নাগরিক মতামতশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

প্রিয়-অপ্রিয়

সংগ্রহ: অর্ণব পাল সন্তু

প্রিয় রঙ বলে আসলে কিছু নেই। বিয়ের কনের কাছে লাল শাড়ি ভাল লাগলেও লাল রক্ত ভাল লাগবে না। লাল শাড়ি স্বপ্নের প্রতীক হলেও লাল রক্ত ভয়ের প্রতীক।
হয়ত কোন দোকানে গিয়ে হলুদ টিশার্ট পছন্দ করলেন কিন্তু গাড়ি কেনার সময় এই রঙটাই অসহ্য লাগবে। প্রিয় রঙের ঝামেলা থেকে বাঁচতে অনেকেই কালো রঙ বেছে নেয়।
তবে তার ঘরের দেয়ালে এই রঙ লাগাতে বললে অবশ্যই সে নিষেধ করবে। প্রিয় রঙ বলে আসলেই কিছু নেই।
ব্যাপারটি এক ধরনের ক্ষেত্র বিশেষ। ভিন্ন ভিন্ন বস্তু আপনার ভিন্ন ভিন্ন রঙে ভাল লাগছে।
সময় বলেও আসলে কিছু নেই। সূর্য উঠেও না। নামেও না। আমরাই চারদিকে ঘুরি। সময় চলতেই থাকবে…অন্য ভাবে চিন্তা করলে পৃথিবী সৃষ্টির আগেও সময় ছিল।
একে ঘড়ি দিয়ে হিসেব করে ফায়দা নেই। ঘড়ি ইতিহাস কিছুই এটাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবে না। … সময় চলতে থাকবে অমীমাংসিত কোন রহস্যে। পৃথিবী ধ্বংসের পরেও সময় চলবে। কেয়ামতের পরেও চলবে।
বিষয়টা সহজ মনে করলে সহজ। জটিল মনে করলে জটিল।
প্রিয় মানুষ বলেও আসলে কিছু নেই। ব্যাপারটা ক্ষেত্র বিশেষ। আজ যে মানুষটিকে খুব কাছের বলে মনে হচ্ছে ; মানুষটির সাথে পরিচয় না হলে এমনটা হত না।
আপনার জন্ম লেবানন কিংবা জাপানে হলে আপনি অবশ্যই সেই দেশের কোন মানুষকে ভালবাসতেন।
…..আইয়ুব বাচ্চিুর গান শোনা হত না। দরজা বন্ধ করে শুনতেন জাপানী কোন চিউ মিউ সঙ্গীত। চিউ মিউ শোনে মরে যেতে ইচ্ছে করত উসাই মং এর জন্য।
বড় বড় না তার ছোট ছোট চোখ গুলোকেই মনে হত পৃথিবীর সব থেকে নিখুঁত শিল্প।
তার জন্মই হয়েছে আপনার জন্য , দুজন মিলে একাকার , তাকে ছাড়া চলবে না… এই গুলা বাজে কথা।
পেট ওয়ালা ট্রাক ড্রাইভার মনছুর পাছা চুলকাতে চুলকাতে পানের ফিক ফেলল। এই দৃশ্য দেখে কোন সুন্দরী ‘ ইয়াক ‘ করে উঠল।
ঠিক এই মেয়েটির জন্মই যদি মনছুর ড্রাইভারের ঘরে হত তাহলে রাস্তায় দাড়িয়ে বিশ্রী ভাবে পাছা চুলকানো মানুষটিকেই তার মনে হত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।
প্রিয় মানুষ ব্যাপারটা আপেক্ষিক। ক্ষেত্র বিশেষ।
জন্মের পর পৃথিবীর কেউই প্রিয় এবং অপ্রিয় থাকে না। আমরাই কোন কাউকে প্রিয় এবং কাউকে অপ্রিয় বানিয়ে ফেলি।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

Close