চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মো: সজিব ইসলাম, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজদার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ-আত্মসাত ও জাল সনদে চাকুরী দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আর এসব ঘটনায় সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন দপ্তরসহ চারঘাট-বাঘার সাংসদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সাজদার রহমান। আর বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা হয় তারই পিতা আব্দুর রহমানকে। এরপর থেকেই প্রধান শিক্ষক সাজদার রহমান জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে।

বিদ্যালয়টির সভাপতি তার পিতা হওয়ার সুবাধে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে সে এফডিআর এ জমাকৃত ৫০ হাজার টাকা ও সাধারন তহবিলে জমাকৃত ৩০ হাজার সর্ব মোট ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে তার ছোট বোন সালমাকে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দিয়েছেন সাজদার রহমান।

স্থায়ী নাগরিক ভারতীয় বাসিন্দা হওয়া সত্তেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সমশের আলী কে মাওলানা পদে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। পিতা সভাপতি হওয়ার সুবাধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ের জমি ও দোকানপাটের জামানতের টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না করে তিনি পুরো টাকাই আত্মসাত করেছেন।

এ ছাড়াও তিনি একটি হত্যা মামলার চার্জসিটভুক্ত আসামী হওয়ার পরেও দাপটের সাথে চাকুরী করে চলেছেন। এতে করে রায়পুর এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সাজদার রহমান নিজেকে হত্যা মামলার চার্জসিটভুক্ত আসামীর কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সব ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহিন। আমি কোন টাকা পয়সা আত্মসাত করিনি। এমনকি কাউকে নিয়মের বাইরে নিয়োগও দেয়নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close