গোদাগাড়িশিরোনাম

রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান টুলুর ভিজিডি’র চাল আত্মস্বাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলুর বিরুদ্ধে ভিজিডি চাল আত্মসাতের প্রমান পাওয়া গেছে। ভূক্তভূগি কার্ডধারী মুর্শিদা খাতুন চলতি মাসের ২১ তারিখ রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরে চেয়ারমানের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি দরখাস্ত করেন। দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতারকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গোদাগাড়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন
শাপলা রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তে যান এবং কার্ডধারীদের সাথে কথা বলে এর প্রমান পান।

এসময় ভিজিডি কার্ডধারী মুর্শিদা খাতুন বলেন, ভিজিডি কার্ডে নাম থাকা সত্বেও তিনি সহ মোট ১৯ জনকে কার্ড প্রদান না করে চেয়ারম্যান জানুয়ারী মাস থেকে নিজেই এ পর্যন্ত চাল উত্তোলন করে আসছেন। কার্ডের কথা বলতে গেলে গালমন্দ করে পরিষদ থেকে তাদের বের দেন চেয়ারম্যান। শুধু তাই নয় তাদের নামে কোন কার্ড হয়নি বলে জানিয়ে দেন। এবিষয়ে তাঁর সন্দেহ হলে তিনি ভিজিডি কার্ডের তালিকা সংগ্রহ করেন এবং সেখানে তার পান। এরপর অনুসন্ধান করে জানতে পারেন মোট ২৬৫ জন কার্ডধারীর মধ্যে বিলাসী গ্রামের
মুর্শিদা, পলাশী গ্রামের ফরিদা, প্রসাদপাড়ার সাথীয়ারা বেগম, মান্ডইলের সুমি রানী, সৈয়দপুরের শেফালী বেগম, আদারপাড়ার মমতা রানী, মান্ডইলের বাসন্তী রানী, ভুতধাংসা গ্রামের ভেরোনিকা হাঁসদা, চব্বিশ নগরের লতিফা খাতুন, বাইপুরের সাবিনা বেগম, সাইরা বেগম ও আসমা বেগম, সোলাপাড়ার সিমা বেগম, বাইপুরের আম্বিয়া বেগম, চব্বিশনগরের সাগরি ও জেসমিন খাতুনের তালিকায় এই ১৯ জনের নাম থাকা সত্বেও চেয়ারম্যান তাদেরকে কার্ড না দিয়ে নিজেই এতদিন চাল উত্তোলন করে আসছেন বলে জানান মুর্শিদা।

এরমধ্যে কার্ডধারী মমতা রানী বলেন, তাঁর নামে ভিজিডি কার্ড হয়েছে জানতে পেরে পরিষদে আসেন কার্ড ও চাল নেওয়ার জন্য । কিন্তু তার নামে কোন কার্ড নাই বলে পরিষদ থেকে চলে যেতে বলেন চেয়ারম্যান । আর যেদিন কার্ড হবে সেদিন তিনি খবর দেবেন বলে জানান মমতা। কার্ডধারী সুমি রানী বলেন, তাঁকেই একই কথা বলে পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেন চেয়ারম্যান। পরে জেলা প্রশাসক ববাররে মুর্শিদা অভিযোগ করলে গত ৬ দিন পুর্বে এক মাসের ৩০ কেজি চাল তাঁকে দিয়েছেন বলে জানান সুমি। উপস্থিত সকল কার্ডধারী চেয়ারম্যানের এই দূর্নীতির বিচার দাবী করেন।
নির্বাহী অফিসার সকলের কথা শোনেন এবং চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে আজ এই ১৯জনকে সকল প্রাপ্তি চাল দেওয়া, তালিকায় যাদের নাম আছে এবং কার্ড এখনো পায়নি তাদের
সকলকে তাৎক্ষণিক কার্ড প্রদানের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক মুর্শিদাকে কার্ড প্রদান করেন এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর রোববার এই ১৯জন কার্ডধারীকে পুরো ছয়মাসের চাল প্রদানের নির্দেশ দেন। সেইসাথে চাল বিতরণের সময় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকার কথা বলেন এবং কেন এতদিন কার্ড আটকিয়ে রেখেছে এবং চাল কেন দেওয়া হয়নি
এর্র কারন জানেতে চেয়ে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের নির্দেশ দেন নির্বাহী অফিসার। উত্তর সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা মহলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা বলেন, তদন্ত করে ১৯ জন নয় মোট ১৫ জন কার্ডধারীর নাম পাওয়া গেছে যাদের কার্ড থাকা সত্বেও ছয়মাস ধরে চেয়ারম্যান তাদের চাল প্রদান করেননি।

রোববার তিনি নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করবেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করবেন বলে জানান তিনি। এদিকে সরেজমিনে দেখায় যায় তদন্তের সময় চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম কোন উত্তর দিকে দিতে পারেননি। সবার সামনে চাল না দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং আগামী রোববার যাদের এতোদিন চাল না দিয়ে নিজে
আত্মস্বাৎ করেছিলেন তাদের সবাইকে চাল দিয়ে দেবেন বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিশ্রুতি দেন চেয়ারম্যান।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close