নাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার শেষ কোথায়?

মোস্তাফিজ মিশু

গ্রিন সিটি, ক্লিনি সিটি, এডুকেশন সিটি, হেলথ সিটি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য শহর রাজশাহী। বাতাসে ক্ষতিকারণ ধূলিকণা কমানোয় বিশ্বসেরা রাজশাহী, নির্মল বায়ুর শহর রাজশাহী। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন মহোদয় শুধু বাংলাদেশের মধ্যে নয়, রাজশাহীকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বাসযোগ্য, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন অন্যতম সেরা শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
ঠিক সেই সময়ে কোন পথে হাটছে উত্তরবঙ্গের মানুষের চিকিৎসার প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল? হাসপাতালের এতো অব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা কার??? হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদ কি ঘুমায়?
গতকাল (২৯ আগস্ট) বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সকালের নাশতায় রোগীদের জন্য পচা পাউরুটি ও কলা দেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা সেই পাউরুটি ও কলা নিয়ে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে যান। কিন্তু হাসপাতাল পরিচালক না থাকায় উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌসের কাছে গিয়ে স্বজনরা অভিযোগ করেন। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা পচা পাউরুটি ও কলা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, রোগীদের জন্য আজ সকালের বরাদ্দ করা নাশতা দেওয়ার পর এর প্যাকেট খুলেই পচা পাউরুটি পান। এর সঙ্গে যে কলা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও পচা। কলাগুলো আকারে ছোট ও পচা হওয়ায় সেগুলোও ফলে দেওয়া হয়।’
এই অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ? কী উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ??? জানতে চাই।
এরআগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন একজন সংবাদকর্মী। ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও!
রাজশাহী পরিচ্ছন্ন শহর হলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র ঠিক উল্টো। হাসপাতালে নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ক্ষুব্ধ হাসপাতালে আগত রোগী ও তাদের স্বজনরা। সম্প্রতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে হাসপাতালকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসহীনতায় কিছুদিনের মধ্যেই সেই পরিচ্ছন্নতা হারিয়ে যায়।
হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা­ রক্ষায় এতো উদাসহীনতা কেন???
সামান্য কিছুতেই রোগী ও স্বজনদের মারধর করা যেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিরচেনা দৃশ্য। সংবাদকর্মীরাও মারধরের হাত থেকে রেহাই পাননি। এখনো সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে হাসপাতালে যেতে পারেন না। কেন?
এই অব্যবস্থাপনার দায় কার? কী উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ?
এভাবেই নানা অব্যবস্থাপনায় এভাবেই ডুবে আছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এসব ক্ষেত্রে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের কোন ভুমিকা নেই কেন? একজন এমপি রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জানতে চাই, রামেক হাসপাতালের এই অব্যবস্থাপনার শেষ কোথায়? কবে ঘুম ভাঙবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের?
মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী এই প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। আমরা চাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুব্যবস্থাপনা ফিরে আসুক। রাজশাহী শহরের মতো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে।
আসুন আমরা সকল অব্যবস্থাপনা ও উদাসহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

Close