চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের আড়ালে রমরমা বানিজ্য

মোঃ সজিব ইসলাম,চারঘাট প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় সরকারী নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠেছে কিন্ডার গার্ডেন এন্ড ক্যাডেট কেজি স্কুল। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত কচি কাচা শিক্ষার্থী পড়াশুনা করলেও এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন নয় ব্যবসায় মূল লক্ষ্য এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালিকদের।
অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই শিক্ষার পরিবেশ। ছোট পরিসরে চলছে পাঠদান, অদক্ষ ও তুলনামূলক স্বল্প শিক্ষিত শিক্ষকরা পাঠদান দেন। তারা সরকারের পাঠ্য বইয়ের তুলনায় নিজেদের বইকে বেশি প্রাধান্য দেন এবং অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় কচি কাচা শিক্ষার্থীদের ওপর।
এ ছাড়া অসহনীয় ভর্তি ফি আদায়, অতিরিক্ত মাসিক বেতন, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার নামে মাসে মাসে পরীক্ষা ফি আদায়, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন না করার অভিযোগ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে রয়েছে।এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শুধু সারদাতেই রয়েছে ৫ টি কিন্ডার গার্ডেন এন্ড ক্যাডেট স্কুল।স্কুলের অন্তরালে এসব প্রতিষ্ঠানে চলে রমরমা কোচিং বানিজ্য। আর এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক জড়িত রয়েছেন। মূলত ঐ সকল শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার হিসাবেই এসব প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও উপজেলার আনাচে– কানাচে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে একাধিক কিন্ডার গার্টেন এন্ড ক্যাডেট স্কুল।
এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোর্ডের বাংলা, ইংরেজী, গণিত-এ তিনটি বিষয়ের সঙ্গে সহায়ক হিসাবে ধর্ম, পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান, ওয়ার্ড বুক, চিত্রাংকন, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা শেখার, সাধারণ জ্ঞান, নামাতা-গুন-ভাগ জ্যামিতি আছে এবং একটি গণিত বই, ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গল্প ও কবিতার এবং কম্পিউটার শিক্ষা সংক্রান্ত বই দেওয়া হয়ে থাকে।
স্কুলভেদে এসব বইয়ের সংখ্যা ও বিষয় কম বেশি হয়ে থাকে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়,বিজ্ঞান ও ধর্ম ৬ টি সরকারি বইয়ের সঙ্গে সহায়ক হিসাবে দেয়া হয় ব্যাকরণ, ইংরেজী গ্রামার ,কম্পিউটার, চিত্রাঙ্কন, দ্রুত পঠন ধরণের দুই থেকে ছয়টি বই।
এ ছাড়া স্কুল থেকে ওই শিক্ষকদের কোচিং প্রইভেটে যাওয়ার জন্য অনেক শিশুকে ব্যাগে তুলে নিতে হয় সে সব বই। আর এসব শিক্ষা বাণিজ্য করে লাভবান হচ্ছে প্রি-ক্যাডেট কিন্ডার গার্ডেন পরিচালক বা মালিকগণ। এগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় চলছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে টানাটানি।
এদিকে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারি স্কুলব্যাগ নিষেধ। কিন্তু কোনো স্কুলে মানা হচ্ছেনা এ আইন।
এ বিষয়ে যোগাযাগ করা হলে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক জানান, চারঘাট উপজেলায় গড়ে উঠা যে সকল কিন্ডার গার্ডেন এন্ড ক্যাডেট কেজি স্কুল রয়েছে তাদের মধ্যে সরকারি অনুমোদন আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে অনুমোদন না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close