নাগরিক মতামতস্বাস্থ্য বার্তা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক ভাবনা

মুক্তি সোম

যাদের আঙ্গুলের নখ দেখলেই বলে দেওয়া যায় তাদের নিজেদের ঘরের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব অর্পিত আছে জরিনা, কুলসুম, মর্জিনা কিংবা মরিয়মদের উপর, তারাই কিনা নেমেছে ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কার করতে। পারেও বটে !!!!! লজ্জা-শরম বিসর্জন দিয়ে এসব করতেও সাহস লাগে। এসব করে মাননীয় PM এর আদেশ বা নির্দেশ পালন করা হচ্ছে নাকি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ বিষয় নিয়ে হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে উনাকেই ছোট করা হচ্ছে ?!!!
যখন খোদ মেয়রদ্বয় স্বীকার করেছেন মশা নিধনে ঔষধ কার্যকরী না তখন ফগারিং করে মিথ্যা ধোঁয়া তোলা কেনো ? মশার সাথে মশকরা ভুলেও তেমনটি করবেননা, কারন মশা গরিব-বড়লোক বোঝে না, বোঝেনা VIP -নগন্য। এডিশ মশার তো আবার বড়লোকদের বাড়ি-ঘর, আঙ্গিনাই বেশী পছন্দ। আপনাদের টাকা আছে, আছে Power চিকিৎসা সেবা আপনার দোরগোড়ায় সেটা আলাদা বিষয়। এখন কিন্ত উপরের সারির মানুষও মরছে !! সাধারণ মানুষ কিন্তু সব বুঝে আজকাল (কোন,কোন ক্ষেত্রে আবার বেশীও বোঝে )। তাই নিজেকে হাস্যকর না করে, সত্যিই যদি কিছু করতে চান, এমন একটা পরিস্থিতিতে কিছু একটা করা উচিৎ বলে বিবেক তাড়া দেয় তাহলে নিচের কাজগুলো করতে পারেন—–
১/ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ক্রিটিক্যাল রুগীদের জন্য রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে প্রতিদিন , বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত জোগাড় করে তাদেরকে সরবরাহ করুন (কোথায়,কোথায় দরকার জানতে চাইলে আমি সাহায্য করতে পারবো আশাকরি )
২/ রাস্তায়, রাস্তায় ফটোশেসন না করে কর্মক্ষম, উপযুক্ত মানুষদের নিয়ে টিম বানিয়ে হাসপাতালে পাঠান। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নার্স সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে রুগীর চাপ সামাল দিতে, তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করুন।
৩/ এমনও অনেক পরিবার আছে যাদের ম্যান পাওয়ারের সমস্যা আবার একই পরিবারের ৩/৪ জন সদস্যও ডেঙ্গি ফিভারে আক্রান্ত তাদের বিভিন্ন দৌড়াদৌড়ির কাজগুলো সমাধা করে তাদের পাশে থাকুন।
৪/ নিজেদের পকেট থেকে কিছু কিছু দিয়ে ফান্ড গঠন করুন এবং দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষ যারা হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে আছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিষ যেমন, মাদুর, বিছানার চাদর, এ্যারোসল, ঔষধ, স্যালাইন, ফলমূল ইত্যাদি দিয়ে তাদের সহযোগিতা করুন।
৫/ মা অসুস্থ থাকলে বাচ্চাদের জন্য বা বাচ্চারা আক্রান্ত হলে মায়ের জন্য মাছ-মাংস-ভাত কিংবা পিৎজা-বার্গার না হোক একটু সব্জি-ডাল-ভাত কিংবা মুড়ি-রুটি-কলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। ক্ষুধা পেটে মানুষ ঠিকমত চিন্তাও করতে পারেনা।
৬/ আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষ সে হোক শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত এমন ছোট ছোট অনেক ভুল করে বসে যেটা থেকেই র্পরবর্তীতে বড় কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এইসব সচেতনতামূলক কাজে যেমন -এসময় কি করবেন বা করবেননা, কোনদিকে যাবেন বা যাবেননা, ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট আসতে দেরী হলে তার তদারকি অথবা লেনদেনে কোন অনিয়ম হচ্ছে কিনা সেটা মনিটরিং করে রোগীদের পাশে থাকাটা একটা বড় উপকার এসময়।
৭/ আর, নোংরা-আর্বজনা মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সারাবছর কাজ করুন। বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট, প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোলা, বোতল, টায়ার সহ যেকোন কিছু, যাতে করে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু ফেলতে দেখলেই শাস্তির (১দিনের জন্য হলেও একেবারে লাল দালানে) আওতায় নিয়ে আনুন সে যেই হোক না কেনো ।
এসব করলেই দেখবেন মশা মারতে আর ঝারু দাগাইতে হবেনা ।

Close