চাঁপাই নবাবগঞ্জশিরোনাম-২

চামড়া পাচার রোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিশেষ সতর্কতা

ষ্টাফ রির্পোট: ভারতে কুরবানির চামড়া পাচার ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদের দিন থেকে চামড়া বোঝাই কোনো ট্রাক বা পরিবহন সীমান্ত অভিমুখে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম। সেই সঙ্গে সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে চামড়া চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে তাদেরও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। ঈদের দিন সকাল থেকে পরবর্তী এক মাস এই সতর্কতা জারি থাকবে বলে জনিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিবছর কুরবানির ঈদকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে তৎপর হয়ে উঠে চোরাচালানি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে চামড়ার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় চোরাচালানিরা তা ভারতে পাচারের করার চেষ্টা করে আসছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এবারও দেশে কুরবানির চামড়ার দাম কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ভারতে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে। আর এই সুযোগে আজমতপুর, তেলকুপি, কিরনগঞ্জ, মনোহরপুরসহ এর আশপাশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে তৎপর হয়ে উঠতে পারে চোরাচালানিরা।
স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা ও নাটোরের ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের কাছে তাদের কয়েক কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় অর্থের অভাবে অনেক বৈধ ব্যবসায়ী এবার চামড়া কিনতে পারবেন না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মঞ্জুর হোসেন জানান, এবারও দেশে দাম কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কুরবানির চামড়ার একটি বড় অংশ চোরাচালানি সিন্ডিকিটের হাতে চলে যেতে পারে। তাই চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চামড়া পাচার রোধে এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঈদের দিন সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা। এছাড়া চামড়া পাচারের সম্ভাব্য পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঈদের দিন কুরবানির চামড়া সংগ্রহের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই এর প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শেষ করতে হবে ব্যবসায়ীদের। এরপর ২০ আগস্ট থেকে ২২ আগস্টের মধ্যেই জেলার সব চামড়া ঢাকা ও নাটোরের মোকামগুলোতে পাঠিয়ে দেবেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ঈদের দিন থেকে কেউ চামড়া বোঝাই পরিবহন নিয়ে সীমান্ত অভিমুখে যেতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই সভায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই সীমান্ত অভিমুখে কোনো চামড়া বোঝাই কোনো ট্রাক যেতে দেওয়া হবে না। চামড়া নিয়ে যানবাহনগুলোকে শুধু ঢাকা অভিমুখে যেতে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলার সব থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৌপথের মাধ্যমেও যেন চামড়া পাচার না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চামড়া পাচারের কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশের অভিযান চলবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান খান জানান, চামড়া পাচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তার ব্যাটালিয়নের অধিনস্ত সব সীমান্ত ফাঁড়িকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে, ঈদের দিন সকাল থেকেই সেসব সীমান্তে নজরদারি বাড়াবে বিজিবি। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার কাজও করছেন তারা। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close