পাবনাবগুড়াশিরোনামসিরাজগঞ্জ

পাবনা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে ৬ জনকে গনধোলাই

ষ্টাফ রির্পোট: পাবনার ঈশ্বরদী,বগুড়ার গাবতলী ও সিরাজগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে ৬ জনকে গনপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী।
পাবনা: ঈশ্বরদীতে ছেলেধরা সন্দেহে মিনারা নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার রাতে ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারীর নাম মিনারা। তার বাড়ি পাবনা সদর থানার ঘোষপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামের আল্লেক বেপারির বাড়ির একটি ঘরে ঢুকে পড়ে নারী। এ সময় ঘরে তার দেড় বছরের নাতি রাহি ঘুমিয়ে ছিল। তা দেখেই ছেলেধরা বলে চিৎকার করতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা।
আশপাশের লোকজন এসে মিনারাকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মিনারার কাছে থাকা পলিথিন ব্যাগ থেকে ওষুধ ও একটি টিনের চাকু জব্দ করে পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, আটক নারী ছেলেধরা কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সারা দেশে এখন ছেলেধরা-আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
এলাকায় কাউকে সন্দেহ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিতে বলা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে আলম (৩৫) নামে এক যুবককে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে আলম (৩৫) নামে এক যুবককে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভোরে সদর উপজেলার পাইকপাড়া দারুল কুরআন কওমি মাদরাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আলম পৌর এলাকার গয়লা বটতলা মহল্লার আব্দুর রহিমের ছেলে।
সদর থানার ওসি আবু দাউদ জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আলম নামে ওই যুবক মাদরাসার জানালা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিল। এসময় শিক্ষার্থীরা হঠাৎ তাকে দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে। এসময় গ্রামবাসী ও ছাত্ররা এসে ওই যুবককে আটক করে গণধোলাই দেয়। এ অবস্থায় মাদরাসার অধ্যক্ষ থানায় খবর দেন। এরপর আহত যুবক আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, পাইকপাড়া গ্রামের আয়নাল হক, মোকলেছুর রহমান ও আব্দুল আওয়াল নামে চারজনকে থানায় আনা হয়েছে।
আলমের গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি মাদকাসক্ত।

বগুড়ার গাবতলীতে ছেলেধরা সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনগণ চার ব্যক্তিকে আটক করে মারপিট করেছেন।
বগুড়ার গাবতলীতে ছেলেধরা সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনগণ চার ব্যক্তিকে আটক করে মারপিট করেছেন।

বগুড়া: বগুড়ার গাবতলীতে ছেলেধরা সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনগণ চার ব্যক্তিকে আটক করে মারপিট করেছেন। এ সময় তাদের পিকআপ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।তারা ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। পুলিশ তাদের থানায় আনার চেষ্টা করলে হাজার হাজার মানুষ পুলিশের ওপর চড়াও হন।
ওই চারজনকে তাদের হাতে তুলে দেবার দাবিতে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ৪-৫ জন পুলিশ আহত হয়েছেন।পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে প্রায় চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের নিয়ে থানায় ফিরে আসে।এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় ১০-১২ উসকানিদাতাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
ছেলেধরা সন্দেহ আটকরা হলেন বগুড়ার গাবতলীর উপজেলার মহিষাবান কর্ণিপাড়ার হযরত আলীর ছেলে ফাইম (২৪), ধুনট উপজেলার জোড়শিমুল গ্রামের নজীর হোসেনের দুই ছেলে দুলাল (২২) ও নিয়ামুল (৩৬) এবং পারধুনট মধ্যপাড়ার আবদুর রশিদ আকন্দের ছেলে লুৎফর রহমান (৩৫)।
গাবতলীর দূর্গাহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকাল ৩টার দিকে চার ব্যক্তি একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে দূর্গাহাটা হাটের কাছে আসে। আশপাশে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। তারা ভ্যান থেকে নামলে স্থানীয় জনগণ তাদের ছেলেধরা সন্দেহ করেন।
একপর্যায়ে মারপিট শুরু করলে ওরা দৌড়ে পাশের দূর্গাহাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।
ঘটনাটি প্রচার হলে পাশের হাট থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। তারা প্রথমে ওই ব্যক্তিদের আনা পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
খবর পেয়ে গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে থানার ওসি সেলিম হোসেন ও কয়েকজন ফোর্স ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আটক চার ব্যক্তিকে থানায় আনার চেষ্টা করলে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তাদেরকে জনগণের হাতে তুলে দেবার দাবি তোলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও পুলিশ সেখানে আনা হয়। জনগণ বিক্ষোভ প্রদর্শন ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন। তখন পুলিশও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
পুলিশ সেখান থেকে উসকানিদাতা সন্দেহে ১০-১২ জনকে আটক করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে জনগণ কিছুটা শান্ত হলে পুলিশ ছেলেধরা সন্দেহে হামলার শিকার ফাহিম, দুলাল, নিয়ামুল ও লুৎফর রহমানকে গাবতলী থানায় নিয়ে আসে।
সাবেক চেয়ারম্যান হান্নান আরও জানান, ওই চার ব্যক্তি কাঁঠাল ব্যবসায়ী। তারা কাঁঠাল কেনার জন্য দুর্গাহাটা হাটে এসেছিলেন।
বগুড়ার গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছেলেধরা সন্দেহে জনগণ চার ব্যক্তিকে আটক করেছিলেন। তারা ইউপি পরিষদে আশ্রয় নেয়। জনগণ তাদের পিকআপ ভ্যান পুড়ে দিয়েছেন। উদ্ধার করতে গেলে জনগণ ওদেরকে তাদের হাতে তুলে দেবার দাবি করেন। তারা পুলিশের কাজে বাধা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে তাদের ৪-৫ জন পুলিশ আহত হন।
এ ঘটনায় উসকানি দেয়ায় ১০-১২ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রায় ৪ ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে থানায় ফিরে আসেন।
তিনি আরও জানান, ছেলেধরা সন্দেহে আটক ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া আটকদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ায় মামলা হবে।
গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খান রবিন জানান, ছেলেধরা সন্দেহে জনগণ চার ব্যক্তিকে আটক করেন। তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হাটের দিন হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ সেখানে আসেন। তিনি আরও বলেন, এটা সাবোটাজও হতে পারে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close