নওগাঁশিরোনাম-২

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে তালের পিঠা

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত সুস্বাদু তালের পিঠা। ভাদ্র মাস এলেই মনে পড়ে তালের কথা। আবার ভোর হতেই তাল তলায় গিয়ে রাতে পাকা তাল নিচে পড়েছে কিনা খুঁজে দেখা। আবার তাল কুড়াতে গিয়ে ঝোপ ঝাড়ে হন্যে হয়ে খুঁজে ফেরা। গভীর রাতে তালের ধপাশ শব্দের সঙ্গে সঙ্গে তাল তলায় গিয়ে তাল কুড়িয়ে আনার সে দিন এখন যেন স্মৃতির পাতায় বন্দি হতে চলেছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেশে বেড়ে যাওয়া বজ্রপাত রোধে প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে তাল গাছ লাগানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাই এখন থেকে তাল গাছ রোপণের গুরুত্ব দেয়াও সময়ের প্রয়োজন।
অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় ভাদ্র মাসে ঘরে ঘরে তালের পিঠা বানানোর ধূম পড়ে যেত। আত্মীয়-স্বজনরা পিঠা তৈরি করে একে অন্যের বাড়িতে নিয়ে যেত। এখন আগের মত তালের পিঠা বানানো হয়না।
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই এখন উজাড় করে শাস খেতে বিক্রি গাছসুদ্ধ করে দেন তালগাছের মালিকরা। তাই আগের মতো সুস্বাদু তালের পিঠা পায়েস খাবার সুযোগ থাকে না। দু-একটি তাল গাছে কিছু তাল খাকলেও বাজারে এলে মূল্য থাকে অনেক বেশি। ৮০ থেকে একশ’ টাকার নিচে ভালো তাল পাওয়াই দায়। তাই দরিদ্রদের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে তালের পিঠার স্বাদ গ্রহণ।
আবার তালের কথা উঠলেই সবারই তালপিঠা খাওয়ার জন্য মন আকুল হয়ে ওঠে। একেবারে অসাধারণ পিঠা। ১২ মাসে ১৩ পার্বণের বাংলাদেশে সব ঋতুতেই পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমের ফল। বিশেষ করে ভাদ্রমাসের ফল তাল একটি সুস্বাদু ও লোভনীয় ফল।
কথায় বলে ভাদ্র মাসে তাল পাকা গরম পড়ে। আর পাকা তালের মৌ মৌ গন্ধে ভরে যায় চারিদিক। শত গরমেও খাদ্য রসিক বাঙালি রসনা বিলাসের জন্য ভাদ্র মাসে তালের তৈরি নানা খাদ্য আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। কি ধনী কি দরিদ্র ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে শরতের এই স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় কিংবা শিউলি ঝরা সকালে তালের তৈরি পিঠা হয়ে ওঠে বাড়তি পাওনা।
পাকা তাল খুব অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায়। তাই এর কদরও একটু বেশি। তালের তৈরি খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি এর প্রস্তুত প্রণালি একটু কষ্টসাধ্য। খুব ধৈর্য্য নিয়ে গ্রামীণ নারীরা তালের আঁশ থেকে নির্যাস বের করে তৈরি করেন তালের চিতল পিঠা, কাঁঠাল পাতায় ভরে কলকি পিঠা, তাল পিঠা, তাল বড়া, তাল তেল, তালরুটি, তালের পায়েস, কলাপাতায় তাল পিঠা, তালের রসভরি ইত্যাদি। পাকা তালের নানা রকম মুখরোচক খাবার তৈরি করা হয় বাংলার ঘরে ঘরে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close