ট্রাভেল ও ট্যুরিজমনওগাঁশিরোনাম-২

বদলগাছীতে সৌন্দর্য আর শুভ্রতা নিয়ে হাজির আলেক বাবুর‘পদ্ম পুকুর!

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে সৌন্দর্য আর শুভ্রতা নিয়ে হাজির আলেক বাবুর‘পদ্ম পুকুর!
উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্র দ্বীপগঞ্জ বাজার। বাজারের মসজিদ মার্কেট এর পাশেই এই অপরুপ সুন্দর আলেক বাবুর পদ্ম পুকুর। পুকুরটিতে তার ভাইয়ের ও অংশ আছে কিন্তু তার পরও পুকুরটিকে ঘিরে তার রয়েছে নানান স্বপ্ন।
ফুলের রানী পদ্ম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় বলেছিলেন ১০৮টি নীল পদ্মের কথা! নীল নয়, তবে গোলাপী পদ্মে ঢাকা পুকুরে দেখা কিন্তু পাবেন! প্রিয়াকে দেওয়া কথামতো ১০৮টি কেন, পারবেন অগুনতি পদ্ম তুলে দিতে তার হাতে।
অপূর্ব সুন্দর এই পুকুর দেখতে আসতে হবে বদলগাছী উপজেলা শহর থেকে ১২কি,মি দূরে ঐতিহাসিক হলুদ বিহার খ্যাত দ্বীপগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পূর্ব কর্ণারে নাজু ট্রি-স্টলের পিছনে এই নয়ানীভিরাম চোখ জুড়ানো, মনভরানো অপরুপ সৌন্দর্যের আলেক বাবুর পদ্মপুকুরটি অবস্থিত।
দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পাতা। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া জলজ ফুলের রানী এই পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বীপগঞ্জের চিত্র।
মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে দর্শনার্থীরা!
পদ্ম পুকুরটি দূর থেকে হাতছানি দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করছে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। পদ্মফুলের সৌন্দর্য এবং পাখিদের বিচরণ দর্শনার্থীদের মনকে কাছে টানে।
গ্রাম-বাংলার যেখানেই পুকুর, খাল-বিল রয়েছে সেখানেই দেখা মিলবে অপরূপ এই ফুলটির।
তেমনি দ্বীপগঞ্জের পদ্মপুকুরে ফুটে থাকা এই পদ্ম তৃষ্ণা মেটাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। বিস্তৃর্ণ জলাভূমি। চারদিকে লতা-গুল্ম কোথাও কচুরিপানা। এরই মাঝে ভেসে রয়েছে অগণিত পদ্ম।
স্নিগ্ধ তার রং আর আকাশে মেঘের ভেলা এই দুইয়ে মিলে যেন একাকার প্রকৃতি। বর্ষার পর শরতেও উপজেলার পুকুর বিলগুলোয় এখন পদ্মের সমাহার চোখে পড়ারমত।
কোথাও ফুটেছে কোথাও আবার ফোঁটার অপেক্ষা। পদ্ম ফুলের পাতায় জমে থাকা পানিটিও রঙিন করে মানুষের মনকে।
বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপি রঙের পদ্ম দেখলে মন ও জুড়িয়ে যায়। চোখ যত দূর যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে।
এ এলাকার পুকুর ও জলাশয় বিলগুলোতে ফোটা পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই আসছে নানান পেশার মানুষ। শরতের ফুল হলেও বদলগাছীতে বর্ষাতেই তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক নিয়ে হাজির হয় ‘পদ্ম’।
প্রকৃতিতে নিজের রূপ বৈচিত্র অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে জলাভূমি ও বিলেঝিলে ফুটে থাকা এ জলজ ফুলের রানী। পদ্ম ফুলের উপস্থিতিতে যেন প্রাণ ফিরেছে গ্রামের শিশুদের উচ্ছল মাখা শৈশবে।
জলের উপর বিছানো সবুজ পাতা ভেদ করে হেসে ওঠে লাল-সাদা হাজারো পদ্ম। জলাভূমি ও বিলে-ঝিলে ফুটে থাকা পদ্মফুল যেকোনো মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে অন্যরকম এক অনুভূতি।
ভাসমান একেকটি পদ্মের রূপশোভা অভিভূত করে যেকোনো বয়সকে। ছবির মতো সাজানো, হৃদয়কাড়া দৃশ্য আটকে রাখতে পারে না দুরন্ত শৈশবকে।
বিলে-ঝিলে সবুজ প্রান্তর আর পদ্ম ফুলের সৌরভ বিমোহিত করে মনকে। এখানে এলে বাতাসেও ছুঁয়ে যায় ফুলের ঘ্রাণ। নয়নাভিরাম এমন দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে ডেকে আনে একটু প্রশান্তি আর কারো কারো জীবনে পদ্ম নিয়ে জড়িয়ে আছে কতই না স্মৃতি।
কেবল পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে নয়, ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ এই পদ্ম সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে আমরা এর যে কাণ্ডটি আছে সেটাকে যদি এনে পুকুরে লাগাই তাহলে এখান থেকে প্রচুর উৎপাদন করা সম্ভব।
লালপদ্ম বা রক্তপদ্ম, শ্বেতপদ্ম কিংবা নীল পদ্ম চোখে পড়ে প্রকৃতির রূপ তবে আগের মতে পানির প্রাচুর্যতা না থাকায় দিনের পর দিন জৌলুস হারিয়ে ফেলছে বদলগাছীর বিলঝিলগুলো।
তাইতো আগের মতো আর পদ্ম কিংবা শাপলার সৌন্দর্য চোখে পড়ে না। মাঝেমধ্যে পদ্ম কাটার সাথে যুদ্ধ করে পদ্মফুল সংগ্রহের এমন চিত্র সত্যিই মুগ্ধ করে। সারা বছর পানি থাকে এমন জায়গায় পদ্ম ভাল জন্মে।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, বর্ষা মৌসুমে এলাকার কিছু পুকুর,জলাশয় ওবিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল এদিকে যেমন পুকুর বিলেরও জলাশয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।
তিনি বলেন পুকুরে পদ্ম চাষ করে লোকজন ফুল বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন । বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close