চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটের মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট প্রতিবেদক: রাজশাহীর চারঘাটের সেই বিতর্কিত শিক্ষক মাসুদ রানা বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে এবং চাকুরি দেবার কথা বলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আত্নসাত করেছেন।এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের অনেকে মামলাও করেছেন।
জানা যায়, মাসুদ রানা উপজেলার বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।এর আগেও তিনি বিভিন্ন অনিয়মের কারনে বার শিরোনাম হয়েছেন।বিদ্যালয় পরিচালনায় অনিয়মের জন্য একাধিকবার শোকজ হয়েছেন।তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পেক্ষিতে বর্তমানে জেলা শিক্ষা অফিস তদন্তে নেমেছেন।অনিয়মই যেনো নিয়মে পরিনত করেছেন তিনি।
এবার সেই মাসুদ রানার বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মানুষ অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ তুলেছেন।যার পরিমান প্রায় ২০ লক্ষ টাকারও বেশি।এর মধ্যে অনেকেই টাকা আদায়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।কোর্টে তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি মাসুদ রানা ‘দিশারী জনকল্যাণ সংস্থা’ একটি এনজিও পরিচালনা করেন।আর এই এনজির মাধ্যমেই তিনি অর্থ আত্নসাতের কুমিরে পরিণত হয়েছেন।বিভিন্ন প্রকল্পে চাকরি দেবার নামে,আবার প্রকল্পের অংশীদার করার কথা বলে প্রায় ডজন খানেক ব্যাক্তির কাছে থেকে টাকা আত্নসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী চারঘাট থানাপাড়া সোয়ালোজ এর পরিচালক মাহমুদা বেগম গিনি বলেন,মাসুদ রানা তার একটি প্রকল্পের অংশীদার করার কথা বলে আমার কাছে থাকে ৮০ হাজার টাকা নেয়।আর আমি তাকে সোয়ালোজ থেকে ২ লক্ষ টাকার লোনের ব্যবস্থা করে দিই।কিন্তু টাকা নেওয়ার পরে তার আর দেখা নেই।সে মাত্র মাত্র ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে।এখন ফোন দিলে আর ফোন ধরে না।এখনও ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।
আরেক ভুক্তভোগী নন্দনগাছী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের মেয়ে নুর এ সাবা বলেন,আমার বর বেলাল হোসেনের সাথে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।তারই সুবাদে মাসুদ রানা একটি নতুন ব্যাবসার অংশীদার করবে বলে আমাদের কাছে থেকে ১১ লক্ষ টাকা নেয়।অগ্রনী ব্যংকের ৭ লক্ষ টাকা ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এর ৪ লক্ষ টাকা চেকের উপরে আমরা মামলা করেছি।
ভুক্তভোগী বাঘা উপজেলার তুলশিপুর গ্রামের হায়াতুল্লাহ আলীর ছেলে কাবাতুল্লাহ জানান,আমার কাছে থেকে সে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ধার নেয়।সে চেক দিয়েছিল একটা।আমি টাকা এখনো পাইনি,সেজন্য কোর্টে মামলা করেছি।
এছাড়াও উপজেলার গোপালপুর গ্রামের হযরত আলী প্রামানিক এর মেয়ে শামিমা খাতুনের কাছে থেকে ২৫ হাজার টাকা,মিয়াপুর গ্রামের আনিসুর রহমানের মেয়ে খুরশিদা খুশির কাছে থেকে ৪৮ হাজার টাকাসহ নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তির কাছে থেকে প্রকল্পে চাকরি দেবার নামে বিপুল অংকের টাকা আত্নসাত করেছেন।
বিপুল পরিমান টাকা আত্নসাতের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাসুদ রানা বলেন,আমাকে অপদস্থ করতে একটি চক্র ইচ্ছে করে এরকম টাকা আত্নসাতের অভিযোগ তুলেছে।কোর্টে মিথ্যা মামলাও করেছে।এ সব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার রশিদা ইয়াসমিন বলেন,মাসুদ রানাকে তার অনিয়মের ব্যাপারে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে।তাকে শাস্তিমুলক বদলি হিসাবেই বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল।এখানেও তার নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।আমরা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো। বরেন্দ্র বার্তা/মোসই/অপস

Close