আন্তর্জাতিকনাগরিক মতামতশিরোনাম-২

ধুঁকতে থাকা ফুসফুস

অর্ণব পাল সন্তু

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ জ্বলছে
ক্যালিফোর্নিয়া জ্বলছে
অরেগন জ্বলছে
ওয়াশিংটন জ্বলছে
কলম্বিয়া জ্বলছে
আলবার্টা জ্বলছে
মন্টানা জ্বলছে
নিউ স্কটল্যান্ড জ্বলছে
গ্রীস জ্বলছে
ব্রাজিল জ্বলছে
পর্তুগাল জ্বলছে
আলজেরিয়া জ্বলছে
সাইবেরিয়া জ্বলছে
টেক্সাস জলের নিচে
ভারত, পাকিস্তান এবং নেপাল প্রচুর বর্ষার পানির নিচে রয়েছে, সিয়েরা লিওন এবং নাইজেরিয়া পানির তলে বিশাল বন্যার সাথে, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং সার্বিয়ায় তাপপ্রবাহে আক্রান্ত হয়েছে, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার নারকীয় তাপ বিরাজ করছে।
আগস্টে সান ফ্রান্সিসকো শহরটির তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রি রেকর্ডে পৌঁছেছিল, যখন এখন এটি ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছেছে। উত্তর ক্যারোলিনা এখনও উত্তপ্ত।
ইয়েলোস্টোন আগ্নেয়গিরি জুন থেকে ২,৩০০ চলাচল রেকর্ড করেছে।
হারিকেন হার্ভে, ইরমা, জোস এবং কাটিয়া আটলান্টিককে সাফ করছে আপনি কি এখনও মনে করেন কিছুই হচ্ছে না?
বিগত এক হপ্তা ধরে ছবি দেখছি ফেবুতে, আমাজন জ্বলছে। ফেবু পরেই এখন মোড়ের মাথার চায়ের কাকাও জানে যে আমাজন পৃথিবীর ফুসফুস। আজ সকালে একটু মাতব্বরি দেখিয়ে বলতে গেছিলাম পৃথিবীর অক্সিজেন যোগানের ২০% আসে আমাজন থেকে। হা হা করে কাকু ভুল ধরিয়ে দিলেন ‘আরে না, পাঁচ ভাগের এক ভাগ।’ আমার ও অবশ্য ওই ২০% এর হিসেব ফেবুতেই দেখা। মিম তো হরেক রকম দেখে ফেললাম লাস্ট দুদিনে, লোক নাকি অ্যামাজন নিয়ে বেশি উতসাহিত, আমাজন নিয়ে নয়। মিডিয়া নাকি চার্চে আগুন দেখাতে ব্যস্ত, আমাজনের আগুন নিয়ে নয়। একটা মিম তো দিব্বি দাবি করে বসলো প্রকৃতি বৃষ্টি নামিয়ে দিয়েছে আমাজনে, আর ভয় নেই। এসব ব্যাপারে আমি নিজেও কিন্তু ওই ছেদর দলেই পড়ি। শখের বুদ্ধিজীবী ভাব কিন্তু বুদ্ধির অভাব। ওই সব মঙ্গ পার্ক, লিভিং স্টোনের নাম ছোটবেলার ইতিহাসের বইয়ের সাথে সাথে চানাচুরের ঠোঙা হয়ে গেছে। এটুকুই মনে আছে আমাজন একটা জঙ্গল। আর বেশ বড় সর জঙ্গল, মানে আমাদের ঘরের কাছের সুন্দরবনের থেকে তো বড় হবেই। গ্যারেন্টি দিয়ে এটাও বলছি তার কারণ আমি গেও যোগীকে ভিখ দেই না। ভূগোলের স্যার যদি আমায় প্রশ্ন করেন সুন্দরবন আর আমাজনের পার্থক্য তাহলে সেটাও বলা আমার কম্ম নয়। বড়জোর মুখ ফসকে রয়েল বেঙ্গলের কথা বেরোবে। এই লেখা লিখবার সময় একটু উইকিপিডিয়া খুলতে হঠাৎ ইচ্ছে হল তাই জানলাম আমাজনের সাথে লিভিংস্টোন বা পার্কের সম্বন্ধ নেই কোন, তাহলেই বোঝ। হ্যাঁ হঠাৎ একটা জিনিষ মনে পড়লো, ফেবু থেকেই লিঙ্ক পেয়ে কি একটা লেখা পড়েছিলাম যে সাহারার বালি নাকি উড়ে এসে আমাজনে পরে, তাতেই নাকি আমাজনের সারের কাজ মিটে যায়। কি জানি, হবে হয়তো। আমি বাপু টাকা কামিয়ে আর বিল মিটিয়ে দিব্বি বেঁচে আছি। কোথায় কি জঙ্গল পুড়ল তাতে আমার কি, আমার তো কোনও জঙ্গল জ্বলেনি।

#PRAY_FOR AMAZAN

তা এই মন্দ বুদ্ধি আমারও মাঝে মাঝে মাথার পোকা একটু নড়ে ওঠে। এই যেমন বিগত মাস দুয়েক ধরে পোকা নড়াতে বাড়িতে বেশ কিছু গাছ লাগিয়ে ফেলেছি। আমারও কাল মনটা একটু দুঃখী দুঃখী হয়ে গেছিল, আহারে, অতগুলান গাছ পুড়ে গেল? আজ সকালেই তাই উদ্যোগ নিয়ে রেখেছিলাম একটা গাছের ব্যাবস্থা করবো। অঙ্কে আমি কাঁচা, তাই বেশি তলিয়ে না ভেবেই ধরে নিয়েছিলাম দোকান থেকে গাছ কিনে বাড়িতে এনে লাগালেও গাছের সংখ্যা বাড়ে না। তাই চারা বানানো রপ্ত করার চেষ্টা করেছি বিগত কিছুদিন ধরে। সেই চারা করার জন্যই বড় সর কিছু স্নেক প্ল্যান্টের পাতা কেটে আজ টবে লাগিয়ে ফেললাম। ছবি রইল নিচে। আমি আবার সব কিছু ফেবুতে পোস্টাই, কটা লাইক পাবো সেটা গুনে আমার সার্থকতা বিচার হবে। ওই যে বললুম অঙ্কে কাঁচা তাই আমাজনের ক্ষতির কত শতাংশ আমার লাগান গাছ পূর্ণ করবে তা বাপু আমি জানিনে, তবে ওই, যত কমই হোক আর যত ছোটই হোক, গাছ তো।

#PRAY_FOR AMAZAN

Close