শিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

চায়ের মগ

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

আমি তখন নিত্তান্ত বোকার মত চায়ের মগ হাতে নিয়ে ভাবছি এখন আমি কি চিৎকার করে একটা হাসি দিবো? না মানে যেমনটা বাড়িতে করি। নিজের কল্পনাকে প্রাধান্য দিয়ে একা একা কতনা হাসি।
হ্যা হেসেই দি আর কত হাসি চেপে রাখবো। এমনিতেই ১৭ দিন হয়ে গেলো আমার ইচ্ছা মত প্রান খুলে হাসতেই পারিনি আর কথা বলতেও পারিনি।এখানে খুব কম কথা বলেছি তার উপর মেপে মেপে,ভেবে চিনতে কথা বলেছি।তবুও কেমন যে অগোছালো মনে হচ্ছিল।
চায়ের মগে একটা চুমুক দিয়ে আবার কিছুক্ষন ভাবলাম না থাক এখানে এভাবে হাসা যাবে না।
আমার এ রকম হাসি দেখে যদি আমাকে পাগল বলে এখানে।
তাই আর হাসলাম না।
পরোক্ষনে ভাবতে শুরু করলাম আমি আসার পর থেকেই শাক্ষর ভাইয়ার ঘর দখল করে বসে আছি। ভাইয়া মনে মনে কি ভাবছে যদি জানতে পারতাম সেই মজা হত। আমি এখানে যে কদিন থাকবো ভাইয়ার ঘরেই থাকবো। আর ভাইয়া থাকবে বাইরের ঘরে।ভাইয়া নিশ্চয় ভাবছে এ মেয়ে এসে আমার ঘর দখল করেছে আর ওর জন্য আমি আমার ঘরে ঘুমাতে পারছি না এমনকি ঠিক মত ঘরে ঢুকতেও পারছি না। আমার তো সেই হাসি পাচ্ছে ভেবে।প্রকৃত মজা তো এটাতেই আমি কিছুই করছি না কিন্তু নিজেই সব কল্পনা করে মজা পাচ্ছি।
অবশ্য শাক্ষর ভাইয়া এগুলো না ভাবতেও পারে। এগুলোতো শুধু আমার বানানো কল্পনা।
চায়ের মগে আর এক চুমুক দিয়ে ফোনের নোট বুকে আমার কল্পনাগুলো লিখতে বসেছি আর মুচকি মুচকি হাসছি।ফোনের দিক থেকে চোখ সরিয়ে দেখি ছোট আম্মুর কাজের মেয়েটা আমার দিকে রেগে তাঁকিয়ে আছে। তার দিকে তাকাঁতে দেখেই আমার পায়ের নিচের পাপসটা টেনে নিয়ে গেলো।তার পর এসে ঘরটা ঝাড়ু দিয়ে চলে গেলো। এভাবে রেগে আমার দিকে তাকাঁতে দেখে আমার মজাই লাগলো। ব্যাপারটা বেশ মজার বলে আমার মনে হলো।
একের পর এক চায়ের মগে চুমুক দিচ্ছি আর সব কল্পনা জল্পনা করছি। আর যা কিছুই কল্পনা করছি তা ফোনের নোটবুকে লিখে রাখছি। এর এক মাত্র কারন হচ্ছে এত মজার কাহিনী হয়েও আমি চিৎকার দিয়ে বিছানার উপর বা মেঝের উপর গড়াগোড়ি দিয়ে হাসতে পারছি না। তাই যদি মহুর্তটা নোট করে রাখি তাহলে পরবর্তী সময়ে সেটা পড়ে ইচ্ছা মত হাসতে পারবো।
এত কিছু ভাবতে ভাবতে আবারো চায়ের মগে চুমুক দিতে গিয়ে দেখি চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। তাই শরবতের মত ঢকঢক করে মগের শেষের চা টুকু গিলে ফেললাম।
চায়ের মগটা রান্না ঘরে রেখে এসে আবারো কোলে বালিস নিয়ে বসে ফোনে নোট করছি।ছোট আম্মুর কাজের মেয়েটা আবারো ঘরে আসলো এক বালতি পানি নিয়ে। পানি দেখে প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমাকে ভেজানোর জন্য পরে বুঝলাম অামাকে ভেজানোর জন্য নয় ঘর মুছার জন্য।
উনার দিকে তাকাঁতে লক্ষ্য করলাম তার মুখে রাজ্যের বিরক্তির ছাপ।সেই ছাপটা আমার পা ছুলিয়ে বসে মুচকি মুচকি হাসার জন্য নাকি কাজ করার জন্য ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।
থাক আমার অত বুঝার দরকার নেই। আর আমি মনোবিজ্ঞানী নয় যে আমাকে তা বুঝতেই হবে।
আমার মনে হয় সব কিছু বুঝা ভালো কিন্তু বেশি বুঝা একদম ভালো নয়। এতে মন, শরীর,সমাজ,রাষ্ট্র সব কিছুর জন্যই ক্ষতির কারন হতে পারে। এটা অবশ্য কোনো মনিষী বলেছেন কিনা জানি না এটা আমার কথা।
মাঝে মাঝে নিজেকেও মনিষী ভাবা উচিত কারন এতে আর কিছু না হলেও নিজের উপর আত্নবিশ্বাস বাড়বে।এটাও কোনো গুনী ব্যাক্তির কথা নয় এটাও আমার নিজের বানানো কথা।
কারন আমার মনে হয় নিজের কাছে নিজেকে গুনী ব্যাক্তি ভাবা খারাপ কিছু নয়।
যাক সকাল থেকে অনেক কিছু কল্পনা করলাম এবার একটু পড়া উচিত কারন আগামী কাল পরিক্ষা। তাই আর কিছু না ভেবে ফোনটা রেখে বই হাতে নিয়ে পড়তে বসলাম।

Close