গোদাগাড়িমহানগরশিরোনাম

বাদশাকে ফারুক চৌধুরীর লিগ্যাল নোটিশ

ষ্টাফ রির্পোট: রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর অতীত রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে সমালোচনা করে তোপের মুখে পড়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
ওয়ার্কার্স পার্টির এমপি বাদশা আওয়ামী লীগের এমপি ফারুক চৌধুরীকে ফ্রিডম পার্টি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা উল্লেখ করে গত ১৯ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই বক্তব্যের জেরে গত ২১ আগস্ট তার আইনজীবী রাজশাহী জজকোর্টের অ্যাডভোকেট এজাজুল হকের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ফারুক চৌধুরী। তবে ওই নোটিশ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা।
জানা যায়, জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘খুনি ফারুক-রশিদের শিষ্যরা এখন কেউ এমপি, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ মানবাধিকারকর্মী বা অন্য দলের নেতা।’ সংবাদের একটি অংশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি ও বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার বক্তব্য ছাপা হয়।
সেখানে এমপি বাদশা বলেন, ‘আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, তখন ফারুক চৌধুরীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় ফারুক চৌধুরী প্রথমে ফ্রিডম পার্টি এবং পরে ছাত্রদল করে রাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ফ্রিডম পার্টির সামনের সারিতে থাকতেন। ওই সময় আমি ও আমার দলের নেতাকর্মীরা ফ্রিডম পার্টির মিছিলে কয়েক দফা লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেছিলাম। ফারুক চৌধুরীও সেসময় ধাওয়া খেয়েছিলেন।’
তবে বাদশার এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, `আমার ফ্রিডম পার্টি বা ছাত্রদল করার তথ্য সত্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী ও চাচা মকবুল হক চৌধুরীকে তুলে বাবলা বনে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। আমার মামা জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমার মামাকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয়। আমরা বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত আমি ব্যবসায়ী ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় ২০০০ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে একবার প্রতিমন্ত্রী এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হই। এসব কারণে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে ইমেজ নষ্ট করছেন।`
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আমার কারণে আগামীতে মন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে এগোতে পারছেন না বাদশা। তাই তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে আমাকে ছোট করছেন। কিছুদিন আগে আমার শহীদ বাবাকে রাজাকার বলে বক্তব্য দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ।’
তিনি বলেন, ‘আমি আপাতত আইনি নোটিশ দিলাম। তিনি (বাদশা এমপি) সাত দিনের মধ্যে আমাকে বা আমার আইনজীবীকে লিখিত জবাব না দিলে, তার বিরুদ্ধে এবং ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করব। বিষয়টি আমি স্পিকারের মাধ্যমে সংসদেও জানাবো’।
জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘ফারুক চৌধুরী ফ্রিডম পার্টি করতেন, এটা সবাই জানেন। মামলা করলে হাজার হাজার সাক্ষি দেওয়া যাবে। বিএনপি নেতা কবির হোসেনের গুণ্ডা বাহিনীতে ছিলেন ফারুক। তাছাড়া আমি সংসদ সদস্য। আমাকে আইনি নোটিশ দিতে পারবেন না তিনি। দিলেও আমি রিসিভ করব না’।
তিনি আরও বলেন, ‘‍যদি ফারুক চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে আমি গোয়েন্দা বিভাগকে চিঠি দেব; ফারুক চৌধুরীর পরিবারের কে কোন রাজনীতি করতেন, তা তদন্ত করে বের করার জন্য।’ বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close