ট্রাভেল ও ট্যুরিজমশিরোনাম-২

পর্যটনে বৈশ্বিক সক্ষমতায় পাঁচ ধাপ এগোল বাংলাদেশ

ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম ডেস্ক: নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে পর্যটন সক্ষমতায় বেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত দুই বছরে বৈশ্বিক সক্ষমতা পাঁচ ধাপ বেড়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১২০তম। ২০১৭ সালে অবস্থান ছিল ১২৫তম। তবে বৈশ্বিক গড় সূচকে বাংলাদেশ এখনো অনেকের পিছিয়ে। এ চিত্র উঠে এসেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমপেটেটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯ এ।
বন্দর ও বিমান পরিবহন অবকাঠামো, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, বাসস্থান, আর্থিক মান ও স্থিতিশীল ভ্রমণের সুযোগসহ ৯০টি মানদণ্ড বিবেচনা করে ১৪০ দেশের র‍্যাংকিং করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে আঞ্চলিক বিশ্লেষণে এশিয়া-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এ সূচকে ১২৩তম থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ ১০৫তম হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এটি ছিল উদ্বেগের অন্যতম কারণ। কিন্তু নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ভালো উন্নতির ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশ এখন বেশ সুবিধাজনক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) প্রস্তুতিতেও বাংলাদেশ ১১৬ থেকে এগিয়ে ১১১তম হয়েছে। ভ্রমণ ও পর্যটন অগ্রাধিকারে ১২৭তম থেকে এগিয়ে ১২১তম। মূল্য প্রতিযোগিতায় ৮৯তম থেকে এগিয়ে ৮৫তম। ভূমি ও বন্দর অবকাঠামোতে ৭৪তম থেকে এগিয়ে ৬০তম। পরিবেশ সুরক্ষায় ১২৮তম থেকে এগিয়ে ১১৬তম। বলা হয়, বাংলাদেশ ভ্রমণ ও পর্যটন সক্ষমতায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি করার দেশগুলোর অন্যতম। কিন্তু সার্বিক হিসাবে দেশটি এখনো অনেক পিছিয়ে। এটি প্রমাণ করছে বাংলাদেশের এ খাতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনে বাংলাদেশের অপার সুযোগ রয়েছে। এর সুবাদে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হয়, যা এ দেশের পর্যটন উন্নতির আভাস দিচ্ছে।
বাংলাদেশের পর্যটন সাফল্যের ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ততায় বাংলাদেশ পিছিয়ে ১০৪তম থেকে ১১৪তম হয়েছে। এটি ভিসার আবশ্যিক শর্ত বাড়ানোর কারণে হয়েছে। এ ছাড়া পর্যটক সেবা অবকাঠামোতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কমাতে হবে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পর্যটনে এগিয়ে যেতে প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। বলা হয়, পরিবেশ সুরক্ষায় আইন-কানুন শিথিল থাকায় প্রাকৃতিক পর্যটন হুমকির মুখে। বাংলাদেশের সার্বিক আকর্ষণ কমাচ্ছে মারাত্মক বায়ুদূষণ। এ ছাড়া পানি পরিশোধনের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।
তালিকায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৩৪তম, শ্রীলঙ্কা ৭৭তম, নেপাল ১০২তম এবং বাংলাদেশের নিচে আছে পাকিস্তান ১২১তম।
এবারের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আলোচনায় পর্যটনের চারটি দিক গুরুত্ব পেয়েছে। এগুলো হলো প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ, বিমান পরিবহন পরিকাঠামো, জাতীয় ভ্রমণ ও পর্যটন নীতি এবং উপযুক্ত পরিবেশ (নিরাপত্তা থেকে শুরু করে শ্রমবাজারের স্বাস্থ্যবিধি)।
এবারের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে ইউরোপের দেশ স্পেন। দুই থেকে দশম স্থান পেয়েছে যথাক্রমে ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close