পাবনাশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

শিক্ষক এবং শ্রেণীকক্ষ সংকটে পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

শফিক আল কামাল, পাবনা জেলা প্রতিনিধি: শিক্ষক এবং শ্রেণীকক্ষ সংকটে পাবনার শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সেই সাথে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রতুল ওয়াশরুম ব্যবস্থাপনাও। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মহল সর্বদা দুঃচিন্তায় মগ্ন। ১৯৬৮ খ্রি. ০১’জুলাই ১৬৫জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আজকের এই স্বনামধন্য কলেজটি। যদিও প্রতিষ্ঠাকালে এ কলেজের নামকরণ ছিল ইসলামিয়া কলেজ। ১৯৭১ খ্রি. মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ২৭ মার্চ বর্তমান পাবনা শহরের বি.আর.টি.সি বাস ডিপোর কাছে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে জি. এম শামসুল আলম বুলবুল ও তার বন্ধু সম্মুখ যুদ্ধে মারাত্বকভাবে আহত হন এবং পরে মারা যান। ১৯৭২ খ্রি. স্বাধীনতা পরবর্তী শহীদ বুলবুলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তাঁর নামেই কলেজটির নামকরণ হয় শহীদ বুলবুল কলেজ। এরপর কলেজের উন্নতিকল্পে তার মা কলেজের নামে নিজ গ্রামের ১০(দশ) বিঘা জমি দান করেন। ১৯৮৩ খ্রি. এ কলেজটি জাতীয়করণ করার পর সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ নামেই নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে। এমনকি রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজ গুলোর তালিকায় বুলবুল কলেজের নাম রয়েছে।
শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও রয়েছে অনার্স কোর্স। বর্তমানে ১৫টি বিষয়ে অনার্স পড়ানো হয়। প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সে তুলনায় বাড়ছে না শিক্ষক আর শ্রেণী কক্ষ। কলেজ সূত্রে জানা যায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সংযুক্তি মিলিয়ে শিক্ষক আছেন ৩৫জন। আর শ্রেণী কক্ষ রয়েছে মোট ১৬টি। সেই হিসাবে ১৪২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ১জন শিক্ষক, আর ৩১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১টি শ্রেণীকক্ষ। অথচ জাতীয় শিক্ষানীতিতে ৩০জন শিক্ষার্থীর জন্য ১জন করে শিক্ষক থাকার কথা বলা হয়েছে। কলেজের সর্বমোট ৪৭টি পদ রয়েছে, তারমধ্যে শুন্য পদের সংখ্যা ১৫টি। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষকদের উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স কোর্সের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করতে হিমশিম খেতে হয়। এই কলেজে গ্রন্থাগার রয়েছে ১টি। এ গ্রস্থাগারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার সুযোগ কম। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের তুলনায় ওয়াশরুম একেবারেই অপ্রতুল। মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪০% মেয়ে শিক্ষার্থী কমনরুমের গুটি কয়েক ওয়াশরুমের উপর নির্ভর করতে হয়।
এ ব্যাপারে এই কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শামীম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণীকক্ষ এতো ছোট যে আমরা অনেক সময় বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করি। এজন্য আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। দাঁড়িয়ে থাকার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
সমাজবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. মুসলিমা আক্তার বলেন, এখানে ওয়াশরুম ব্যবস্থা এতোটা সমস্যা মনে হয় যেন ঈদের মাঝে লাইনে দাঁড়িয়ে বাস-ট্রেনের টিকিট কাটতে আসছি। আমরা যত কষ্ট করে গেলাম আমাদের পরবর্তী ভাই বোনরা যেন এ সমস্যার সম্মুখীন না হয় সে দিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিপাত করা উচিত।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর কে. বি. এম নিশানুল হাবিব বলেন, ২০১৮ খ্রি. ৩ জানুয়ারী’ ০.৬১১৭ একর জমি রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকায় সরকার ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কলেজের নাম বরাদ্দ দিয়েছে। ইতিমধ্যে জমিও কলেজের নামে হস্থগত হয়েছে। যদি এই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয় তবে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষের সংকট অনেকাংশে দুর হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস. এম. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, পাবনা-০৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের সুপারিশসহ কলেজে বহুতল ভবন নির্মানের জন্য শিক্ষা প্রোকৌশল বিভাগে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুধুমাত্র একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে সীমিত শিক্ষক ও শ্রেণীকক্ষ নিয়েও প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষক কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজের উন্নতি ঘটছে।
পাবনার জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম মোসলেম উদ্দিন বলেন, বুলবুল কলেজের শিক্ষক এবং শ্রেণীকক্ষ সংকট নিরসনসহ সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাব। মেয়ে শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন ন্যাপকিনসহ পর্যাক্রমে আধুনিক ওয়াশরুম ব্যবস্থাপনা করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close