জাতীয়মহানগরশিরোনাম-২

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ-এর মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলে শোক

ষ্টাফ রির্পোট: মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর ভূমিকা জনগণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকার কথা স্বরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবে।
শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ সারাজীবন এদেশের শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও তাঁর অবদান অনন্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী পরিচালনাসহ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দেশগুলিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন প্রদানে তাঁর ভ‚মিকা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর মৃত্যুতে দেশ একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক বিপ্লবীকে হারাল।
নেতৃবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক শোকবার্তায় এ শোক প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায় জাসদ নেতৃদ্বয় বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে জাতির প্রতিটি ক্রান্তিকালে অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিকে সংকটে পথ নির্দেশনা দিয়েছেন। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে অভিভাবকতুল্য জাতীয় নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে স্মরণ রাখবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মোজাফফর আহমদকে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অনন্য প্রধান সংগঠক ও প্রতিথযশা রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমানের এই দুঃসময়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো একজন গুণী রাজনীতিবিদের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়াতে দেশে গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হলো।’
শুক্রবার রাতে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এদেশের সামাজিক অগ্রগতি এবং মানুষের মুক্তির রাজনীতিতে তার অবদান ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অবিচ্ছেদ্য নাম অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তার রাজনীতি ও সংগ্রাম এদেশের মানুষের কাছে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের শেষে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক আপোষহীন সিপাহ্সালার। তার মৃত্যুতে দেশবাসী একজন প্রাজ্ঞ অভিভাবককে হারালো।’
জাপা চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত শোক বার্তায় জিএম কাদের বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল শুন্যতা তৈরি হয়েছে; যা সহসা পূরণ হবার নয়। তিনি ছিলেন দেশপ্রেম ও স্বচ্ছ রাজনীতির কিংবদন্তী। মহান মুক্তিযুদ্ধে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ-এর অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে। শিক্ষা ও রাজনীতিতে তার অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত শোকবাণীতে বি. চৌধুরী বলেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের মৃত্যুতে আমি এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরা ব্যাথিত হয়েছি। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাধারণ মানুষের স্বপক্ষে তার আন্তরিকতা এবং সহমর্মিতা আমাদের সব সময় আকৃষ্ট করবে।
ন্যাপ সভাপতির মৃত্যুতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া-ও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো শোক বার্তায় তারা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে কিংবদন্তিতুল্য এ নেতার মৃত্যুতে দেশ হারালো একজন অভিভাবক রাজনীতিককে। তিনি কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানস্বরূপ সরকার ২০১৫ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করলেও তিনি সবিনয়ে তা ফিরিয়ে দেন। পদক দিলে বা নিলেই যে মানুষ সম্মানিত হয়, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না।’
এছাড়া দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আসাদুল্লা তারেক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ আরও অনেকে।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ-এর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রাজশাহী জেলার সভাপতি এনামুল হক, সাধারন সম্পাদক ও সাবেক রাকসু ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, রাজশাহী জেলা খেলাঘর আসর, আম্রপালি খেলাঘর আসর। বরেন্দ্র বার্তার সম্পাদক এহসানুল আমিন ইমন, সহ-সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন পিন্টু ও বরেন্দ্র বার্তা পরিবার। মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদ। তার মৃত্যু
শোক জানিয়েছেন একাত্তরের ন্যাপ – কমিউনিস্ট পার্টি – ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য , সদস্য সচিব, ঐক্য ন্যাপ,রাজশাহী জেলা ও সদস্য, আলী আর্সনাল।
শোক বার্তায় তিনি বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মজবুত স্তম্ভ ও মহানায়ক ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করছি তাঁর রাজনৈতিক অবদান। এছাড়া তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদ সহ দেশের অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সংগঠন ও বরেন্য ব্যাক্তিবর্গ। বরেন্দ্র বার্তা/হাহাশ/অপস

Close