পাবনাশিরোনাম

পাবনায় ধর্ষণের পর থানায় বিয়ের ঘটনায় ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

শফিক আল কামাল, পাবনাঃ পাবনায় গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ এবং থানায় তাদের একজনের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার ঘটনার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘন্টু দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে টেবুনিয়া খাদ্যগুদাম এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। “ওই খাদ্যগুদামের পেছনে ঘন্টুর অফিস, তিন দিন ঐ খাদ্য গুদামে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।” ঘন্টুর ওই অফিসে কী কাজ হয় সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেনি। তবে ঘন্টুর বৈধ কোনো ব্যবসা নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘন্টুর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা ইবনে মিজান। পুলিশ কর্মকর্তা ইবনে মিজান আরও বলেন, ”পাবনা সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরে ওই নারীকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

তিন সন্তানের জননী ওই নারীর অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ অগাস্ট তাকে তার বাড়িতে নিয়ে এক সহযোগীসহ পালা করে ধর্ষণ করে। দুদিন পর তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয় এবং সেখানে আরও ৪/৫ জন তাকে পালা করে ধর্ষণ করে। ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূর নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ রাসেলকে আটক করে। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত না করে পুলিশ ওই রাতেই ধর্ষকদের ৪/৫ মধ্যে রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়। এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ ওসি ওবাইদুল হককে কারণ দর্শাতে বলেছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরে থানায় মামলা নেওয়া হয়। ঘটনা তদন্তের জন্য পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে থানায় বিয়ের ঘটনার ব্যাপারে দাশুরিয়া কাজী ফকরুল আজম কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি তিন সন্তানের জননীর সাথে বিয়ে পড়াতে রাজি না হলে পুলিশ আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে পড়াতে বাধ্য করে। ঘন্টু গ্রেফতারের ঘটনায় দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ালীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর খান বলেন, ঘন্টু কাউকে কোন কিছু মনে করে না ইচ্ছামতো চলে যা খুশি তাই করে। আমরা তার অত্যাচারে অতিষ্ট। আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাক ও নারী নেত্রী এ্যাড. কামরুন্নাহার জলি বলেন, তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষকের সাথে থানায় বিয়ের ঘটনা চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মানবতা আজ কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে সেটা পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হকের এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়।

বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close