বাঘাশিরোনাম

ভারতের নদীতে মাদক সম্রাট কালাম মোল্লার লাশ

ষ্টাফ রির্পোট: বাঘার সেই আলোচিত মাদক সম্রাট কালাম মোল্লার লাশ ভারতের সাহেব নগর এলাকার নদীতে ডুবে যাওয়ার তিনদিন পর ভেসে উঠলো।
মঙ্গলবার ভারতের সীমানার টলটলি পাড়ার নদী থেকে তার মরাদেহ উদ্ধার করা হয়। একইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় মরাদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার জন্য কালাম মোল্লার মরাদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
গত শনিবার ভারতের জলঙ্গি থানার সাহেব নগর এলাকার নদীতে ডুবে যায়। তার ভাইরা (ভারতের বাসিন্দা) আহসান হাবিব নদীতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে কালাম মোল্লার পরিবারকে নিশ্চিত করেন। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে ভারতের জলঙ্গি থানার সাহেব নগর এলাকায় তার ভাইরার বাড়িতে থাকতো বলে কালাম মোল্লার পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালাম মোল্লা বাঘা উপজেলার মহদিপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদ ওরফে আকছেদ মোল্লার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কালাম মোল্লার নিকট আত্মীয় মহদিপুর গ্রামের আরশাদ আলী, নদু প্রামানিক, মুকুল ও মন্টু জানান, নদীতে ডুবে যাওয়ার খবরে তারা ওই এলাকায় গিয়ে মরাদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ভারতের সীমানার টলটলি পাড়ার নদী থেকে তার মরাদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কালাম মোল্লার ভাই রুস্তম মোল্লা জানান, ভাইরা আহসান হাবিরের দেওয়া তথ্য মতে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছেন।
বাঘা থানার উপ সহকারি (এসআই) সইবর রহমান জানান, খবর পেয়ে তার বাড়ি থেকে মরাদেহ কালাম মোল্লার কিনা-ময়না তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। ডিএনএন পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহরে জন্য সঙ্গে তার ভাই নজরুল ইসলাম পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বাঘা খানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
থানা সুত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলা রয়েছে। রাজধানীর গুলশান ও তুরাগ থানাসহ বাঘা-চারঘাট থানায় তার বিরুদ্ধে দুইটি হত্যার চেষ্টা ও ব্যাক্তিগত গাড়ি চুরির মামলাসহ ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়ের করা মামলার, অধিকাংশই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা। এসব মামলাতেই কালাম মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মাদক সম্রাট হিসেবেই পরিচিত কালাম মোল্লা।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বিষযটি নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে মরাদেহটি কালাম মোল্লার বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close