নাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

প্রফেসর সিরাজুল হকের চিন্তা চেতনা

হুমায়ূন সিরাজ

নন্দনতত্ত্ব ড. খোন্দকার সিরাজুল হকের প্রধান সাহিত্য ভাবনা। তিনি মনে করতেন রূপক অর্থ সাহিত্যের সংজ্ঞাকে প্রতিফলিত করে। তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ সমাজচিন্তা ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে যে গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন করেছিলেন প্রকৃত অর্থে সেটি ছিল ভাষা উৎপত্তির সংগঠন। তাঁরা যে সাহিত্য তত্ত্বের আলোচনা করেছিলেন তা ছিল মূলত ভাষার মুক্তি,শিক্ষা ব্যবস্থা, দেশাত্ববোধ, অর্থনৈতিক অবস্থা, র্ধমের প্রকৃত ব্যাখ্যা, ললিত কলার চর্চার মাধ্যমে বাঙ্গালি সংস্কৃতিক যে প্রতিফলন প্রতিসরণের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও স্থাপত্বের মূল মন্ত্রের আলোচনা। মানুষ যখন “বৃদ্ধি মুক্তি”এই আইডিয়া নিয়ে বিশ্লেষণ করে তখন পাশাপাশি মুক্তির উপায় সম্পর্কে নিয়ামক দান করে। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে শিখা গোষ্ঠীর ভুমিকার কথা বলা হয়েছে তা ছিল মূলত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার মূল কেন্দ্র। জ্ঞানের আলোচনা করতে প্রথমে যে সাহিত্যের স্বরূপের বিশ্লেষণ তা বড়ই হৃদয়গ্রাহী। দ্বিতীয়ত সাহিত্যর নিয়ামকের মাধ্যমে যে মৌলিক সাহিত্য রচনার উদ্ভবতা বড়ই আনন্দদায়ক । তৃতীয়ত একজন সাহিত্যিককে পূর্ণভাবে বুঝতে যে আলোচনা তা কবিতা,গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধে জীবনী বক্তৃতায় বুদ্ধির মাধ্যমে প্রকাশিত। চতুর্থত ভাষার যে প্রতিষ্ঠা তা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জন করে পূর্ণতা । পঞ্চমত স্বাধীনতার যে স্বপ্ন তা একাত্তরে স্বাধীনতার লড়াইয়ের মাধ্যমে পূরণ হয় স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ষষ্ঠত বিজেতা বাংলাদেশে গবেষণার মাধ্যমে সাহিত্য সৃষ্টির উদ্ভব জীবনে প্রতি সময়ে জনগনের বৃদ্ধির মুক্তি। সপ্তমত নতুন নতুন আইডিয়ার মাধ্যমে সাহিত্য উদ্ভবে বাংলাদেশ সমৃদ্ধশীলদেশ হিসাবে গড়ে উঠছে এবং উচ্চ শিক্ষার দর্শনের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি মনে করতেন,হৃদয়ের প্রাচুর্য থেকে নব নব সৃষ্টির বিকাশ ঘটে। আর এই হৃদয়ের প্রাচুর্য থেকে সাহিত্য,চিত্র,সঙ্গীত প্রভৃতি লাভ করতে হয়। এজন্য একজন শিল্পীর স্বাধীনতা প্রয়োজন। পুরাতন জীর্নতা দূর হয়ে যাক আধুনিক এবং শিখার সংস্পর্শে এসে বলবান,স্বাধীন, প্রাণময় হয়ে উঠুক। তাই সমাজের গৃহে আনন্দের ফোয়ারা ও প্রত্যেক কাজে তেজ ও উৎসাহের প্রকাশ ঘটুক। আর এর মধ্যে দিয়ে মন সরস ও সচেতন হয়ে উঠুক। যে সমাজে আনন্দের রস আছে সেখানেই প্রতিভার জন্ম হয়। যাদের আনন্দ আছে তারাই জীবন্ত। আর তাই জীবনকে সার্থক,সুন্দর, উপভোগ ও আনন্দ রসে অভিষিক্ত করতে প্রতিভার জন্ম দিতে হবে এবং জগতে ধন্য ও বরেণ্য হতে হবে। আনন্দ ও ললিতকলা পরস্পর নির্ভরশীল। তাই সমাজ আনন্দময় পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে ললিত কলার চর্চা করতে হয়। সঙ্গীতাদি ললিতকলার চর্চায় আনন্দ পাওয়া যায়। আর একজন শিল্পীর স্বাধীনতা বৃহত্তর মনবৃদ্ধি থেকে উপলব্ধি করতে হয়। একটি কাঠামোয় মধ্যে দার্শনিক ও সামাজিক আবেদন গড়ে তুলতে হয়। এজন্য একজন সাহিত্যিকের সাহিত্য চর্চা, চিত্রকারের চিত্রাংকন সঙ্গীত রচয়িতার জন্য সঙ্গীতের অনুরাগি হয়ে তাকে সময় ও শ্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হয়। তিনি আরো মনে করেন, কথা কাহিনীর সামাজিক যুক্তির সমন্বয়, যা বাস্তব ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সৃষ্টি করতে হয়। সুরুচিসম্পন্ন শৈল্পিক জ্ঞানের মাধ্যমে বাস্তবিক লক্ষ্যের সমন্বয় সঙ্কল্প ও ইন্দ্রিয়গোচর বস্তুর মাধ্যমে কর্মটি ধারন ও গঠন সম্মর্কের শিল্পের কাজটি দক্ষতার সাথে সমাধান করতে হয়। ভাবাদর্শগত উন্নতির শর্ত দ্বারা কাজটির সমন্বয় মূলনীতির দ্বারা এবং শ্রেণী দর্শনগত, ভাবাদর্শগত, নন্দনতত্ত্বের দিক নিদের্শনা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করতে হয়। ঐতিহাসিক বস্তুগত সামাজিক শর্তের দ্বারা নান্দনিক সৃষ্টি নির্ধারণের মাধ্যমে শিল্পীর স্বাধীনতা সৃষ্টি করতে হয়। এই জীবনী চর্চার মাধ্যমে জীবনের সর্ব্ব প্রকার প্রকৃতি,গুণ ও শক্তিতে সুস্থ ও পুষ্ট করে তুলতে হয়। সঙ্গীত,চিত্রাঙ্কন ও অভিনয় প্রভৃতি আর্ট চর্চায় মানসিক বৃত্তি বিকশিত হয় এবং মানুষের শক্তি সঞ্চিত ও বর্ধিত হয়। শিল্পীর স্বাধীনতার মাধ্যে দিয়েই নামজাদা গায়ক চিত্রকর বা শিল্পী জন্ম গ্রহণ করতে পারে। সঙ্গীত , ললিতকলা ও কাব্যচর্চায় মনোনিবেশ করে শক্তিমান হয়ে জীবনরে পূর্ণ আস্বাদ লাভ করে দীপ্ততেজে অগ্রগতি লাভ করতে হয়। প্রফেসর সিরাজুল হকের চিন্তা চেতনা
তাঁর নন্দনতন্তের উপর লেখা প্রবন্ধগুলো নিম্নে তুলে ধরে ব্যপারটি পরিষ্কার করতে চাই। বৈশাখ ১৩৭১ সালে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্র সাহিত্যে মানবতা। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের সমাজচিন্তা,সাহিত্য সংকলন পঁচিশে বৈশাখ। বৈশাখ ১৩৮৫,সাহিত্য সংকলন, রবীন্দ্রনাথ: তাঁর ব্যক্তিগত রচনা ঝড়ের মধ্যে বসবাস। বিভাগীয় কমিশনার অফিস, রাজশাহী ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আয়োজনে রাজশাহী সংস্কৃতি উৎসব মুক্তির জন্য সংস্কৃতি শিরোনামে জেগে ওঠ রাজশাহী স্মারক গ্রন্থে বরীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ: সার্বশত জন্মবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রবন্ধটি লিখিত হয়েছে। সপ্তর্ষি সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র প্রকাশিত, জোতিতে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু ভাবনা। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত উত্তরাধিকারে রবীন্দ্রনাথের ধর্ম জিজ্ঞাসা। আয়োজনে বিভাগীয় কমিশনার অফিস,রাজশাহী ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ : বাঙালির আত্মশক্তির উৎস। রাজশাহী এসোসিয়েশন থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ। দি বেঙ্গল প্রেস থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি : শর্তবর্ষের অবলোকন।
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত লেখক অভিধান থেকে তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:
খোন্দকার সিরাজুল হক। পিতা : খোন্দকার নূরুল হক। জন্মস্থান ও জন্ম তারিখ : রাজশাহী, ১ মার্চ ১৯৪১। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : কুমার পাড়া, ঘোড়ামারা, রাজশাহী ৬১০০। শিক্ষা : মাধ্যমিক : রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (১৯৫৬): উচ্চ মাধ্যমিক : রাজশাহী কলেজ (১৯৬০) ; স্নাতক সম্মান ( বাংলা) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ( ১৯৬৩) ; স্নাতকোত্তর (বাংলা) ; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ( ১৯৬৪)। পি.এইচ.ডি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ( ১৯৮২) ; অভিসন্দর্ভ : মুসলিম সাহিত্যসমাজ : সমাজচিন্তা ও সাহিত্যকর্ম। পেশা : অধ্যাপনা। প্রফেসর,বাংলা বিভাগ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত গ্রন্থ : গবেষনা : মুসলিম সাহিত্য সমাজ: সমাজচিন্তা ও সাহিত্যকর্ম ( ১৯৮৪) । জীবনী : মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী ( ১৯৭০) : কাজী আবদুল ওদুদ ( ১৯৮৭) ; ডাক্তার লুৎফর রহমান ( ১৯৯৬) সম্পাদনা : দীনবন্ধু মিত্রের নীল দর্পন ( ১৯৭৫) ;কাজী আবদুল ওদুদ রচনাবলী ৪র্থ খন্ড- ১৯৯৩,৫ম খন্ড- ১৯৯৪, ৬ষ্ট খন্ড- ১৯৯৫।
তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ এবং সাহিত্য ও গবেষনা কর্মে অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি পরিচালিত সা’দত আলী আখন্দ পুরুষ্কার (২০১১) ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরুষ্কার ( ২০১২)।
পরিশেষে American Biographical Institute, Inc. ABI থেকে C.A. Mitchell Editor- in- chief এর চিঠির শেষাংশ বর্ণনা করে শেষ করছি।
I respect your position as a consulting Editor for our upcoming publication. The International Directory of Experts and Expertise and would like to continue my correspondence with you. I thank you for taking time out of your busy schedule to assist us. We are extremely grateful for nomination received all year round, not just during a campaign. My best regards to you.

Close