আন্তর্জাতিক

জেএনইউ’তে ফের লাল ঝান্ডার দাপট, ছাত্র সংসদ দখল বাম জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফেরাতে হাল, জওহলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছে লাল। ছাত্র সংগঠনের ৪টি পদে আজ ভোট গণনার পর দেখা গেল, প্রতিটিতেই বিপুল ভোটে এগিয়ে বাম জোটের প্রার্থীরা। আরও চমকপ্রদ তথ্য, এবিভিপি ছিটকে গিয়েছে তৃতীয় স্থানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক – চারটি পদেই বামপন্থী প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত। তবে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে ১৭ সেপ্টেম্বরের আগে ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের দাপট ছিল। কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদরা এখান থেকেই দক্ষ ছাত্রনেতা হিসেবে উঠছে এসেছে। তবে সম্প্রতি সংসদীয় নির্বাচনে বামপন্থীরা একেবারেই দাগ কাটতে না পারায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির সমীকরণ কতটা আগের মতো থাকবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল বিস্তর। আশঙ্কা ছিল, ছাত্র সংগঠনগুলি বামপন্থীরা নিজেদের দখলে রাখতে পারবে না হয়ত। পরীক্ষা যে বেশ কঠিন, তা বুঝতেও বাকি ছিল না কারও। বামপন্থী সংগঠনগুলি একেবারে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে।
তারই সুফল মিলল। শুক্রবারই জেএনইউ-তে ছাত্র সংগঠনে ভোটাভুটি হয়েছে। রবিবার গণনার শুরু থেকেই বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন বাম প্রার্থীরা। শেষ রাউন্ডে ১৫০ ভোট গণনার আগে সবচেয়ে কম ব্যবধান ছিল ৭০০। তাই এই ১৫০ ভোটের একটিও যদি বামেরা না পান, তাহলেও জয় নিশ্চিত। তাই এদিন দুপুর গড়াতেই ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আবহ। একে অন্যকে রক্তিম অভিবাদন জানাচ্ছেন।
এসএফআইয়ের তরফে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ঐশী ঘোষের কথায়, ‘কেন্দ্র লাগাতার দিশাহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে নষ্ট হয়েছে কাজের পরিবেশ। এসব সামনে রেখেই আমরা আন্দোলন করেছি। প্রচারও চালিয়েছিলাম। মানুষজনও এখন বুঝতে পারছেন, কেন্দ্রের উপর ভরসা করে লাভ নেই। বিকল্প কিছু আনা দরকার। তাই আমাদের সমর্থন করছেন।’ আদতে আসানসোলের মেয়ে ঐশীই জেএনইউ-র
ছাত্র সংগঠনের পরবর্তী সভাপতি হতে চলেছেন। অর্থাৎ কানহাইয়া কুমারের উত্তরসূরী এই ঐশী।
ভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস এই জয়কে উৎসর্গ করতে চান এরাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। তাঁর কথায়, ‘বুদ্ধদেববাবু আমাদের নেতা। তিনি এখন অসুস্থ। আমাদের এই জয়ের খবর তাঁর কাছে পৌঁছলে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমাদের আশা।’ আগামী ১২ এবং ১৩ তারিখ এসএফআই, ডিওয়াইএফআইয়ের যৌথ কর্মসূচি রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ১৩ তারিখ
সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযান। ময়ূখের আশা, বাম ছাত্র সংগঠনের এই কর্মসূচিও বুদ্ধদেববাবুকে মানসিকভাবে অনেকটা চাঙ্গা করে তুলবে। সবমিলিয়ে, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জেএনইউ ক্যাম্পাসের রক্তিম ছটা এই মুহূর্তে যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী সর্বভারতীয় ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে। এখান থেকেই ঝিমিয়ে পড়া বামপন্থী সংগঠনগুলি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা সমর্থকদের। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close