শিরোনাম-২সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে ‘রাজাবাবু’র দাম ১৫ লাখ টাকা

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: ৪৫ মণ ওজনের ‘রাজাবাবু’ কোরবানির পশুর হাটে তুলবেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা গ্রামের মানিক বেপারি।
তার গরুর খামারে এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ২২টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন বছর বয়সী ষাঁড় ‘রাজাবাবুর’ ওজন হয়েছে ৪৫ মণ। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।
মৃত মোকছেদ বেপারির ছেলে মানিক বেপারি জানান, গরুটি ঈদের এক সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কোরবানির পশুর হাটে তোলা হবে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ষাঁড় গরুটিকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ মানিক বেপারির বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন।
এ ভিড় সামাল দিতে মানিক বেপারি জনপ্রতি সাত হাজার টাকা বেতনে দুজন পাহারাদার ও পরিচর্চাকারী নিয়োগ করেছেন।
এদের মধ্যে রতন সরকার জানান, প্রতিদিন ভিড় সামলাতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। ‘রাজাবাবুকে’ স্পেশাল কেয়ার নেয়া হয়। কারণ এর ওজন ও আকার অন্য গরুর চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি। তাই একে সম্পূর্ণ সুষম খাদ্য যেমন, কাঁচা ঘাস, তিল ও সরিষার খইল, ছোলা, গম ও ভুট্টার ভুসি, ভাতের মার ও ভালো মানের খড় খাওয়ানো হয়।
প্রতিদিন সাবান ও শ্যাম্পো দিয়ে গোসল করানো হয়। উন্নত পরিবেশে একে রাখা হয়।
রাতে মশা তাড়াতে কয়েল জ্বালানো হয়। এ ছাড়াও তাকে রাতে মশারির মধ্যে রাখা হয়। যাতে কোনো রকম রোগজীবাণু তাকে আক্রমণ করতে না পারে।
‘রাজাবাবুকে’ দেখতে আশা গালা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের শাকিল রানা জানায়, সে জামিরতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্কুলে এসে ‘রাজাবাবুর’ কথা শুনে টিফিনের সময় দেখতে এসেছি। সে এর আগে এত বড় ষাঁড় গরু আগে কখনও দেখেনি।
একই ইউনিয়নের বাশুরিয়া গ্রামের নাহিদ আলম একই কথা জানাল।
একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল ইসলাম সুমন, আশিকুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম অরণ্য জানায়, তাদের এলাকার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় আকারের ষাঁড় গরু। তাই প্রায় প্রতিদিনই টিফিনের ফাঁকে গরুটিকে একনজর তারা দেখতে আসে।
তারা আরও জানায়, তাদের স্কুলের অনেক ছাত্রই আসে এ ষাঁড় গরুটিকে দেখতে। জামিরতা গ্রামের আছিয়া খাতুন, ময়না খাতুন, আদুরি বেগম জানান, এটি একটি ছোটখাটো হাতির মতো। এর আগে আর এত বড় ষাঁড় গরু চোখে দেখিনি। তাই কাজের ফাঁকে সময় পেলে গরুটিকে দেখতে আসি। যত দেখি ততই ভালো লাগে।
এ বিষয়ে গরুর মালিক মানিক বেপারি বলেন, প্রতি বছর কোরবানির হাটে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৪০-৪৫টি করে ষাঁড় গরু বিক্রি করি। এগুলোর দাম ২, আড়াই লাখ থেকে ৪, সাড়ে ৪ লাখের মধ্যে থাকে। এবারই প্রথম ৪৫ মণ ওজনের রাজাবাবুকে ফতুল্লার হাটে তুলতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাড়ির ওপর এসে একাধিক ক্রেতা ১০ লাখ টাকা দাম বলেছে। কিন্তু আমি সর্বশেষ ১৫ লাখ টাকা বলে দিয়েছি। যদি এ দামে কেউ আগ্রহী হয়, তা হলে এখানেই বিক্রি করব। তা না হলে ঈদের এক সপ্তাহ আগে ফতুল্লার কোরবানির হাটে নিয়ে যাব।
সেখানে এ দামে আমার পরিচিত অনেক ক্রেতা রয়েছে। আশা করি এ দামে বিক্রি করতে পারব।
এত বড় বিশাল ষাঁড় গরুটিকে কীভাবে ফতুল্লার হাটে নেবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌপথে নেয়া হবে। এরই মধ্যে ৩৫ হাজার টাকায় বড় আকারের ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা ভাড়া করেছি। সেটাতে করেই নিয়ে যাওয়া হবে।
মানিক বেপারির মেজ ছেলে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র শাওন আহমেদ জানায়, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই সে সার্বক্ষণিকভাবে রাজাবাবুর কাছেই থাকে। এটি তার খুব প্রিয়। সে গরুটিকে খুব ভালোবাসে। নিজ হাতে খড় ও ঘাস খাওয়ায়। গরুটিও তাকে খুব পছন্দ করে। সে কাছে গেলে গুতোয় না। খুব শান্তভাবে তার কাছে থাকে। গলা এগিয়ে দেয়।
মানিক বেপারির স্ত্রী বিলকিস পারভীন বলেন, গরুটি যেন আমাদের পরিবারের একজন। সে আমার সন্তানের মতোই আদরে বেড়ে উঠেছে। বিক্রি করতে মন চায় না। কিন্তু এত বড় ভারী গরু রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর যত্ন ও পরিচর্চায় দুজন লোক লাগে।
তাদের সার্বক্ষণিক ওর পেছনে কাজ করতে হয়। এতে ওর পেছনে খরচও বেড়ে গেছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার বিক্রি করে দেব। এ জন্যই আগামী এক সপ্তাহ পর একে ফতুল্লার হাটে নেয়া হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close