মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

রামেবি’তে আইন ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তৃতীয়বার এডহক নিয়োগকৃত প্রার্থীকে স্থায়ী নিয়োগের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিবের বিরুদ্ধে অযোগ্য প্রার্থীকে তৃতীয়বার এডহক নিয়োগের পর এবার স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে উপাচার্য রামেবি আইন-২০১৬ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত প্রার্থী মোছা. উম্মে হাবিবা ইউজিসি’র সিনিয়র সহকারি পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুল আলীমের সহোদর। ইউজিসির প্রভাব খাঁটিয়ে এ কর্মকর্তা রামেবিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে তার বোনের চাকরি আদায় করেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ইউজিসি ২০১৭ সালের ৪ জুলাই ‘উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার’ শর্তে রামেবির জন্য বিভিন্ন পদে জনবল অনুমোদন করে। এছাড়া ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পত্রে ইউজিসি এডহক ও মাস্টাররোলে নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা দেয়। অন্যদিকে রামেবি আইন-২০১৬ এর ১৩(১০) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘ভাইস-চ্যান্সেলর সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে অনুমোদিত শূন্যপদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক ৬ (ছয়) মাসের জন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে উক্তরুপ নিয়োগের মেয়াদ অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন।’ কিন্তু গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর মোছা. উম্মে হাবিবাকে তৃতীয় বারেরমত এডহকে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি প্রথম দফায় সেকশন অফিসার পদে এডহক নিয়োগ পান। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ জুন দ্বিতীয় দফায় তার চাকরির মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি করা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় দফায় এডহক নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধির পর ২০১৮ সালের ৮ জুলাই প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে চাকরি স্থায়ী করার জন্য রামেবির বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে কর্মরত পদে আবেদন করেন মোছা. উম্মে হাবিবা। কিন্তু উক্ত নিয়োগের জন্য রামেবি উপাচার্য নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড তাকে নিয়োগ দেয় নি। ফলে তার চাকরি আর স্থায়ী হয়নি।

সূত্র মতে, একই বছর ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় এডহক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলে হাবিবা’র চাকরি চলে যায়। কিন্তু গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে তৃতীয় বারেরমত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে আবারো ৬ মাসের জন্য এডহক নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য। আগেরবার অযোগ্য হওয়ায় আবারও বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে গণ্য করার জন্য তাকে রামেবি আইন এবং ইউজিসি’র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তৃতীয়বার এডহক নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর গত ১২ জুলাই বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে উম্মে হাবিবার সাক্ষাতকারও গ্রহণ করা হয় বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামেবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, উপাচার্য ইউজিসির সিনিয়র সহকারি পরিচালক আব্দুল আলীমকে আস্থায় রাখতে, তার বোন মোছা. উম্মে হাবিবার চাকরি স্থায়ী করার লক্ষ্যে রামেবি আইন এবং ইউজিসির নিষেধাঙ্গা অমান্য করে তৃতীয়বার এডহক নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিব রামেবি আইন এবং ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক বছরে ১০ দফায় অন্তত ৩০ জনকে এডহক নিয়োগ দিয়েছেন। কয়েকজনকে প্রথম এডহক থেকে দ্বিতীয় এডহকে পদোন্নতিও দিয়েছেন উপাচার্য। অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্য যখন-যাকে খুশি নিয়োগ দেন, আবার কৌশলে বিদায় করেন। উপাচার্যের এধরণের কর্মকান্ডকে ‘নিয়োগ নিয়ে খেলা’ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে রামেবি উপাচার্য ডা. মাসুম হাবিব বলেন, কাউকে নিয়োগ দেয়া না দেয়ার বিষয়ে ভিসির বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতা বলে উম্মে হাবিবাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/আহোশি/হাপি

Close