গোদাগাড়িশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

গোদাগাড়ীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাল শিক্ষক নিবন্ধনের সনদে শিক্ষক পদে চাকরি করার অভিযোগ উঠছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সৈয়দপুর শহিদ মঞ্জু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোবাসসারা অন্য এক নারীর সনদ জাল করে চাকরি নিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা তদন্ত হলেও ব্যবস্থাগ্রহনের কোন খবর আসেনি বলে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক খোশ মোহাম্মদ।
জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মোসা. মোবাসসারা। তবে তার নিয়োগের বিষয়টি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির প্রকাশিত সরকারি বিধি মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে। সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। শিক্ষিকা মোবাসসারা কাগজ পত্রের সাথে ২০০৬ সালের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনে পাস করা সাটিফিকেটও
দাখিল করেছেন। যাহার রোল নম্বর-২১১৬০৭৭৯, নিবন্ধন নম্বর ৬১০৮৫২৮/২০০৬। সেখানে পিতার নাম উল্লেখ করা আছে আফসার আলী।শিক্ষিকার সনদ জাল এমন অভিযোগ উঠে। এনিয়ে শিক্ষা অফিস কয়েক দফা তদন্তও করে। তদন্তে বেড়িয়ে আসে তবে শিক্ষক নিবন্ধন সার্টিফিকেটি রোজী খাতুন। পিতা মো: আব্দুর রহিম। তাহলে একই সদন দুইজনের নাকে কি করে হয়। তবে রোল ও নিবন্ধনের নম্বর একই আছে। আর সেই জাল সার্টিফিকেটটি সত্যায়িত করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাকেব প্রধান শিক্ষক খোশ মোহাম্মদ। তাহলে কিসের বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেটটি সত্যায়িত করলেন এই শিক্ষক।
বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক খোশ মোহাম্মদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার জাল সনদে আমিই সত্যায়িত করেছি। তবে নিয়োগ দিয়েছে হায়ার ম্যানেজমেন্ট বোর্ড। মোবাসসারা শিক্ষক নিবন্ধনের সনদটিযে জাল এটি আমিও শুনেছি। ইতিপূর্বে শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি দেখার জন্য অনেকে এসেছিলো তবে রহস্যজনক কারণে বিষয়টি আর এগোয়নি।
শিক্ষিকা মোবাসসারাকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি পরিচয় শুনে ফোন কেটে দেন।
পরে এসএমএস করে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই এই বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি শিক্ষিকা মোবাসসারার।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, মোবাসসারার নিয়োগের সময় আমি এই স্কুলে দায়িত্বরত ছিলাম না। জাল সনদে চাকুরির বিষয়টি তার জানা নেই।তবে বিষয়টি শুনেছি।
আপনি বিষয়টি শুনেছেন তারপরও কেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার বেতন বিলে স্বাক্ষর করেন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ফোন বন্ধ করে দেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মোবাইল ফোন কল দিলে ফোন রিসিভ করেন নি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আক্তারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা।আমি বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের ম্যানেজিং কমিটি গঠিত হয়েছে তবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে এখন পর্যন্ত অনুমোদন পাইনি।তবে জাল সনদ দিয়ে চাকুরীর বিষয়টি আমি শুনেছি। এসব ঘটনা শুনার পরও কেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার বেতন বিলে তিনি কেন স্বাক্ষর করছেন?এটা কি অনিয়ম নয়?সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে ম্যানেজিং কমিটির নবগঠিত সভাপতি হারুন অর রশিদ ফোন বন্ধ করে দেন। বরেন্দ্র বার্তা/মোসই/অপস

Close