খেলা

বোল্টকে পেছনে ফেলে দিলেন নারী অ্যাথলেটিক্স!

খেলা ডেস্কঃ তার পায়ে বিদ্যুৎগতি। নামও বোল্ট, উসাইন বোল্ট। বজ্রের গতির মতোই অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে গতির ঝড় তুলতেন তিনি। ২০০৯ সালে বার্লিন অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১০০ মিটার শেষ করে যে রেকর্ড স্থাপন করেছেন জ্যামাইকান স্প্লিন্টার, তাতেই সর্বকালের সেরা রেকর্ড হয়ে গেছে উসাইন বোল্টের। সেই উসাইন বোল্টকেই পেছনে ফেলে দিলেন এক নারী অ্যাথলেট! তবে সেটা গতিতে নয়, পদক জয়ের দৌড়ে। আইএএফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে এতদিন ১১টি পদক নিয়ে সবার শীর্ষে ছিলেন জ্যামাইকান কিংবদন্তি বোল্ট। এবার তাকে পেছনে ফেলে ১২তম পদক জয় করলেন মার্কিন নারী অ্যাথলেট অ্যালিসন ফেলিক্স। অবসরে চলে যাওয়ায়, এবার দোহা চ্যাম্পিয়নশিপে নেই বোল্ট।

কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আইএএএফ বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ৫টি ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্ট মিলিয়ে ১২তম স্বর্ণপদক গলায় ঝুলালেন অ্যালিসন ফেলিক্স। মাতৃত্বকালীন ছুটির পর এই প্রথম বড় কোনো প্রতিযোগিতায় দোহা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এদিন ট্র্যাকে নেমেছিলেন অভিজ্ঞ জ্যামাইকান স্প্লিন্টার শেলি অ্যান ফ্রেসার প্রাইস ও মার্কিন স্প্লিন্টার অ্যালিসন ফেলিক্স। দোহার খলিফা স্টেডিয়ামে হতাশ করলেন না দু’জনের কেউই। ৪*৪০০মিটার মিক্সড রিলে ইভেন্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সোনা জয়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যামাইকান উসাইন বোল্টকে পেছনে ফেলেন ফেলিক্স। ১৩ মাস ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের বাইরে থাকার পর এই প্রথম মাঠে ট্র্যাকে নেমে ফেলিক্স ব্যক্তিগত রেকর্ড তো গড়লেনই, পাশাপাশি সোনা জয়ের পথে ৪*৪০০ মিটার ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ডও সেট করলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিক্সড রিলে টিম। রেকর্ড ৩:০৯:৩৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করলেন মার্কিনি স্প্লিন্টাররা।

এ নিয়ে ৯ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ট্র্যাকে নামলেন ফেলিক্স। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক মিলিয়ে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ইতিহাসে এযাবত এই মার্কিন স্প্লিন্টারের ঝুলিতেই রয়েছে সর্বাধিক পদক জয়ের রেকর্ড। অ্যালিসন ফেলিক্সের পাশাপাশি জ্যামাইকান স্প্লিন্টার শেলি অ্যান ফ্রেসার প্রাইসের সোনা জয়ে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ রোববার পরিণত হয় যেন ‘মাদার্স ডে’তে। নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে চেনা মেজাজেই এদিন ধরা দেন জ্যামাইকান স্প্লিন্টার শেলি। মা হওয়ার পর প্রাইসেরও এটাই প্রথম বড় কোনো চ্যাম্পিয়নশিপ। ১০.৭১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন তিনি।

বোল্টকে পিছনে ফেলে ‘সুপারওম্যান’ ফেলিক্স বলেন, ‘এই সোনা জয় আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। আমার ছোট্ট মেয়ে গ্যালারি থেকে আমায় জয় দেখছে, এটা আমার কাছে পৃথিবী মুঠোয় পাওয়ার মতো। আমার জন্য দুর্দান্ত একটা বছর।’
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close