মহানগরশিরোনাম

রাজশাহী-ঢাকা ট্রেনের সিডিউলে মহাবিপর্যয়, পশ্চিমাঞ্চল জিএম বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিম রেলের ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয় এখনো কাটেনি, বিকেলের ৪টার পদ্মা ট্রেন যাচ্ছে রাত ১১.১৫ মিনিটে। রাত ১১টার ধুমকেতু ট্রেন যাচ্ছে পরের দিন সকাল ১১টায় এবং সকালের সিল্কসিটি ট্রেন যাচ্ছে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টায়। এতে করে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতেও ট্রেন যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চরম অদক্ষতার কারণেই ঈদের আগে-পরে ট্রেনের এমন সিডিউলের মহাবিপর্যয় ঘটেছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও তদারকি না থাকাসহ একই লাইনে তিনটি বিরতিহীন ট্রেন চালু করার ফলেই এই সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। এরই মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহিদুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে বদলি করা হয়। তবে আরেকটি সূত্র বলছে, শহিদুল ইসলামকে অতিরিক্ত ডিজি করে বদলি করা হয়েছে। আজ তিনি সেই পদে যোগদানও করেছেন ঢাকায়।
বিষয়টি স্বীকার করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রাজশাহীর প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বলেন, ‘এমএম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘একটি মাত্র রেললাইন। কিন্তু এই লাইনেই তিনটি বিরতিহীন ট্রেনছাড়াও সবমিলিয়ে ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন যোগ হয়েছে। এ কারণে লাইনে চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রেন দ্রুতগতিতে চালানোও যাচ্ছে না। এ কারণেও সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে ব্যাপক। যাত্রীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।’
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এই অঞ্চলে দ্রুত ডাবল লাইন চালু করা দরকার। তা না হলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। তবে আগামীতে সিডিউল বিপর্যয়রোধে আমরা ঈদের সময় ঢাকায় একটি করে ট্রেন স্ট্যান্ডবাই রাখবো। যাতে কোনো ট্রেন অতিরিক্ত দেরি করলেই ওই ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে আসতে পারে। আবার অফ ডে বলবত থাকবে। তাহলে এতোটা সঙ্কট হবে না আশা করি।’
রাজশাহী স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, গত রবিবার সকালের সিল্কসিটি ছেড়ে গেছে ওইদিন রাত ১১টার দিকে। আর বিকেলের পদ্মা ছেড়ে গেছে ওইদিন রাত ১০টায়। ওইদিন রাত ১১টা ২০ মিনিটের ধূমকেতু গতকাল সোমবার ভোর টার দিকে ছেড়ে গেছে। আর গতকাল সকালের সিল্কসিটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিকেল চারটার দিকে।বিকেলের পদ্মা ট্রেনটি গতকাল কখন ছেড়ে যাবে তার কোনো হদিশ দিতে পারেননি রেলওয়ে কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েরই একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের মধ্যে ট্রেনের বাড়তি চাপ নতুন নয়। কিন্তু এইরকম সিডিউল বিপর্যয় এর আগে কখনো ঘটেনি। এর আগেও ঈদের সময় সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে প্রতিবার। কিন্তু সেটি ৬-৭ ঘন্টার ওপরে যায়নি। কিন্তু এবার সিডিউল বিপর্যয় ১২ ঘন্টারও বেশি হচ্ছে কখনো কখনো। যা অতিতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চরম অদক্ষতার কারণেই ঈদের আগে-পরে ট্রেনের এমন সিডিউলের মহাবিপর্যয় ঘটেছে। ঈদের সময় ট্রেন চলাচলে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও তদারকি না থাকার কারণেও ঘটেছে সিডিউল বিপর্যয়।
অন্যদিকে গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী স্টেশনের অপেক্ষামাণ (ওয়েটিং রুম) কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুশ, শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের ভীড়ে যেন ধাপ ফেলানোর যায়গা নাই। সবাই অপেক্ষা করছেন যে যার মতো ট্রেনের জন্য। সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা হোসনে আরা নামের এক তরুণী অভিযোগ করে বলেন, ‘আগে ম্যাসেজ দিলে ট্রেন কতক্ষণ দেরি আছে জানা যেত। এখন তাও জানা যাচ্ছে না। ফলে স্টেশনে এসেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যারা রাজশাহী শহরের বাসিন্দা তাদের একটু ভোগান্তি কম হচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা শহরের বাইরের থেকে এসেছি, তাদের ভোগান্তির শেষ নাই। ট্রেন কখন ছাড়বে জানতে না পেরে স্টেশনে এসেই ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার স্টেশনেও বসার মতো তেমন জায়গা নাই। ফলে বাধ্য হয়েই একই কক্ষে গাঁদাগাঁদি করে লোকজন অপেক্ষা করছে।’ বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close