মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

রাবি প্রো-ভিসির দরকষাকষির ফোনালাপের নতুন মোড়!

কামরুল হাসান অভি, রাবি প্রতিনিধি:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সম্প্রতি প্রোভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সাথে চাকরি প্রত্যাশীর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের পর ক্যাম্পাসে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে চরম বিরধীতায় মুখে পরতে হয় খোদ প্রগতিশীল শিক্ষকদেরই একাংশের। তবে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে প্রোভিসি জাকারিয়া ও আইন বিভাগের সভাপতি ড. আব্দুল হান্নান পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
এদিকে নিয়োগ বাণিজ্যর ফোনালাপ ফাঁস থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই প্রোভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন আইন বিভাগের সভাপতি ড. হান্নান। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ২৪৫ নং কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর ফাঁসকৃত ফোনালাপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রোভিসি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদা একজনকে দুই লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা আইন বিভাগের সভাপতি ড. হান্নান নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সেই টাকা খোঁজ নেওয়ার জন্যই চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীকে ফোন করেছিলাম বলে দাবি করেন প্রোভিসি।
তবে প্রোভিসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আব্দুল হান্নান লিখিত বক্তব্য বলেন, রাজশাহী সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আমার একটি জমি বিক্রয়ের বায়নামার রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার অনুপস্থিত থাকায় জমি রেজিস্ট্রি সম্ভব হয়নি। ফলে আমাদের ডিসেন্ট ট্রেডার্সের অস্থায়ী অফিসে বসি এবং সেখানে টাকা সংগ্রহের জন্য পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করি। সেই সাথে জমি ক্রয়ের বিষয়ে যারা আলাপ করতে এসেছিলেন তাদেরকেও জমি বায়না বাবদ কিছু টাকা চেয়েছিলাম। তারা দিতে অসম্মতি জানায়। ঠিক সেই মহুূর্তে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য নুরুল হুদা ওই অফিসে উপস্থিত হন। সেখানে বিভিন্ন জনের সাথে টাকা সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করছি বিষয়টি হুদা উপলব্ধি করে এবং জরুরী প্রয়োজনে এক সপ্তাহের জন্য দুলক্ষ টাকা ব্যবস্থা করে দেয়। দুই তিন দিন পর টাকা ফেরতের জন্য ফোন দিলে জানতে পারি ধারকৃত তার শ^শুর বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে দিয়েছে। তখন আমার কাছে তাৎক্ষনিক টাকা না থাকায় কয়েকদিন পর অর্থাৎ ১২ নভেম্বর সাউথ ইস্ট ব্যাংকে হুদার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাই। নুরুল হুদা আমার আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক থেকেই টাকা ধার নিয়েছিলাম। সেখানে চাকরির বিষয়েসহ অন্য কোন শর্ত ছিলনা। কোনভাবেই নিয়োগ বাণিজ্যর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন ড. হান্নান।
ড. হান্নান আরও জানান, আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৩ নভেম্বর ২০১৮। অথচ আমি ১২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে ধার পরিশোধ করি।’ কিন্তু প্রোভিসি নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে টাকা লেন দেনের বিষয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে যার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। প্রোভিসি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। এ বিষয়ে প্রোভিসি যদি সত্য তথ্য উপস্থাপন করতে না পারেন তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।
এসময় ব্যাংক একাউন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিসেন্ট ট্রেডার্সের একাউন্টটি একটি যৌথ চলতি একাউন্ট। প্রথমে আমার নামে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে মো. শফিকুল ইসলাম ও আমার নামে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মির্জাপুরে দু’জনের ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ব্যাংক হতে ঋণ ও অন্যান্য উৎস হতে গৃহীত টাকা লেন-দেনের সুবিধার জন্য খোলা হয়।
এদিকে ডিসেন্ট ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী ও আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নানের সঙ্গে চাকুরি প্রত্যাশী নূরুল হুদার ফোনালাপ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে নূরুল হুদা রেকর্ডে বারবার ‘ধার’ শব্দটিই উচ্চারণ করেছেন। রাবি প্রো-ভিসির দরকষাকষির ফোনালাপের নতুন মো
গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রোভিসি চোধুরী মো. জাকারিয়ার সঙ্গে চাকরি প্রত্যাশী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রাপ্ত মোহাম্মদ নুরুল হুদার স্ত্রীর ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়। দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে এবং এর পর থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা ভিসি ও প্রো-ভিসি পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে করে আসছে। এছাড়াও প্রগতিশীল শিক্ষকরা বর্তমান প্রশাসনকে স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজ ও অসৎ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। একইসঙ্গে পূজার ছুটি শেষে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এছাড়াও প্রশাসনের বিবেকহীন কর্মকান্ডের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ ও অপসারণের দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ৫৮ শিক্ষক বিবৃতি দেন। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close