আন্তর্জাতিক

মিনায় ২০ লাখেরও বেশি মুসল্লি, হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যদিয়ে হজ পালন করতে হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। এদের বেশিরভাগই সৌদি আরবের বাইরের নাগরিক। শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাতে মিনায় অবস্থান করবেন হাজিরা। শনিবার (১০ আগস্ট) ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর তারা যাবেন মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানের দিকে। আরাফাতে যাওয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে, হুইল চেয়ারে, বাসে; যে যেভাবে পারেন পৌঁছাবেন। সবার শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকবে। এদিন ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।
শনিবার আরাফাতের ময়দান থেকে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
রবিবার (১১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।
সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি বলেন, এ বছর হজযাত্রীদের ‘কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই ১৮ লাখের বেশি ভিসা অনলাইনে সরবরাহ করা হয়েছে। আমাদের জন্য এটি একটি বড় সফলতা।’
৪০ বছর বয়সী মিশরের হজযাত্রী মোহাম্মাদ জাফর বলেন, ‘ইসলামের এই পবিত্র স্তম্ভ পালনের মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের জীবনের সকল পাপ মোচনের চেষ্টা করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এই সমাবেশ সত্যিই বিস্ময়কর।’
এই প্রথমবারের মতো পবিত্র হজ পালনে আসা ৫০ বছর বয়সী আলজেরীয় এক নাগরিক বলেন, ‘এটি একটি অবর্ণনীয় অনুভূতি। কেবলমাত্র আপনি এটা পালন করলে এই অনুভূতিটা বুঝতে পারবেন।’
তার নারী সঙ্গী বলেন, ‘এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ ও মুহূর্ত।’
সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র বাসাম আতিয়া বলেন, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা ‘মহান আল্লাহ’র অতিথিদের’ সেবা করতে পেরে গর্বিত। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close