খেলা

ক্লাবগুলো ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা উচিত: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলা ডেস্কঃ মতিঝিলপাড়ার ১২টি ক্লাবের মধ্যে আটটিতেই ছিল অবৈধ ক্যাসিনো। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব থেকেও উদ্ধার করা হয় জুয়া খেলার সামগ্রী। বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো পাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কিছু করতে পারছে না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। শুধু বিভিন্ন ফেডারেশনকে অনুমোদন দেওয়া এবং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমস্যা নিয়ে কাজ করার এখতিয়ার আছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। ক্লাবগুলো বাণিজ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় কিছু করার থাকে না যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েরও। ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ক্লাবগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

ক্রীড়া ক্লাবগুলো সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা উচিত বলে মনে করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ক্রীড়া আয়োজন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাসিনোর ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনের সুনাম ও ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এগুলো বাণিজ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় আমাদের কিছুই করার নেই। ক্লাবগুলো ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত নয় বলে তাদের ওপর নজরদারি-খবরদারির সুযোগ নেই। কিন্তু সময় এসেছে মন্ত্রণালয়ের অধিকার খাটানোর। আমরা তাদের দুর্নামের ভাগ নেব; কিন্তু জবাবদিহির মধ্যে আনতে পারব না, এটা হতে পারে না। ক্রীড়া ক্লাবগুলো যেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে হয়- এটা আমার পক্ষ থেকে অবশ্যই চেষ্টা করব।’

ক্রীড়া ক্লাবগুলো বাণিজ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব তো দূরের কথা ক্রীড়া কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপ করতে পারে না যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ‘এই ক্লাবগুলোর পরিচয় খেলাধুলাকে দিয়েই। এখানে স্পোর্টস জড়িত হলেও আমরা তাদের (ক্লাব) কাছে জবাবদিহি চাইতে পারব না- এটা হতে পারে না। আমরা মনে করি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; যেই তাদের রেজিস্ট্রেশন দিক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও যেন তাদের দেখভাল করতে পারে, এমন একটা ‘ক্লজ’ (ধারা) আইনে যুক্ত করা উচিত’- বলেন জাহিদ আহসান রাসেল।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বিভিন্ন ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ৮৯টি ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ৩৯টি আন্তর্জাতিক, বাকিগুলো জাতীয়। এই ইভেন্টের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা, যা রাষ্ট্রীয় তহবিল এবং স্পন্সরদের কাছ থেকে নেওয়া হবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close