আন্তর্জাতিকছবি ঘরনাগরিক মতামত

লিটল বয়ের’ আঘাত হানার দিন

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: ৬ আগস্ট, বছর ঘুরে আবারও এলো হিরোশিমা দিবস। ভয়াবহ সেই ধ্বংসলীলার ৭৪ বছর আজ। ১৯৪৫ সালে আজকের এই দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম লগ্নে জাপানের হিরোশিমায় এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা চালিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এতে তখন নারী ও শিশুসহ প্রায় কয়েক লাখ নিরীহ বেসামরিকের মৃত্যু হয়। যার রেশ মানুষের মনে রয়ে গেছে এখনো।
পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি অতি জঘন্যতম ও প্রথম কোনো পারমাণবিক হামলা। যা চোখের পলকে উল্লিখিত স্থান দুটিকে পরিণত করে মৃত্যুপুরীতে। এতে নিরীহ, ঘুমন্ত অসহায় নারী, শিশু ও পুরুষের মৃত্যুসহ চিরতরে পঙ্গু হয়েছে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক বেসামরিক।
৬ আগস্ট ১৯৪৫, জাপানের হিরোশিমা শহরে তখন সকাল আটটা বেজে ১৫ মিনিট। অনেক আগে থেকেই নির্মম এই হামলার নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান। যে কারণে মার্কিন বি-টুয়েন্টি নাইন বোমারু বিমান এনোলা গে থেকে হিরোশিমায় ফেলা হয় ‘লিটল বয়’ নামে এক আণবিক বোমা। বোমাটি মাটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়।
এতে মুহূর্তের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যায় বেশিরভাগ স্থাপনা। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় একটি নগরী। সেই পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের মৃত্যু হয়। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বছর শেষে প্রাণ হারান আরও ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।
ভয়াবহ সেই হিরোশিমা হামলার তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামে আরও একটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। যাতে প্রায় ৭৪ হাজার বেসামরিকের মৃত্যু হয়।
যদিও জাপানের আসাহি শিমবুনের এক হিসাবে বলা হয়, অতি শক্তিশালী ও ক্ষতিকর সেই বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে তখন দুই শহরে প্রায় চার লাখের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছিল। যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক।
বিশ্লেষকদের মতে, আণবিক সেই বোমা হামলার এতগুলো বছর শেষেও ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হওয়া সেই শহর দুটিতে এখনো জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু। তাছাড়া ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বহু লোক। দিবসটি উপলক্ষে জাপান সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন প্রতি বছরের মতো এরই মধ্যে নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ দিকে বিশ্ববাসীর কাছে অতি কলঙ্কিত এই দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হবে।
অপর দিকে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এক ভাষণে বলেছেন, ‘জাপানই পারমাণবিক বোমা হামলার শিকার হওয়া একমাত্র দেশ। জাপান নিজেকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত রাখার অবস্থানকে এখনো ধারণ করে আছে। বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত রাখতে জাপান অন্যান্য দেশকে উৎসাহ দিয়ে যাবে।’ বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close