলাদা কোন সুযোগ না পাওয়ায় দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নার্সিং পেশায় স্বতন্ত্র পেশাগত ক্যাডার সার্ভিস “বিসিএস (সেবা)” চালুই কেবল এই বৈষম্য দূর করে ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারে। বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং এ কোর্স শেষে ৬ মাস ইন্টার্ন চালু রয়েছে। ইন্টার্ন করা অবস্থায় একজন ইন্টার্নী ফুলটাইম ৩ শিফটে যে দায়িত্ব পালন ক্রে তা একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। এছাড়া ইন্টার্ন করার জন্য আলাদা কোন আবাসনের ব্যবস্থা নেই। ২০১৪ সালে আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং এ ৬ মাস ইন্টার্ন যুক্ত হয় ও ইন্টার্ন ভাতা ৬০০০ টাকা নির্ধারিত হয় যা পাঁচ (৫) বছরে আর বৃদ্ধি করা হয়নি। উচ্চমূল্যের এই বাজারে নিজে চলে ও পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা একজন ইন্টার্নীর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এহেন পরিস্থিতিতে ইন্টার্ন ভাতা ৬০০০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকায় বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলেন নার্সিং কলেজগুলো শুধু নামেই কলেজ। এখানে নেই কোন দারোয়ান, ল্যাব টেকনিশিয়ান, লাইব্রেরিয়ান বা পর্যাপ্ত জনবল। এমনকি এখানে শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষকদের জন্যি কোন ( অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক , (লেকচারার) পদ আজও তৈরি করা হয়নি। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে একটি কলেজ চলতে পারে না। তাই প্র্যোজন অনুসারতে পদ সৃজন, তাতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ প্রদান করে এবং ভৌত অবকাঠামো পরিপূর্ণ করে কলেজসমূহকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সময় এসেছে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশানের সভাপতি মেহেদী হাসান সুমন, সহ-সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন নাঈম, বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক ময়েজ উদ্দিন প্রমুখ। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close