মহানগরশিরোনাম-২

রাজশাহীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

আসছে বছর আবার হবে....

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বিজয়া দশমী, শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্তিম দিন। আজ নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দুর্গা। প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে আজ মঙ্গলবার। একদিকে উৎসবের আমেজ অন্যদিকে বিদায়ের সুর।
মহালয়ার দিন ঘোড়ায় চেপে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যের দিকে যাত্রা করেছিলেন মা দুর্গা। শুভ বিজয়া দশমী তিথিতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো ও সিঁদুর উৎসব অনুষ্ঠিত হয। দেবী দুর্গা চার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে পাঁচ দিন মর্ত্যে ভক্তদের মধ্যে কাটালেন, পূজা নিলেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীতে শুরু হয়ে যায় প্রতিমা নিরঞ্জনের কার্যক্রম। নগরীর ফুদকিপাড়া সংলগ্ন মুন্নুজান স্কুল মাঠের পাশ্ববর্তী পদ্মা পাড়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে প্রতিমা নিয়ে এসে পদ্মা নদীতে বিসর্জন করা হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জন স্থলে মুন্নুজান স্কুল মাঠ জুড়ে অসংখ্য ভক্তদের ঢল নামে। দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিতে ভীড় জমান শিশু, কিশোর-কিশোরীরাও। দেবী দূর্গাকে বিসর্জন আর প্রার্থনা চাইতে শেষ বারের মত আসেন তারা।
ঢাক ঢোল পিটিয়ে দেবী দুর্গাকে জানানো হয় শ্রদ্ধা। দুপুরে বিসর্জনের সময় প্রবল বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অনিল কুমার সরকার জানান, রাজশাহীতে বিকেলে থেকেই প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। তাই পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী রাতের মধ্যেই তা শেষ করার কথা রয়েছে।রাজশাহীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শেষ করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। প্রতিমা বিসর্জন প্রাঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এজন্য মহানগরের মুন্নুজান, পঞ্চবটি, আলুপট্টি, ফুদকিপাড়া ও বড়কুঠি ঘাটে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান শেষ করতে বর্তমানে কুমাড়পাড়া, আলুপট্টি, সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও র‌্যাব।
পুলিশ যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার মোকাবিলা করতে সজাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস।
প্রতিমা নিরঞ্জনে সহায়তা করছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
অন্যদিকে , পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে এবার নৌকায় চড়ে দূরে বিসর্জন দিতে হচ্ছে প্রতিমা। তাই যেকোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি রোধে সকাল থেকেই বিসর্জন স্থলে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার কর্মীরা। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে দুইজন ডুবুরি, দুইজন ফায়ার ম্যান ও একজন অফিসার সজাগ রয়েছেন। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close