মহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে গত ৯ মাসে ১৩৮ জন শিশু নির্যাতিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ০৯ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ, ২০১৯। নির্মম নিষ্ঠুর বাস্তবতায় সারা দেশের মতো বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে রাজশাহীতেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ, ২০১৯। আমাদের দেশে বর্তমানে যে ভাবে শিশুদের প্রতি অমানবিক নির্যাতন হচ্ছে তার কারনও অজানা নয়। প্রতিনিয়ত শিশুরা নিজ পরিবার থেকে সমাজের প্রতি স্তরে সর্বদা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় বেসরকারী উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) নিজেস্ব ডকুমেন্ট সেল থেকে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের গত ৯ (জানুয়ারী – সেপ্টেম্বর) মাসের রাজশাহী জেলার শিশু নির্যাতনের চিত্র প্রকাশ করে। “ আজকের শিশু আনরে আলো – বিশ্বটাকে রাখবে ভালো ” এই স্লোগানের মাধ্যমে জনসাধারণ কে শিশুদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তনের আহবান জানানো হয়। লফস এর আহবান প্রতিটি শিশুই হোক নিজের সন্তানের মতো।
লফস এর ডকুমেন্ট সেল থেকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যও ভিত্তিতে গত ৯ মাসে রাজশাহীতে ০৯ শিশু হত্যা, হত্যা চেষ্টার ঘটনা ৩টি, আত্বহত্যা করেছে ১৭ জন শিশু, আত্বহত্যার চেষ্টা ০১, সরাসরি ধর্ষনের শিকার ২৪ জন শিশু, ধর্ষনের চেষ্টার শিকার ১১ জন শিশু, যৌন নির্যাতনের শিকার ১৪ জন, বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হয়েছে ২৫ জন শিশু, নিখোঁজ ১৩ জন, অপহরণের শিকার ১৯ জন শিশু ও পাঁচারের চেণ্ঠার শিকার ১ জন শিশু। লফস মনে করে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যার অনেকাংশে বিভিন্ন কারনে প্রকাশ পায় না। সংস্থার প্রধান নির্বাহী শাহানাজ পারভীন এর মতে শিশু নির্যাতন এখন সামাজিক ব্যধিতে পরিনত হয়েছে। বর্তমান শিশু আইন এর অধিনে শিশু নির্যাতন এর জন্য কঠার শাস্তি বিধান রয়েছে কিন্তু বাস্তবতায় আইনের প্রয়োগ যথাযথ না হওয়া অনেক ক্ষেত্রে শিশু নির্যাতনের জন্য দায়ী। সমাজে প্রতিনিয়ত শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। শিশু শ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে, গৃহকর্মে শিশুরা নিরাপদ নয়। বাল্য বিবাহ শিশু নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করছে এর সাথে রয়েছে পরকীয়ার মধ্যে জঘন্য অপরাধ যা বর্তমানে অহরহ ঘটে চলেছে। পরকীয়ার ফলে মা তার সন্তানকে হত্যা করছে। শিশু নির্যাতনের বাস্তব চিত্র অন্যরকম উল্লেখ করে তিনি বলেন শুধুমাত্র সংবাদ পত্রে প্রকাশিত ঘটনার আলোকে বুঝা যায় আমরা কোন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। সারা দেশের মতো রাজশাহীতে শিশু নির্যাতন হচ্ছে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কায়দায়। শিশু শ্রমিক নিয়োগ না দেওয়ার বিধান থাকলেও এর কার্যত খুব একটা দেখা যায় না। গৃহ কর্মে বিশেষ করে কন্যা শিশুরা প্রতিনিয়ত অমানুবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পশাপাশি শিশু ধর্ষন ক্রমশই বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও শিশু ধর্ষন এর জগন্যতম অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা এখনও যদি শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয় তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধংসের মূখে পতিত হবে। আসুন বিশ^ শিশু দিবসে আমাদের অঙ্গিকার হোক নিজ পরিবার থেকে সবত্র শিশু অধিকার রক্ষায় নিজে ভূমিকা রাখবো এবং অন্যকে উৎসাহিত করবো। শিশু নির্যাতন কে না বলা শুরু করি। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close