মহানগরশিরোনাম

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা

থীম ওমর প্লাজার কোনো ফ্ল্যাট ও দোকানপাট বিক্রির ব্যাপারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি ।

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে আরবিট্রেশন (সালিশি) মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপতির বিরুদ্ধে অংশীদ্বারের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি কোম্পানীর ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েক কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া, প্রতারণা, হুমকি-ধামকি এবং জোর করে একটি ভবন দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ২ জুলাই ঢাকা জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের হয়েছে (আরবিট্রেশন মিস কেস নম্বর-৩৭৫/২০১৯)। মামলার বাদীর নাম কেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ‘থীম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর ওমর ফারুক চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান কোম্পানীর অন্য দুই অংশীদারকেও বিবাদী করেছেন। তবে মূল অভিযোগ তোলা হয়েছে আলোচিত এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
গত ২২ জুলাই আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আর আদেশ হয় ৫ আগস্ট। মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ওমর ফারুক চৌধুরী কোম্পানীর ৩৫ শতাংশের মালিক। আর মোস্তাফিজুর রহমান মালিক ২৫ শতাংশের। এছাড়া দুইজন পরিচালকের মালিকানা রয়েছে ২০ শতাংশ করে। থীম রিয়েল এস্টেট কোম্পানী দেশের বিভিন্ন স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে। এরপর ভবনের ফ্ল্যাট ও দোকানপাট বিক্রি করে। রাজশাহীতেও ‘থীম ওমর প্লাজা’ নামের একটি ১০তলা ভবন নির্মাণ করেছে এই কোম্পানী। আর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে মোস্তাফিজুরের দ্বন্দ্ব এই ভবন নিয়েই।
ভবনটি রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকায়। ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ এই জমিটির মালিক ছিলেন ওমর ফারুক চৌধুরী। নিজের জমিতে বহুতল ভবন গড়ে তুলতে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তিনি থীম রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে চুক্তি করেন। অথচ জমিটি তিনি আগেই আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকে বন্ধক রেখেছিলেন। তারপরেও ফারুক চৌধুরী থীমের সঙ্গে চুক্তি করে প্রতারণা করেছেন বলে মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে। আর এ কারণে কোম্পানী এখন আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নাথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চুক্তি হয়ে যাওয়ায় কোম্পানীর এমডি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে যথাসময়েই ভবনটি নির্মাণ করেছেন। এতে কোম্পানীর প্রায় ৩১ কোটি টাকা দেনাও হয়েছে। ভবনটির ফ্ল্যাট ও দোকান বিক্রি করে এই টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানীর চেয়ারম্যান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী গত ১৭ জুলাই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে বলেছেন, এই ভবন এখন তার। এতে এমডির কোনো অংশ নেই। ভবনে তাকে ঢুকতে দেয়া হবে না।
এদিকে ওমর ফারুক চৌধুরী থীম রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা নিজের হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এছাড়া তিনি থীম ওমর প্লাজায় বাটা জুতা কোম্পানীর সাথে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘ওমর সন্স’ এর চুক্তি করেছেন। কিন্তু তিনি বাটাকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন থীম রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর হিসাব থেকে। আর বিক্রয়লব্ধ টাকা জমা করছেন ওমর সন্সের হিসাবে। এতে থীম রিয়েল এস্টেট কোম্পানী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানী থীম ওমর প্লাজায় বিনিয়োগ করতে গিয়ে অন্য প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারেনি। ফলে চট্টগ্রামের হালিশহরে কোম্পানীর একটি প্রকল্প রুগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ঢাকার ইব্রাহিমপুরে আরেকটি প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে আছে। আর কোম্পানীর সর্বস্ব বিনিয়োগ করে নির্মাণ কাজ শেষ করা রাজশাহীর অত্যাধুনিক ভবনটি দখলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। অথচ এই ভবনে তার মালিকানা মাত্র ৩৫ শতাংশ।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোস্তাফিজুর রহমান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওমর ফারুক চৌধুরী তার সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ করেন এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। অস্বীকার করেন টাকা লুটপাটের অভিযোগও। মোস্তাফিজুর রহমান বাধ্য হয়ে ফারুক চৌধুরীকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। পরে আদালতে সালিশি মামলা করেন।
যদিও মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, কেউ যদি আমার নামে মামলা করে থাকে তাহলে আমাকে জানাতে হবে। আমি এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য জানি না। এমনকি কোনো লিগাল নোটিশও আমার কাছে পাঠানো হয়নি। মামলা হলে আমি জানতাম।
তবে এ মামলার শুনানির আদেশে দেখা গেছে, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত থীম ওমর প্লাজার কোনো ফ্ল্যাট ও দোকানপাট বিক্রির ব্যাপারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না তা আগামী ১৪ অক্টোবর ফারুক চৌধুরীকে আদালতে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে কারণ দর্শানো না হলে একতরফা শুনানি ও বিচার শুরু হবে বলেও আদালতের আদেশে বলা হয়েছে।
এমডি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি কর্মচারীদের কাছে শুনেছেন যে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, থীম ওমর প্লাজায় গেলে তাকে বস্তায় ঢোকানো হবে। স্বেচ্ছাচারী, প্রতারণা, অসৎ ও উগ্র এবং লোভাতুর কার্যকলাপের কারণে তার সাথে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সমাধানের জন্য তিনি আদালতের দারস্থ হয়েছেন।
তিনি বলেন, আদালত থীম ওমর প্লাজার কোনো ফ্ল্যাট ও দোকানপাট বিক্রির ব্যাপারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এখন কেউ এসব কেনার জন্য টাকা দিলে নিশ্চিতভাবেই প্রতারণার শিকার হবেন। কারণ, তাদের কোম্পানীর নীতিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হলেও ওমর ফারুক চৌধুরী একা কাউকে দলিল করে দিতে পারবেন না। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close