ছবি ঘরনাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

পাহাড়পুর মহাবিহার খনন ও প্রত্নঅনুসন্ধানে কুমার শরৎকুমার রায়

অর্ণব পাল সন্তু

ইউনেস্কো ঘোষিত ‘বিশ্ব-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’পাহাড়পুর। পৃথিবীর সকল মানুষ এই গৌরবের অংশিদার। পন্ডিত শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর, রত্নপাল শান্তি, বৌদ্ধবুদ্ধের ন্যায় অনেক খ্যাতিমান পন্ডিত পাহাড়পুরে ভিক্ষু (ছাত্র) হিসেবে জ্ঞান আহরণ করেছেন, আবার এখানে শিক্ষকতা করেছেন।
পাহাড়পুরের এই গৌরব-স্তম্ভের অংশীদার কুমার শরৎকুমার রায়। পাহাড়পুর মহাবিহার খনন করে কুমার শরৎকুমার রায় বাংলার ইতিহাসে কীর্তিমান হয়ে আছেন। তিনি অর্থ দিয়ে পাহাড়পুর খনন করিয়েছেন। মাতৃভূমির লুপ্ত ইতিহাস আবার আলোয় নিয়ে এসেছেন। সৃষ্টি করেছেন অমর সভ্যতার, যে সভ্যতা বাঙালি জাতিকে বিশ্বসমাজে গৌরবদীপ্ত করেছে।পাহাড়পুর মহাবিহার খনন ও প্রত্নঅনুসন্ধানে কুমার শরৎকুমার রায়
বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির তখনকার নেতৃস্থানীয়গণ খননে উপস্থিত থেকেছেন, এ প্রমাণ মিলেছে একটি ছবিতে। কুমার শরৎকুমার রায়ের একক অর্থায়নে এবং তাঁর অভিভাবকত্বে পাহাড়পুর মহাবিহার সর্বপ্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয় ১৯২৩ সালের ১ মার্চ, চলে একটানা ৫ বছর। বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই খনন হয়। বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির পক্ষে খননেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জানা যায়, প্রাথমিক খননেই বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির শিক্ষানবীশ কিছু ছাত্র অংশ নেন। শুধু তাই নয়, কুমার শরৎকুমার রায়, ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়সহ সমিতির সাথে জড়িত প্রখ্যাত নাগরিকগণও সরাসরি খননে অংশ নেন।
১৯৪৯ সালে প্রকাশিতVarandra Research Societys Monographs, Vol.-7-এ অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ছবিটি প্রকাশ হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে ‘Exploration Party, Varandra Research Society, Rajshahi’, লেখা আছে। এই ছবিতে ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, কুমার শরৎকুমার রায়, প্রত্নতত্ত্ববিদ রমাপ্রসাদ চন্দ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ননী গোপাল মজুমদার রয়েছেন এবং তাঁদের পরিস্কারভাবে চিহ্নিত করা গিয়েছে। বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি প্রতিষ্ঠাতা অনারারি পরিচালক ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় চাদর মোড়া অবস্থায় সর্ববামে বসা। অক্ষয়কুমারের সামনেই বসা স্যুট-কোট ও গামবোট পরিহিত কুমার শরৎকুমার রায় বসে আছেন। তাঁর সামনে দেখা যাচ্ছে ক্যামেরার স্ট্যান্ড পাতা আছে অথবা এটি সৌখিন হাত-ছড়ি। তিনি সৌখিন ফটোগ্রাফার ছিলেন। কুমার শরৎকুমার রায়ের তোলা বহু ঐতিহাসিক ছবি কলকাতার বিখ্যাত ‘সাহিত্য’সহ বিভিন্ন পত্রিকায় তখন ছাপা হয়েছে । শরৎকুমার রায়ের পেছনে পাথরে বসে আছেন রমাপ্রসাদ চন্দ, তিনি গামবুট পরিহিত। পেছনের দু’জনের মধ্যে গাছে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নেয়া ব্যক্তিকে চেনা যাচ্ছে না। তবে, বসে থাকা ব্যক্তিকে নিশ্চিত চেনা যাচ্ছে তিনিই প্রত্নতত্ত্ববিদ ননীগোপাল মজুমদার। তাঁর এক হাতে বড় টুপি, অপর হাতে ক্যামেরা বলে মনে হচ্ছে। বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের সাবেক পরিচালক ড মুখলেসুর রহমানের চারদশক আগে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত এক লেখায় (Mukhlesur Rahman, `Seventy-one year of the Varendra Research Museum Seminar on A. K. Maitra and Archaeological Studies in Bengal 10 February through 13 February 1982, Varendra Research Museum, Rajshahi University, Rajshahi, 1982.) পাহাড়পুর খননে অংশগ্রহণকারী হিসেবে নীরদবন্ধু স্যানালের নাম উল্লেখ করেছেন। নীরদবন্ধু অব্যাহতভাবে পরপর তিন বছর খননে অংশ নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘…he was associated with the excavation of Paharpur for the three successive seasons, went on tours of expioration and published a fwe learned papers.নীরদবন্ধু স্যানাল ১৯২৭-৫০ পর্যন্ত বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির কিউরেটর হিসেবে কাজ করেন।
বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির মাসিক দুইশত টাকায় প্রথম বেতনভুক্ত কিউরেটর হচ্ছেন ননীগোপাল মজুমদার। তাঁর কাজের মেয়াদ ১৯২৫-১৯২৭। এরপর তিনি Archaeological Servey of India-তে যোগ দেন এবং হরপ্পা, মহেঞ্জাদারোসহ সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন সাইট খননে অংশ নেন। ছবির মোট ছয় জনের মধ্যে বাকি দুই জনের পরিচয় এখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হলো না। তবে, রমাপ্রসাদ চন্দের পাশে যিনি বসা তাঁর হাতে ক্যামেরা ও সামনে খাবারের পট দেখা যাচ্ছে। তিনিই সম্ভবত নীরদবন্ধু স্যানাল। আলোচিত ছবিটি কোন্ সালের তা উল্লেখ নেই, তবে তা ১৯২৫ সালের শীত মৌসুমের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে অনেকের অনুমান। মনে হচ্ছে কাজের মাঝে বিশ্রাম নিচ্ছেন। ছবিটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। এই ছবি বাংলার ইতিহাস বিশেষত পাহাড়পুরের ইতিহাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পাহাড়পুর আবিষ্কার বা খননে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা প্রত্যেকেই একেকজন বাংলার ইতিহাসের গৌরবময় সন্তান। শরৎকুমার রায়সহ এই ছবির মানুষরাই হারিয়ে যাওয়া বাঙালি কৃষ্টি-সভ্যতায় অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘পাহাড়পুর’ পুনরায় আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করে আছেন।
বাংলার সরকারের নির্দেশে ডাক্তার ফ্রান্সিস বুকানন হেমিল্টন পূর্ব-ভারতে একটি জরিপ পরিচালনার (১৮০৭-১৮১২ খ্রিস্টাব্দ) অংশ হিসেবে (১৮০৭-১৮১২ খ্রিস্টাব্দ) তিনি পাহাড়পুরে এসে অনুমান করেন সেখানে অমূল্য প্রত্নসম্পদ লুকিয়ে আছে। এরপর ১৮৭৫ সালে দিনাজপুরের (পাহাড়পুর তখন দিনাজপুর জেলাধীন) তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়েস্টম্যাকেট পাহাড়পুর পরিদর্শনে আসেন। দুজনেরই প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সরকার ও সাধারণ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। তাঁদের বিবরণের জের ধরেই উপমহাদেশের প্রত্নতত্ত্বের পথিকৃৎ ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের মহাপরিচালক স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরের শীর্ষদেশে (তখন দেখতে পাহাড় আকৃতির) একটি ছোট আকারের খনন কাজ চালিয়েই অমূল্য প্রত্ননিদর্শনের সন্ধান পান। তবে, স্থানীয় বলিহার জমিদারের বিরোধিতা, দুর্গম জঙ্গলের বিষাক্ত সাপ ও চিতাবাঘের উপদ্রব উপেক্ষা করে খনন কাজ শুরু করতে হয় কানিংহামকে। এখানে বলা প্রয়োজন, শরৎকুমার রায়ের অর্থায়নে যখন পাহাড়পুর খনন হয় তখন রাজশাহী জেলার অধীন এবং পুরনো নথি-পত্রে পাহাড়পুরকে রাজশাহী হিসেবে দেখানো আছে। ফলে, পাহাড়পুরের সমুদয় সাংস্কৃতিক সম্পদ রাজশাহীর গৌরবময় সম্পদ হিসেবেও বিবেচ্য।
খননেন পূর্বেই শরৎকুমার রায়ের লেখায় পাহাড়পুরের বর্ণনা এসেছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বর্ণনা দিয়ে ‘উত্তরবঙ্গের প্রত্নসম্পৎ’ শিরোনামে কুমার রচিত এক প্রবন্ধ ছাপা হয় কলকাতার ‘সাহিত্য’ পত্রিকায় ১৩২১ বঙ্গাব্দে জৈষ্ঠ্য সংখ্যায়। পাহাড়পুরের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘উত্তরবঙ্গ রেলপথের জামালগঞ্জ স্টেশনের প্রায় দুই ক্রোশ পশ্চিমে পাহাড়পুর নামক একটি স্থান আছে। এইখানে প্রায় ৮০ ফুট উচ্চ জঙ্গলাকীর্ণ একটি সুবিশাল ইষ্টকময় স্তূপ আছে। এই স্তূপের সহিত গোপালের নামের সংস্রব রহিয়াছে।’
পাহাড়পুরে এই ধ্বংসাবশেষ ১৯০৪ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন বলে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়। ১৯১৯ সালে সরকারিভাবে তা স্বীকৃতি লাভ করে। এমনই পটভূমিতে শরৎকুমার রায়ের বিশেষ দৃষ্টি নিবন্ধ হয় এই পুরাকীর্তির প্রতি। বলিহারের জমিদার ছিলেন আঞ্চলিক জমিদার, অপরদিকে শরৎকুমার রায় ছিলেন রাজশাহীর বিখ্যাত জমিদার এবং বাংলার গভর্নর ও লাট সাহেবদের নিকট তিনি ছিলেন অতি গুরুত্বপূর্ণ। শরৎকুমার রায়ের প্রভাবে টিকতে পারে নি বলিহারের জমিদার।
শরৎকুমার রায় পরম মমত্ব ও নিষ্ঠা দিয়ে যেমনি বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করেছেন তেমনিভাবে পাহাড়পুর খননও করেছেন। মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বলে বিবেচিত হয়। পাহাড়পুর মহাবিহার খনন করাও আরেকটি শ্রেষ্ঠ কাজ।
নওগাঁ জেলার ধামুরহাটের মাহিসন্তোষ খননেরও নেতৃত্ব দেন কুমার শরৎকুমার রায়। এই খননের ব্যয়ভার তিনিই বহন করেন। ১৯১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজশাহী থেকে ট্রেনযোগে হিলি স্টেশনে নেমে গরুর গাড়ি ও হাতির পিঠে চড়ে মাহিসন্তোষের প্রত্নস্থলে পৌঁছেন খননকারী দল। এই দলে আরও ছিলেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ, বিমলাচরণ মৈত্রেয়, অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ঘোষাল, নলিনীকান্ত অধিকারী, এস. প্রকাশ স্যানাল, দেবেন্দ্রগতি রায় প্রমুখ। ধামুইরহাট তখন পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাট মহকুমার অধীন ছিল। বালুরঘাট মহকুমা প্রশাসক মৌলভী আব্দুল আজিজ উপস্থিত থেকে খননকারী দলকে স্বাগত জানান এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন। ২৪, ২৫ ও ২৬ এই তিন দিন খননকার্য করে ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি পাথরের উৎকীর্ণ অবতল মিহরাব উদ্ধার হয়, যা বারবাকশাহী মসজিদের। একই সময়ে ওই সময় ধ্বংসস্তূপটি থেকে ১৫০৬-১৫০৭ সালের জনৈক সুহাইলের পুত্রের নির্মিত একটি মসজিদ সম্পর্কিত তথ্য আরবি ভাষায় উৎকীর্ণ একটি পাথরের ফলক আবিষ্কৃত হয়। মিহরাব ও ফলকটি বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রদর্শনে রয়েছে। কোলকাতার Statesman পত্রিকার ১৯১৭, ২ জানুয়ারি সংখ্যায় ও Journal of the Calcutta Historical Society, Bengal Past and Present Vol. X111, July-Dec. 1916 No. ২৫-২৬-এ মাহিসন্তোষ খনন বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন রয়েছে। মাহিসন্তোষ প্রাচীন গৌড়রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল, তা মূলত বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির খননের পর পন্ডিত ও সুধিমহলে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিনিবন্ধ হয়।পাহাড়পুর মহাবিহার খনন ও প্রত্নঅনুসন্ধানে কুমার শরৎকুমার রায়
কুমার শরৎকুমার রায় মালদহ জেলা থেকে মধ্যযুগের মুসলিম কবি শেখ জাহেদ রচিত ‘আদ্য পরিচয়’ পান্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। সংগৃহীত এই পুঁথির পান্ডুলিপি থেকেই প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় শেখ জাহেদ নামে পঞ্চদশ শতকের এই মুসলিম কবির। প্রাপ্ত পান্ডুলিপির অনুলেখক ছিলেন শ্রীনিমাই চরণ দাস। শ্রী মণীন্দ্রমোহন চৌধুরী, কাব্যতীর্থ (তৎসময়ের প্রধান পন্ডিত, লোকনাথ হাই স্কুল, রাজশাহী)-এর সম্পাদনায় ১৯৬৪ সালে ‘আদ্য পরিচয়’ বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে। সম্পাদিত গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, প্রাচীন পুঁথি আদ্য পরিচয় নাথতত্ত্ব প্রভাবিত রচনা। তুলুট কাগজে লিখিত এই পুঁথির রচনাকাল ১৪২০ শকাব্দ বা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে। পুঁথির আলোচ্য বিষয় ‘দেহতত্ত্ব’ অর্থাৎ জীবের উদ্ভব ও বিলুপ্ত প্রসঙ্গই এর মূল কথা। ‘অন্ধকার’ হতে এ বিশ্বের উদ্ভব হয়েছে, এ অন্ধকারকেই শুন্য বলে কথিত হয়েছে। শেখ জাহেদের আদ্য পরিচয় আবিষ্কার করা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সংযোজিত হয় নতুন একটি গৌরবময় অধ্যায়। মহামহোপাধ্যায় পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৭ সালে নেপাল রাজদরবারের লাইব্রেরি থেকে ১৪তম পাল সম্রাট রামপালের (রাজত্বকাল- ১০৮২-১১২৪ খ্রি.) রাজদরবারের রাজকবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত বাংলার ইতিহাসের অমূল্য দলিল ‘রামচরিত্ম’ আবিষ্কার করেন এবং তিনিই ১৯০৭ সালে একই স্থান থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করে বাঙালি জাতির ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। একইভাবে মধ্যযুগের মুসলিম কবি শেখ জাহেদের আদ্য পরিচয় আবিষ্কার করে শরৎকুমার রায়ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

Close