মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী

সালমান শাকিল

দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর পরিচয় সাধারণত শিল্প সমৃদ্ধির জন্য। তবে এভাবে সমৃদ্ধ হয়নি রাজশাহী। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে শিল্প-কলকারখানাকে ছাপিয়ে গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাজশাহীকে দিয়েছে জ্ঞান সাধনার অন্যতম আদর্শ মহাস্থান হিসেবে সুখ্যাতি। আর জ্ঞান আহরণের জন্য দেশের অন্য নগরীগুলো থেকে জ্ঞানপিপাসুরা ছুটে এসেছেন এখানে। জ্ঞানার্জনের আদর্শ স্থান হিসেবে যখন সবার কাছে প্রিয় স্থান হতে শুরু করেছে নগরীটি, সেই থেকেই শিক্ষানগরী হিসেবে আজো পরিচিত সবার কাছে।
নগরীতে শিক্ষা সূচনার প্রথম দিকে মাদ্রাসা-মক্তব গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় সে সময় আরবি, ফারসি ও কোরআন-হাদিস শিক্ষা দেয়া হতো। এজন্য মোগল বা স্থানীয় মুসলিম শাসনের প্রভাব ছিল বলে জানা যায়। সুলতানি আমলে বহু শিক্ষিত মুসলমান ও অমুসলমান পণ্ডিত সমাজে শিক্ষা প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বহিরাগতদের পড়াশোনার প্রতি জোর দেন তারা। মুসলিমদের এ শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল মূলত মসজিদকেন্দ্রিক। তাও সীমিত পর্যায়ে। দরগাপাড়ার শাহ মখদুম রুপোস (রহ.)-এর মসজিদ, হেতেম খাঁর ওয়াহাবি মসজিদ-মক্তবে মুসলিম ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হতো।
তবে মুসলিমদের শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও এ এলাকায় সনাতন শ্রেণীরা শিক্ষা থেকে ছিল কিছুটা বঞ্চিত। তাছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই দরিদ্র ছিল বলে স্থানীয় ব্যবস্থাধীনে পাঠশালা, চণ্ডী মণ্ডপ ও গুরুগৃহে শিক্ষা দেয়া হতো।
এছাড়া নাটোরকেন্দ্রিক বেসরকারি উদ্যোগে কিছু ছোট ছোট বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। সেখানে ঢোল, বঙ্গভাষা শিক্ষা দেয়া হতো। বিদ্যালয়গুলোয় অর্থায়ন করতেন সে সময়ের রাজা বা জমিদাররা।
পরবর্তীতে কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যেখানে সম্মিলিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। নুরুল ইসলাম খানের সম্পাদিত বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার বৃহত্তর গ্রন্থে উল্লেখ আছে, কিছু মক্তব ছিল, যেখানে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একই সঙ্গে পড়ালেখা করতে পারতেন। এ-জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাংলা, সংস্কৃত, গণিত ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করা হতো।
নগরীর সপুরা মাদ্রাসা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি হিসাব, ব্যাকরণ প্রভৃতি শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়, যেখানে সনাতন ও মুসলিমরা মিলেমিশে শিক্ষা গ্রহণ করত।
আর আধুনিক বা পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় রূপ লাভ করতে সময় লেগে যায় বহু বছর। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তথা ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্নের ৬০-৭০ বছর পার হওয়ার পর থেকেই গোড়াপত্তন হয় আধুনিক শিক্ষার।
১৯ শতকের শুরুর দিকে নাটোর, দীঘাপাতিয়া, পুঠিয়া, তাহিরপুর, দুবোলহাটি, কাশিমপুরের জমিদাররা রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে আবাসিক কুঠি স্থাপন করতে থাকেন। তখন উপলব্ধি করেন, তাদের ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন। তাই আধুনিক শিক্ষার প্রচলন ঘটে ইংলিশ স্কুল স্থাপনের মাধ্যমে।
এর আগে আধুনিক শিক্ষা উপযোগী স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি বলে জানা যায়।
আনারুল হক আনা রচিত ‘রাজশাহী মহানগরীর কথা’ বই থেকে জানা যায়, উনিশ শতকেই নির্মিত হয় রাজশাহীর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, লোকনাথ উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমি, রাজশাহী সরকারি হাই মাদ্রাসা, মুসলিম হাই স্কুল, রাজশাহী কোর্ট একাডেমি, প্রিপারেটরি স্কুল, নারী শিক্ষার পৃথক প্রতিষ্ঠান, মুসলিম নারী শিক্ষার পৃথক বিদ্যালয় ও রাজশাহী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজশাহী মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রথম দিকে দেশীয় শিক্ষার স্থলে ইংরেজি শিক্ষার প্রতিস্থাপন ও প্রসারে উইলিয়াম বেন্টিংয়ের উত্সাহে এ অঞ্চলে বসবাসরত ইংরেজ আমলা, আইনজীবী ও জমিদাররা ১৮২৮ সালে ‘বউলিয়া ইংলিশ স্কুল’ নামে প্রতিষ্ঠা করেন আধুনিক শিক্ষার প্রথম দিকের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালের দিকে স্কুলটির নামকরণ হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল।
তবে আগে এসব প্রতিষ্ঠান জমিদার বা ধনী-এলিট শ্রেণীর ছেলেমেয়েদের জন্য হওয়ায় এখানে দরিদ্র শ্রেণীদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ছিল না। অর্থের অভাবে শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতো দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা।
তাই দরিদ্র ছেলেদের লেখাপড়ার চিন্তা করেন লোকনাথ মিত্র নামে একজন জমিদার। তারই হাত ধরে গড়ে ওঠে ‘ইংরেজী বাঙলা স্কুল’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ অবৈতনিক এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরবর্তীতে ‘লোকনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।
আধুনিক শিক্ষায় উন্নীত করতে পুরুষের শিক্ষায় বেশ জোর দেয়ার যেমন ব্যবস্থা ছিল, তবে জনসাধারণের আগ্রহ বা প্রচেষ্টা তেমন উন্নত ছিল না নারী শিক্ষায়। তেমনি ভালো শিক্ষার পরিবেশও ছিল না নারীদের জন্য। তাই নারী শিক্ষা প্রসারে জেলা স্কুল কমিটি পুরস্কার ঘোষণা করেন। এছাড়া বিভিন্নভাবে উত্সাহ বাড়াতে থাকেন নারীদের। ফলে নারীদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। বৃদ্ধি পেতে থাকে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ফলে পৃথক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৮৭৩ সালে প্রকাশিত কলকাতা রিভিউয়ের মতে, ১৮৬৮ সালে রাজশাহীতে একটি মেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। তবে মি. হান্টারের মতে, বালিকা বিদ্যালয় ছিল দুটি। একটি খ্রিস্টান মিশনারি দ্বারা পরিচালিত হতো, অন্যটি সরকারি সহযোগিতায়।
অবশ্য পরবর্তীতে বিদ্যালয় দুটির অবস্থান পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়নি বলে রাজশাহী মহানগরীর কথা বইয়ে উল্লেখ আছে। ধারণা করা হয়, রাজশাহী মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পিএন বালিকা বিদ্যালয়ই তখনকার দুটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এদিকে মুসলিম নারী শিক্ষায় পৃথক প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয় বিংশ শতাব্দী শুরুর কিছুকাল পরে; মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুসলিম নারীদের পর্দার বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করতে ধর্মীয় বাধা থাকাসহ নানা অসুবিধার কারণে পিএন বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো নারী শিক্ষার্থীরা। নারীদের শিক্ষার আগ্রহ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বিষয়গুলো এ অঞ্চলের নারী শিক্ষায় বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এরপর ২০ শতকের শুরুর দিকে আরো আধুনিক হয়ে ওঠে রাজশাহীর শিক্ষা ব্যবস্থা। ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী কলেজ। এটা ছিল পূর্ববঙ্গ, উত্তরবঙ্গ, বিহার, পূর্ণিয়া ও আসামের অধিবাসীদের শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।
ধারণাপ্রসূত যে, সে সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল যে, ব্রিটিশ বাংলায় কলকাতার পরই রাজশাহী কলেজের স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো। বলা হয়ে থাকে, শিক্ষানগরী হিসেবে রাজশাহীর গৌরবগাথা ইতিহাস বহন করে চলেছে রাজশাহী কলেজ।
শিক্ষা বিস্তারে স্বাধীন বাংলার এক অন্যতম নিদর্শন এ বিদ্যাপীঠ। কলেজটির জন্ম সম্পর্কে জানা যায়, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে জ্ঞানার্জনের আদর্শ প্রতিষ্ঠানটি জন্ম নিয়েছে ১৮৭৩ সালের ১ এপ্রিল মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে। বউলিয়া ইংলিশ স্কুল তথা রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সঙ্গে এফএ ক্লাস সংযোজন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বীজ বপন করা হয় কলেজটির। সেই বীজ থেকে অঙ্কুর আর এখন বৃহৎ শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট অনুপম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
শিক্ষার প্রথম দিকের পরিবেশ ধরে রাখতে পেরেছে কলেজটি। মাধ্যমিক শিক্ষায় দেশসেরা কলেজ নির্বাচিত হয়েছে।
তবে প্রথম ইন্টারমিডিয়েট পড়ানো হতো রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে। তাই কলেজটি প্রথম সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, পরবর্তীতে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পচর্চা ও প্রসারেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রূপ লাভ করে। এর মধ্যে চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, রাজশাহী আর্ট কলেজ উল্লেখযোগ্য।
১৯৭৮ সালে সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চারুকলাচর্চা শুরু হয় বলে জানা যায়। যদিও পরবর্তীতে চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়টি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে উন্নীত হয়।
এর আগে উচ্চশিক্ষা প্রসারে ১৯৫৩ সালের দিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী নগরীতে ঢোকার মুখেই অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়টির।
প্রতিষ্ঠাকালীন মাত্র সাতটি বিভাগ, ১৬১ জন শিক্ষার্থী ও মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষক নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস। তাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নয়। রাজশাহী কলেজেই শুরু করা হয় ক্লাস।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হওয়ার পর তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই ছিল। কিন্তু রাজশাহী কলেজকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি তোলা হয় তখন। দাবিটি তোলেন স্যার মাইকেল স্যাডলার কমিশনের যুক্তি দিয়ে।
এর আগে ১৯১৭ সালে স্যাডলার কমিশন গঠিত হয় এ অঞ্চলের রাজা-জমিদার-জনসাধারণের প্রয়াসেই। উত্তরবঙ্গের অধিবাসীদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন তারা। আর সেজন্য জায়গা পছন্দে রাজশাহীকেই বেছে নেন তারা।
তবে পূর্ববঙ্গের মানুষ ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তোলেন। তাই ১৯২১ সালে স্থাপিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।
এর প্রায় তিন দশক পর রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে আসেন ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরী। তিনি চেয়েছিলেন রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের। পথটা অনেকখানি সুগম হয় তার প্রচেষ্টায়। কারণ অধ্যাপক জুবেরীর বেশ পরিচিত ছিলেন মুসলিম লীগের নেতারা। এ পথ আরো প্রসারিত হয় মাদার বখশের প্রচেষ্টায়। এজন্য তাকে বলা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়ক।
প্রতিষ্ঠাকালীন ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, অর্থনীতি, গণিত, আইন ও ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন— সাতটি বিভাগ থাকলেও এখন এ বিদ্যাপীঠে নয়টি অনুষদের অধীনে ৫৬টি বিভাগে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন মোট ১ হাজার ২১৬ জন। আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৪৩৭। ১৭টি আবাসিক হলে আসন রয়েছে ৮ হাজার ৭৯৯টি।
কারিগরি বা প্রকৌশলবিদ্যার আরো সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ১৯৬০ সালে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর পরের বছর রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হয়। ২০০৩ সালে কলেজটিকে দেশের অন্য তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সচেতন ব্যক্তিরা জ্ঞান অনুশীলনের জন্য গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করে। ফলে সাধারণ ও বেশ কিছু পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে ওঠে। ভারতবর্ষে এসব গ্রন্থাগারের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় সে সময় অনেক জ্ঞানী-গুণীর এ মহানগরীতে আগমন ঘটত। সাহিত্য সভা ও নানা কৃষ্টিমূলক অনুষ্ঠানের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অগ্রগতির মূলে এসব গ্রন্থাগারের অবদান অনস্বীকার্য।
এর মধ্যে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার অন্যতম। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নগরীর মিয়াপাড়ায় অবস্থিত এ গ্রন্থাগার। রাজা প্রমোদানাথ রায় এ গ্রন্থাগারের স্থায়ী বাড়ির জন্য জায়গা দান করেন।
গ্রন্থাগারটিতে মহাত্মা গান্ধী, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, স্যার আজিজুল হক, প্রমথনাথ, রমা প্রসাদ মুখার্জি, মোহিতলাল মজুমদারসহ খ্যাতনামা ব্যক্তিরা আগমন করে এর গৌরব বৃৃদ্ধি করে।
এছাড়া রাজা ও জমিদাররা তাদের আবাসিক কুঠিতে পারিবারিক গ্রন্থাগারও গড়ে তুলেছিলেন। এগুলোর মধ্যে দয়ারামপুরের জমিদার শরৎ কুমার রায় বাহাদুরের লাইব্রেরি, দীঘাপতিয়ার রাজ লাইব্রেরি, আচার্য যদুনাথ সরকারের লাইব্রেরি উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া শাহ মখদুম ইনস্টিটিউট, বরেন্দ্র গবেষণা লাইব্রেরি, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থালয় রজনীগন্ধা রাজশাহীর অন্যতম গ্রন্থাগার। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

লেখক: সাংবাদিক

Close