চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে ম্যানেজিং কমিটির স্বার্থে নষ্ট হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার মান!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট প্রতিনিধি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তদারকি, লেখাপড়ার মান নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ধারণা থেকে ম্যানেজিং কমিটি (স্কুলের ক্ষেত্রে) ও গভর্নিং বডি (কলেজের ক্ষেত্রে) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। অথচ বেশির ভাগ কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে নিজেদের পকেট ভারী করার উৎস হিসাবেই দেখছে। এতে শিক্ষার মান বাড়ার পরিবর্তে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের বোঝা বাড়ছে। শিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে।রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও এর ব্যতিক্রম না।
ভিত্তি মজবুত না হলে যেমন বহুতল ভবন নির্মান করা সম্ভব নয়, তেমনি শিক্ষার ভিত্তি হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষা দৃঢ় না হলে কয়েক স্তর পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা সম্ভব নয়। আর তাই প্রাথমিক শিক্ষার উপরে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার যুগউপযোগী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছেন। কিন্তু রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে থেকে স্কুলের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তি স্বার্থকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।যে কারনে ঐ সব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ছে।
চারঘাট উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটা ঘটনা ও বর্তমান সময়ে অস্থিরতা সচেতন অভিভাবকদের মনে উদ্দেগ জাগিয়েছে।তারা ছেলে মেয়েদের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন।
গত ২০১৮ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১১টার দিকে পরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লাঠিসোঁটা হাতে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তখন পুরো স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীরা চারিদিকে ছোটাছুটি শুরু করে।পরে ঐ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়,জার্সি দেওয়া কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পিয়ন জাহাঙ্গীরের দ্বন্দ্ব এক সময় সন্ত্রাসী হামলায় রুপ নেয়।
পরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বললে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে অন্য রকম চিত্র। পরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন হলেও তাদের পরবর্তী খেলায় অংশগ্রহণের জন্য জার্সি দেওয়া হয় নি। এই জার্সি কেন্দ্র করে ঘটনার সুত্রপাত হলেও আরো অনেক ঘটনায় সবার মনের ক্ষোভ থেকেই সেটা বড় রুপ ধারন করে। সে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিই সবকিছু,সভাপতির বাইরে শিক্ষকরা কোনো কিছুই করতে পারেন না। আর ম্যানেজিং কমিটির একক স্বেচ্ছাচারীতা স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।
গত বছরের ১৫ই সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাতে নন্দনগাছী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস রুম দুস্কৃতকারীরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ লক্ষাধিক টাকার শিক্ষা উপকরন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নৈশ্য পহরী নিয়োগ কেন্দ্র করে ম্যানেজিং কমিটির সাথে দ্বন্দের কথা উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকের পছন্দের পার্থী চাঁন মোহাম্মদ কে নৈশ্য প্রহরী হিসাবে নিয়োগ না দেওয়ায় স্কুলের শিক্ষকদের সাথে সভাপতির ঝামেলা শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে নিয়োগ কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে ঐ বিদ্যালয়ের অফিস রুম আগুনে পুড়ে যায়।আর এতে শিক্ষার সুন্দর একটি পরিবেশ নষ্ট হয়।
এদিকে উপজেলার অনুপামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির দন্দ্বে এখন পর্যন্ত নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।এছাড়াও নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।তারা বলেন,ম্যানেজিং কমিটির কাছে আমরা শিক্ষকরা অসহায়। তাদের সেচ্ছাচারীতার জন্য আমরা বিদ্যালয়ের স্বার্থে কিছুই করতে পারিনা।
চারঘাট উপজেলার কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বার্থান্বেষী ম্যানেজিং কমিটির কারনে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ম্যানেজিং কমিটি ও নৈশ্য প্রহরীর এসব বিষয়ে আমার জানা নেই।তবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close