বাঘাশিরোনাম

রাজশাহী ইউপি নির্বাচনে ১৫ চেয়ারম্যানসহ ৩৬ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার

ষ্টাফ রির্পোট: দীর্ঘ ১৬ বছর পর আগামী ১৪ অক্টোবর রাজশাহীর বাঘা উপজেলার- বাজুবাঘা, মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া ও গড়গড়ি এই চার ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চেয়েছিল বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এ দিক থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ সেপ্টেম্বর উভয় দলের ১৫ জন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদে ২১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও আ. লীগের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। এর ফলে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার চারটি ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আ. লীগ-বিএনপি ও স্বতন্ত্র মিলে চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন, সংরক্ষিত নারী আসনে ৬৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৮৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র চূড়ান্ত করা হয়। এ দিক থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২২ সেপ্টেম্বর বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। এদিন চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন সংরক্ষিত নারী আসনে ২ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৯ জন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বাজুবাঘা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন মনোনয়ন উত্তোলন করেছিলেন। এর মধ্যে আ. লীগ থেকে ফজলুর রহমান ফজলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহাম্মেদ রঞ্জু সরকার। বাকিদের মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। এরা হলেন ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রফিজ উদ্দিন, বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য নওশাদ আলী। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়ে গেছে ৭ জন।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ এবং বিএনপি থেকে একক প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন ফকরুল হাসান বাবলু। এখানে আ. লীগ থেকে দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন উত্তোলন করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং যুবলীগ নেতা নয়ন সরকার।
মনিগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দুই দল থেকে ৬ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চান। এর মধ্যে আ. লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম এবং বিএনপি থেকে মজিবুর রহমান জুয়েলকে। অবশিষ্ট চার জনের মধ্যে প্রত্যেকেই দলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
গড়গড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছিলেন। এখানে আ. লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রবিউল ইসলাম রবি এবং বিএনপি থেকে মাসুদ করিম টিপু। তবে প্রত্যাহারের শেষ দিন ৫ জন প্রার্থী দলীয় নির্দেশে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এরা হলেন- শাহাজামাল সরকার ওরফে লিটন, আব্দুর রাজ্জাক, আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম ও ইমদাদুল হক। তবে এই ইউপিতে আ. লীগের একজন শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার আলী তিনি তাঁর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেনি। এ নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বাঘা উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, একটি বড় দলের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং থাকবে এটায় স্বাভাবিক। তবে একটি ইউনিয়ন গড়গড়ি বাদে বাকি যে সকল ইউপিতে স্বতন্ত্রের নামে বিদ্রোহী রয়েছেন এলাকার মানুষ দলীয় প্রতিনিধিদের বাইরে তাদের মূল্যায়ন করবে না।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মজিবুল আলম জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর চার ইউপিতে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং আগামী ১৪ অক্টোবর এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে অনুষ্ঠিত হবে ইউপি নির্বাচন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৬১ হাজার। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close