শিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

পেঁয়াজোতস্তি কৌতুকভ

অর্ণব পাল সন্তু

আরে মনসুর সাহেব-
ছেলেকে লন্ডনে পাঠালেন , তা কি করে-টরে?
-ছেলে ত লন্ডনের oc
-বলেন কি !
হ্যা oc মানে অনিয়ন কাটার।
আজকাল নাকি বিসিএস ক্যাঠার পছন্দ না বিবাহযোগ্য কন্যা ও তার বাবাদের। নিদেনপক্ষে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হলেই চোখ বুজে কন্যা সম্পাদন করছেন।
আজকাল পেঁয়াজের যা ঝাঁজ তাতে শুধু জবাই করতেই না, কিনতে গেলেও চোখে পানি এসে যায় শুধু তাই নয় গিন্নিরা এখন আর তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে না। পেঁয়াজ-বেগুনে জ্বলে ওঠে।
অনেকদিন বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনছে না স্বামী। স্ত্রী ব্যাপারটা খেয়াল করে জানতে চাইল-পেয়াজ কিনছ না কেন? দাম অনেক বেড়েছে বলে? স্বামী ঝটপট উত্তর দিল- দাম কোনো ব্যাপারই না! তোমাকে খুব ভালোবাসি ডার্লিং। পেঁয়াজ কাটতে বসে তোমার চোখ থেকে পানি পড়ুক, তুমি কাঁদ, সেটা আমি কিছুতেই চাই না সোনা!
পেঁয়াজ কাটার সময় রজনীকান্তের মুভি ছেড়ে রাখা হয় কেন? উত্তর- পেঁয়াজের ঝাঁজ যতোই থাকুক রজনীকান্তের অভিনয় দেখে পেঁয়াজ নিজেই কাঁদে! তখন পেঁয়াজ কাটতে আর কোন অসুবিধাই হয় না!
পেঁয়াজ আমিষ না নিরামিষ তা নিয়ে ব্রাত্য সমাজে বিস্তর বিতর্ক।
এক বামুনের মেয়ের বিয়ে হবে। ছেলে সম্পর্কে বাবা খোঁজ নিচ্ছেন ঘটকের কাছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ছেলের কোনো বদভ্যাস নেই তো?’
ঘটক বলল, ‘না, ওই মাঝেমধ্যে একটু পেঁয়াজ খায় আরকি!’
‘এ্যাঁ, বলো কী!’
‘না, পেঁয়াজ তো আর সব সময় খায় না। যখন গোমাংস খায়, তখন।’
বামনের তো এবার মাথায় হাত।
ঘটক তাঁকে আশ্বস্ত করতে বলল, ‘গোমাংস তো আর যখন-তখন খায় না, ওই একটু মদ্যপান করলে।’
পেঁয়াজ একাধারে মসলা ও সবজিও বটে। পেঁয়াজোপিডিয়া বলছে ,সভ্যতা মানেই পেঁয়াজের ব্যবহার। আদিম যুগ থেকেই মানুষ রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার শিখে এসেছে। পেঁয়াজই একমাত্র মশলা জাতীয় উদ্ভিদ যা বহুদিন ধরে তার স্ট্যাটাস জমা রেখেছে মানুষের কাছে। প্রাচীন গ্রিক, হিন্দু ও চাইনিজ মিথে পেঁয়াজের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। সারা পৃথিবীতে যতো রকম মশলাই ব্যবহৃত হোক না কেন পেঁয়াজ এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি । পেঁয়াজ কাঁদে এবং কাঁদায় একারণে যে, পেঁয়াজের ভেতর জলের পরিমানই বেশি। পেঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অ্যালিয়াম সিপা’।
পুস্টিবিদদের মতে, একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করাজাতীয় পদার্থ, শূন্য.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, শূন্য.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও শূন্য.৭ শতাংশ লোহা থাকে।
প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’তে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ।
তাই খাবারে পেয়াজের ব্যবহার অনন্য। তাই কাঁচা পেঁয়াজ রোজ একটু হলেও খেতে বলেন পুষ্টিবিদরা।
শৈশবে স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের মধ্যে একটা গুঞ্জন ছিল—পেঁয়াজ ছিলে বগলের তলায় রাখলে শরীর গরম হয়। স্কুল কামাই দিতে জ্বরের অছিলা খাড়া করতে তাই পেঁয়াজ এক মোক্ষম দাওয়াই। এ কৌশল অবশ্য কখনো অ্যাপ্লাই করার সুযোগ হয়নি।
২০১৭ সালে একবার পেয়াজের দাম বেড়েছিল। ঢাকার খিলগাওয়ের ফাস্টফুড শপ থেকে মজার এক অফার দেয়া হয়েছিল। অফার ছিল– এক কেজি পেঁয়াজ দিন, বার্গার নিন! যারা মার্কেটিংয়ে কাজ করেন তারা নাকি এমন ‘অফার আইডিয়া’ নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেন। যেমন– আহসান গাড়ি শো-রুম থেকে গাড়ি কিনুন। যে কোন গাড়ি কিনলেই পাচ্ছেন গাড়ির ব্যাগডালা ভর্তি পেঁয়াজ ফ্রি! অথবা কোয়ালজন থেকে ফ্রিজ কিনলে ফ্রিজ ভর্তি পেঁয়াজ ফ্রি!
বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে কথোপকথন-
ক্রেতাঃ ভাই এক কেজি বেগুন দেন।
বিক্রেতাঃ এই নেন।
ক্রেতাঃ না ভাই বেগুন থাক।এর বদলে আমাকে এক কেজি পটল দিন।
বিক্রেতাঃ এই নেন।
ক্রেতাঃ ভাই পটল লাগবে না।এর বদলে আমাকে এক পেঁয়াজ আলু দেন।
বিক্রেতাঃ মহা যন্ত্রনা।এই নেন পেঁয়াজ।
এবার ক্রেতা দাম না দিয়ে যেতে উদ্যত হলে-
বিক্রেতাঃ ভাই দাম দিয়ে যান।
ক্রেতাঃ কিসের দাম?
বিক্রেতাঃ পেঁয়াজ দাম।
ক্রেতাঃ পেঁয়াজ তো আমি পটলের বদলে নিয়েছি।
বিক্রেতাঃ তাহলে পটলের দাম দেন।
ক্রেতাঃ আমি তো পটল বেগুনের বদলে নিয়েছি।
বিক্রেতাঃ তাহলে বেগুনের দাম দেন।
ক্রেতাঃ আরে! বেগুনতো আমি নেই নি। ট্রাই করে দেখতে পারেন।
বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে…
ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ দিয়ে পাকিস্তানি মুরগি রান্না করা হয়।
পেঁয়াজ-বেগুন ঐক্যজোট বানিয়ে বেপিগুজ চিরকুমার সংঘ বানিয়েছে। তাতে নীতিমালা দেয়া হয়েছে যদি কোনো বেগুন বা পেঁয়াজ বিবাহ করে তার দাম কমিয়ে মুলার দাম করা হবে।
সম্প্রতি এক অনলাইন শপ থেকে মোবাইলের অর্ডার দিয়েছিলেন এক ক্রেতা। কিন্তু ডেলিভারির সময় মোবাইলের বদলে মিলেছিল দুটি পেঁয়াজ! সাব্বাস মামা, তুই জিতছিস।
খোবেন পেঁয়াজ এই নেন,-
রাস্তায় ছড়িয়ে আছে পেঁয়াজ-রসুন। কিছু আবার গাড়ির চাকায় ভর্তা হয়ে গেছে। বাজারের কাছের এই রাস্তাটা খুব ব্যস্ত থাকে দিনে, তখন মানুষ বেশি থাকে, গাড়ি কম। রাতে মানুষ যায় কমে, আর গাড়ি চলে দৈত্যের মতো। সেখানে বড় দৈত্য হলো বাস, ট্রাক, ছোট দৈত্য প্রাইভেট কার।
এই মধ্যরাতে এক ছোট দৈত্যকে চিঁড়েচ্যাপটা করে ফেলেছে আরেক ব্রহ্মদৈত্য! তা নিয়েই জমে গেছে ভিড়। কেউ কৌতুক দৃষ্টিতে, আবার কেউ ভয় ভয় চোখে রক্ত দেখছে।
রক্তে মাখামাখি হয়ে গেছে পেঁয়াজ-রসুন। ডিমের দোপেয়াজা রাঁধার আগে গরম তেলে ভাজার পর পেঁয়াজ যেমন লালরঙা হয়, রক্তে ভিজে এখন তার একই দশা। পার্থক্য শুধু গন্ধে।

Close