বগুড়া

৫৭ তম মহান শিক্ষা দিবসে ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের শিক্ষা সমাবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আগামীকাল ১৭সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বগুড়ার ঐতিহাসিক সাতমাথায় ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো: নাদিম মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন শিক্ষা দিবসের আগামীকালের ছাত্র সমাবেশে বগুড়ার সকল শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ও কামনা করেন এবং শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে বিবৃতি প্রদান করেন।
১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস/শিক্ষা আন্দোলন। শিক্ষার অধিকার আদায়ে ঐ দিন ঢাকার রাজপথে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশ বাহিনীর বুলেটে জীবন দিতে হয়েছিল মোস্তফা ওয়াজিল্লাহ, বাবুল প্রমুখ ছাত্রনেতাদের। সামরিক শাসক ফিল্ডমার্শাল আয়ুবখানের শাসন আমলে শরীফ কমিশনের নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রদান করা হয়েছিল। শিক্ষানীতির বেশ কিছু বক্তব্য তৎকালীন পাকিস্তানের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় বেমানানই ছিলনা, অপ্রাসঙ্গিকও ছিল। এগুলোর মধ্যে উচ্চ শিক্ষা সংকোচন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বছরের শেষ পরীক্ষা ব্যবস্থা, ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি পাস কোর্স চালু এবং ছাত্র বেতন বৃদ্ধি প্রস্তাবনা অন্যতম। এগুলি বাতিলের দাবিতে ৬২’র১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল। সেই ধর্মঘট পালনকালেই পুলিশি এই হত্যাকাণ্ড। পরে আয়ুব খান শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতি বাতিল করেছিল।
শিক্ষা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হিসেবে পৃথিবীর দেশে দেশে গৃহিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২৬ ধারায় নাগরিকের জন্য শিক্ষা লাভের অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্ততপক্ষে প্রাথমিক ও মৌলিক পর্যায়ে শিক্ষা অবৈতনিক হবে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সাধারণভাবে সহজলভ্য থাকবে, এবং উচ্চতর শিক্ষা মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য সমভাবে উম্মুক্ত থাকবে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণের পর জাতিসংঘ সকল সদস্য রাষ্ট্রকে ঘোষণা পত্রের বিষয়বস্তু প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানায়। সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে সবারই দায়িত্ব বর্তায় এগুলি বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের সেটা কার্যকর হয়নি। বরং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পাকিস্তান প্রথমেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের বাংলা ভাষা ধংসের চক্রান্ত করে ১৯৪৮ সালেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দূর কথা ঘোষণা করে। ১৯৫০সালে রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে পুলিশিহামলায় ০৭ জন বামপন্থি রাজনীতিককে হত্যা ও ৩২ জনকে আহত করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হত্যা করে সালাম, বরকত, রফিক, সফিক ও জব্বারকে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ৯২ এর ‘ক’ ধারা জারির মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয়।
স্বাধীন পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত একটি সংবিধান পর্যন্ত প্রণয়ন সম্ভব হয়নি বরং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বার্থবিরোধী নানা কালাকানুন জারি করতে থাকে পাকিস্তানের শাসকেরা, শিক্ষা সংস্কৃতি ও রাজনীতির বিকশিত মানবতার পরিবর্তে পুলিশি রাষ্ট্র কায়েমের প্রক্রিয়া হিসেবে ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করা হয়। এ সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানের সচেতন এবং রাজনৈতিক মহলে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ হিসাবেই ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশশাসন মুক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হলেও পাকিস্তানে ব্রিটিশদের মতই পুঁজিবাদী তথা ধনিক বণিক নির্ভর লুটেরা অর্থনীতির পথ অনুসরণ করে। ১৯৫৬ সালের গৃহিত সংবিধানে সম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটায়। প্রগতিশীলতা অবরুদ্ধ হয়, বাঙালি সংস্কৃতিও বাংলাভাষাকে ধ্বংসের চক্রান্ত হয়। সব মিলে বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সামরিক শাসন বলবদ থাকায় সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং বন্ধ হয়ে যায়। ২১ ফেব্রুয়ারি সীমিত পরিসরে প্রভাতফেরী অনুষ্ঠিত হতো? ১৯৬২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-ধর্মঘটের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র নেতাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close