ছবি ঘরনাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ভবন

অর্ণব পাল সন্তু

১৬ ই ডিসেম্বর প্রথম সংগৃহিত ৩২টি প্রত্ন সম্পদের প্রদর্শনির মাধ্যমে বরেন্দ্র জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে সংগৃহীত প্রত্ন সম্পদ সংরক্ষন করা হয় রাজা প্রমোদা নাথ রায়ের বাড়ী তে (বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়), পরে চৌধুরী মহেন্দ্র কুমার সাহা ও কালী প্রসন্ন আচার্য্য র বাড়ীতে তারপর রাজশাহী পাবলিক লাইব্রেরির একটি কামরায় এইসব মূল্যবান প্রত্ন সম্পদ স্থানান্তরিত করা হয়।১৯১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পাবলিক লাইব্রেরিতে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির সংগ্রহশালার প্রদর্শন বহাল থাকে।১৯১৯ সালের নভেম্বরে জাদুঘরের নিজস্ব ভবন নির্মাণ হওয়ার পর অনুসন্ধান সমিতির প্রত্ন সংগ্রহ বর্তমান স্থান অর্থাৎ জাদুঘরের নিজস্ব ভবনে নিয়ে আসা হয়্।বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ভবন
১৯১২ সালে রাজশাহী জুন মাসে তদনীস্তন গবর্ণর বাহাদুরের কাছে রাজশাহীতে প্রস্তাবিত জাদুঘরের অনুমতির জন্য কুমার শরৎকুমার রায় ও রমপ্রসাদ চন্দ্র দার্জ্জিলিং যান। গভার্ণর বাহাদুর লর্ড কারমাইকেল আগষ্ট মাসে রাজশাহীতে অনুসন্ধন সমিতির সংগৃহীত প্রত্ন সম্পদগুলির একটি প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হন।১৯১৩ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারী একটি চিঠিতে রাজশাহী শহরে একটি বেসরকারী জাদুঘর স্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন।
স্বীকৃতি পাবার পর রাজশাহীতে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির প্রস্তাবিত যাদুঘরের ভবণ নির্মানের জন্য কুমার শরৎকুমার রায় কাজ শুরু করেন। যাদুঘরের জন্য তাঁর অগ্রজ রাজা প্রমোদা নাথ বর্তমান মিউজিয়মের ভূখন্ডটি ক্রয় করে দান করেন। অবশিষ্ট ভূখন্ড মিউজিয়মের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য বাবু দুর্গাদাস ভট্টাচার্য্য দান স্বরূপ ছেড়ে দেন।১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর গবর্ণর কারমাইকেল কর্তৃক জাদুঘর ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। কুমার নিজ ব্যয়ে জাদুঘর ভবনের কাজ আরম্ভ করেন, পরে তার অনুজ কুমার বসন্ত কুমার রায়ের ৫০০০ টাকা এবং অগ্রজ রাজা প্রমোদা নাথ রায় বাহাদুরের প্রয়োজনীয় উপরকণাদি এবং আসবাব পত্র দ্বারা মোট ৬৩০০০ টাকা ব্যয়ে প্রাচীন গৌড়ের স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে জাদুঘর ভবনটি নির্মিত করা হয়। জনা যায়, এ ভবনের নকশা কুমার স্বয়ং তৈরী করেন, এ কাজে তাকে সহায়তা করেন প্রকৌশলী বিজয়নাথ সরকার (স্যার যদুনাথ সরকারের ছোট ভাই)।
মিউজিয়াম ভবনটি মোট ভূমির মধ্যভাগে অবস্থিত। একতলা বিশিষ্ট এ ইমারতের ভূমি নকশা উত্তর-দক্ষিণে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতির। ভবনটি একটি উন্মুক্ত অঙ্গনকে কেন্দ্র করে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে টানা বারান্দা বেষ্টিত তিনটি ব্লকে বিভক্ত। সমগ্র ইমারতটিতে উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকে চারটি করে এবং পূর্ব ব্লকে তিনটি, মোট ১১টি কক্ষ রয়েছে। মূল ভবন সম্মুখস্থ টানা বারান্দাটি উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকে নয়টি করে এবং পূর্ব ব্লকে এগারটি ত্রিভাঁজনীয় খিলান সারিতে উন্মুক্ত। কুমার শরৎকুমার রায় ভবন নির্মাণের জন্য উত্তর প্রদেশের বেনারস থেকে বেলে পাথরের চাঁই ক্রয় করে এনেছিলেন। মিউজিয়াম ভবন নির্মাণে সময় লাগে তিন বছর। বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ভবন
১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে গবর্ণর লর্ড রোনাল্ডসে কর্তৃক জাদুঘরের দ্বারোদঘাটিত হয়। এ অনুষ্ঠানে বিদেশী অতিথি ছিলেন লর্ড রোনাল্ডসের বন্ধু খ্যাতনাম ফরাসী পন্ডিত মাঁসিয়ে ফুঁসে। এরপর মিয়াপাড়াস্থ পাবলিক লাইব্রেরিতে থাকা প্রত্ননিদর্শনগুলো বর্তমানের এই ইমারতে এনে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

Close