চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে পর্নগ্রাফি মামলা তুলে নিতে জেলা সংগ্রামী দলের সভাপতির হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চারঘাটের সরদহ সরকারী কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকের ছবি ইডিটিং করে পর্ন ছবি তৈরি করে ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে ওই ভদ্র মহিলা ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন ঐ পর্নগ্রাফি মামলার আসামী রাজশাহী জেলা সংগ্রামী দলের সভাপতি মওদুদ আহমেদ মধু ও তার লোকজন। এতে ওই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
পর্ণগ্রাফি মামলার আসামী মওদুদ আহমেদ মধু বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ গ্রামের মহির উদ্দীনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দল রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি।তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে ওই গ্রন্থাগারিক ভদ্র মহিলা ও তার মাসহ স্থানীয় এলাকার প্রতিবাদী লোকজন সাংবাদিকদের নিকট এসব অভিযোগ করেন।মওদুদ আহমেদ মধু ও তার লোকজন মামলা তুলে নিতে একদিনের সময় দিয়ে হুমকি দিয়েছেনও বলে জানান তারা।চারঘাট মডেল থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ডু জানান, বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়, ঐ পর্নগ্রাফি মামলার প্রধান আসামী চারঘাট মিয়াপুর গ্রামের মিজানুর তাবারেজের ছেলে ইনজামামুল তাবারেজ স্বার্থকের সাথে ঐ ভদ্র মহিলার পারিবারিক ভাবে বিয়ে ঠিক হয়।সেই সুবাদে দুই পরিবারে যাতায়াত ছিল।বাদী ভদ্র মহিলার একাধিক ছবিও স্বার্থকের ফোনে ছিল।কিন্তু পরবর্তীতে বিদেশ ফেরত স্বার্থকের আরো একটা বউ আছে জানতে পেরে ঐ ভদ্র মহিলা বিয়েতে অসম্মতি জানায়।
তাতে স্বার্থক এবং তার বন্ধু মওদুদ ও শহীদ ওই তরুনীর ছবি এডিটিং করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন।টাকা না দেওয়ায় কিছুদিন পরে স্বার্থক ও তার বন্ধু মওদুদ ঐ ভদ্র মহিলার কিছু ছবি ফেসবুকে ভূয়া আইডি খুলে ছেড়ে দেয়।একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ওই সহকারী গ্রন্থাগারিক বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা বিষয়টি অভিযুক্ত স্বার্থকের বাবাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনকে অবহিত করে বিচার দাবি করেন।
ঐ গ্রন্থাগারিক ভদ্র মহিলা জানান, পরবর্তীতে স্বার্থকের বাবা ও তার বন্ধু মওদুদ বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি খারাপ হবে বলে তাকে হুমকি দেয়। সেজন্য তিনি বাদী হয়ে পর্ন ছবি ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগে চারঘাট মডেল থানায় স্বার্থক এবং তার বন্ধু মওদুদ ও শহীদের নামে মামলা দায়ের করেন। এতে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মামলাটি তুলে না নিলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।বিচার চাইতে গিয়ে বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান ঐ ভদ্র মহিলা।
তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় আমার স্বামী মারা যায়।আমার বাবাও বেঁচে নেই।সেজন্য আমার মা আমার ভবিষৎ এর কথা চিন্তা করে বিয়ে ঠিক করেছিল।কিন্তু প্রবাসী স্বার্থকের বউ থাকায় আমি বিয়েতে রাজি হয়নি।তাতেই আমার এবং আমার পরিবারের প্রতি এতটা হুমকি ধামকি প্রতিনিয়ত।আমি শুধু আমার মা কে সাথে নিয়ে ভালমত বাঁচতে চাই।
স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় সামাজিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ডু জানান, এ মামলার একজন আসামী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছে।আর একজনের বাসা পার্শ্ববর্তী থানা বাঘায়।অন্য একজন জামিনে রয়েছেন। ঐ ভদ্র মহিলার নিরাপত্তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close