অর্থ ও বাণিজ্যমহানগরশিরোনাম-২

সিল্কসিটি রাজশাহীর এবারের ঈদ আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেশমনগরী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর সপুরা। এখানকার রেশমের কদর  দেশ-বিদেশ জুড়ে। বিগত কয়েক বছর ধরে সিল্ক পণ্যের কদর যেন বেড়ে গেছে কয়েক গুন। ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট হতে চলেছে রাজশাহীর সিল্ক পল্লী। প্রতিবারের মত এবারও সিল্ক গুলোতে রয়েছে নানা রকম আয়োজন। ঈদে এমনিতেই সিল্কের তৈরী পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে প্রতি বছর নতুন নতুন নকশায় ও বাহারি রঙে তৈরি করেন সিল্কের কাপড় । বসান পুঁথি ও চুমকি। কাপড়ের বুনন, রঙ লাগানো আর হাতের কাজকে ঘিরে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠে সমগ্র সিল্ক পল্লী। সপুরা ঘুরে জানা গেল  প্রায় ১২/১৪ হাজার নারী রাজশাহী অঞ্চলে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। ঈদকে সামনে রেখে তারা এখন ব্যাস্ত কাজের অর্ডার নিয়ে সুঁই সুতোর ফোঁড়নে আঁকছেন নতুন ডিজাইন। বিশেষ করে সব ঋতুতে পড়ার উপযোগী করে সিল্কের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শোরুম গুলো সেজেছে বাহারি সাজে।  এখানকার বেশিরভাগই সিল্ক ফ্যাক্টরি গুলোর রাজশাহী , ঢাকা ,কোনটার আবার চট্টগ্রামেও বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে । এসব নিজস্ব ফ্যাক্টরির সিল্ক পন্য ,নিজেদের বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথা্ও বিক্রি হয় না। বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এসে পোশাক কিনে নিয়ে যান । অনেকে পাইকারিভাবে অনেক পণ্য কিনে বিদেশে্ও পাঠান। ঈদকে ঘিরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় শাড়ি আসায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সিল্ক শিল্পে প্রথম সারিতে থাকা রাজশাহী সিল্ক ঘুরে জানা যায়,রেশমের কারখানা এক সময় শুধু শাড়ি ভিত্তিক ছিল। কিন্তু নারীদের মধ্যে শাড়ি পড়ার প্রচলন কমে যাওয়ায় এখন থ্রিপিচ তৈরি করতে হচ্ছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর আধুনিক ও নতুন নতুন ডিজাইনের থ্রি পিস, ওড়না, হিজাব, পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া তৈরি করা হয়। এবার ঈদ উপলক্ষে ক্রেতা সাধারণের জন্য থাকছে বাড়তি আকর্ষন। এবার রাজশাহী সিল্ক ,প্রিন্ট, স্ট্রাইপ ও নানান ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও শাড়ি তৈরি করেছে। এছাড়া সফট সিল্ক, বলাকা সিল্ক, ধুপিয়ান, কাতান সিল্ক এন্ডি সিল্ক সহ থাকছে মটকা ও কটন কাপড়ের তৈরী নানা রকম পোষাক। রাজশাহী সিল্কের তৈরী সুতি পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে ১৮০০ থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে। সিল্ক পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৩২০০ টাকায়। সিল্কের তৈরী শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে ১০৫০ টাকার মধ্যে। রাজশাহী সিল্কের তৈরী শাড়ি গুলো কিনতে হলে গুনতে হবে ১৮৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা। ঈদকে সামনে রেখে সকল পোশাকের ওপরে থাকছে ১০% ছাড়। রাজশাহী সিল্ক শোরুমের সুপার ভাইজার মোহাম্মদ নোবেল, বরেন্দ্র বার্তাকে বলেন ইতিমধ্যেই তাদের বেচা-কেনা শুরু হয়ে গেছে তবে আরও জমজমাট হবে দশই রমজানের পর।

বিসিক এলাকার আরেক প্রতিষ্ঠান উষা সিল্কে পাওয়া যাচ্ছে সিল্কের তৈরী শাড়ী, থ্রিপিস্, পাঞ্জাবী, শার্ট, হ্যান্ড ব্যাগ, পার্টস ব্যাগ, এবং টাই। উষা সিল্কে শাড়ী পাওয়া যাচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে। পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে ৯০০ থেকে ৪৫০০ টাকায়। থ্রিপিস্ পাওয়া যাচ্ছে ২০০০ থেকে ৪৫০০ টাকাট মধ্যে। ঈদ উপলক্ষে উষা সিল্ক রেখেছে ১৫% ফ্যামিলি’ উষা সিল্কের জেনারেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম জহুর বলেন প্রতিবারের তুলনায় এবার সব কাপড়ের মুল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারন জানতে চাইলে তিনি সুতার দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিকে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পাওয়াকে দায়ি করেন।

বরেন্দ্র বার্তা/নাসি/মেহা/অপস

Close