চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে জন্ম নিবন্ধনে ফি আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

মো: সজিব ইসলাম, চারঘাট প্রতিনিধি : গতকাল রবিবার ছিল জন্ম নিবন্ধন দিবস।২০০৬ সালের ৩ জুলাই দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা কার্যকর হয়।রাজশাহীর চারঘাটে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এক যুগ অতিবাহিত হলেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না নাগরিকরা ক্ষোভ রয়েছে জনমনে।
ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ মাথায় নিয়েই বছরের পর বছর কাজ করছে বিভাগটি। সেবা প্রদানে ধীরগতি, রশিদ ছাড়া লেনদেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়, দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের অপেক্ষাসহ বহু অভিযোগ। এ সব কারণে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া ও গ্রাম হবে শহর এ স্বপ্নের স্থানীয় সরকারের প্রথম সিঁড়িতেই বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
চারঘাটে জন্ম নিবন্ধন ফি নিয়েও রয়েছে নানা রকম জটিলতা।পৌরসভার জন্ম নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা।অপর দিকে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন ফি ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।যা উপজেলার নাগরিকদের মনে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।এই জন্ম নিবন্ধন দিবসে পুরো উপজেলা জুড়ে জন্ম নিবন্ধন ফি একই রকম করার দাবী জানিয়েছেন তারা।
১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ সালের স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী , জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বিনা মূল্যে, ৫ বছরের মধ্যে ২৫ টাকা, ৫ বছর পর থেকে ৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে এর থেকে কয়েকগুণ বেশী ফি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে চারঘাট উপজেলাতে।
শলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্ধা শারমিন তন্নী অভিযোগ করে বলেন, ফি কত এটাতো আমরা জানি না।জন্ম নিবন্ধনের সময় ২০০ টাকা দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করেছি।কোনো প্রশ্ন করলেও কতৃপক্ষ উত্তর দিতে চান না।আবার জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনেক দিন ঘুরতেও হয়েছে।
এ বিষয়ে এনজিও এসিডির সোসাল সাপোর্ট কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা জানান, স্কুল ও টিকা কেন্দ্রকে আরো তৎপর হতে হবে। ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের প্রথম রাস্তা খুলে দেয় স্কুলের শিক্ষকরা। অভিবাবকদের কথার উপর ভিত্তি করে, বয়স লিখে সনদ দিয়ে দেয়। চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর অফিস এ সূত্র ধরে সনদ প্রদান করে থাকে। অন্য একটি বিষয় হলো, টিকা কেন্দ্রের শেষ দু’টি টিকা যদি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদর্শন করে,টিকা নিতে হবে। কারণ ৮-১০ মাসের শিশুর নামও রাখা হয়ে যায় এবং জন্মনিবন্ধনও করা হয়ে যায়। তাহলে একাধিক জন্মনিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
উপজেলার শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল জলিল বলেন, সার্ভারের অবস্থা এতোটাই খারাপ ৩/৪ দিন চেষ্টা করে ২/১টা নিবন্ধন করা যায়।তাছাড়া আমরা দেরি করিনা।আর ৪৫ দিনের মধ্যে হলে আমরাও টাকা নিই না।কিন্তু যারা নিবন্ধন তৈরি করে,তারা টাকা নেয়।এজন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়েই নিবন্ধন করতে হয়।আর কোনো নিবন্ধন তৈরি সময় কেউ বেশি টাকা নিলে আমরা সেটা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন,পরিপত্রের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।পুরো উপজেলা জুড়ে একই নিয়ম।কেউ যদি পরিপত্রের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন,তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close