চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে ধর্ষিতা কিশোরীর কোলে শিশু,দায়িত্ব নিবে কে?

মো: সজিব ইসলাম,চারঘাট: প্রায়ই এক শ্রেণীর পাষন্ড,লম্পট আর নরপিশাচদের ছোবলে পরিণত হচ্ছে নারীর পাশাপাশি কন্যাশিশু ও কিশোরীরা। এমনই এক সহিংসতা বা পাশবিক নির্যাতনের শিকার ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী।রাজশাহীর চারঘাটের মুক্তারপুর গ্রামের ধর্ষণের শিকার হতদরিদ্র পরিবারের সেই কিশোরীর কোলে এখন ছেলে শিশু।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,প্রায় বছর খানেক আগে ঐ কিশোরী ধর্ষনের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষকের পরিচয় সকলের কাছে প্রকাশ হয়ে যায়।থানাপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে ফিরোজ আলী প্রশাসনের কাছে ধর্ষনের অভিযোগ স্বীকার করেন।
এক পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে তৎকালীন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ফিরোজ ঐ ধর্ষিত অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়।কিন্তু বিয়ের ১ মাস পরেই ফিরোজ কিশোরী মেয়েটিকে তার বাবার বাড়িতে রেখে আসে এবং তার মাকে নিয়ে ঢ়াকায় পালিয়ে যায়। এদিকে প্রায় মাস দুয়েক আগে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ছেলে শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঐ কিশোরী ও তার স্বজনরা। জন্ম নেওয়া সেই ছেলে শিশু ও তার মাকে নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক শোরগোল।সদ্য জন্ম নেওয়া ছেলে শিশুটির ভবিষৎ কি হবে সেটা নিয়ে দিশেহারা কিশোরী ও তার স্বজনরা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার মুক্তারপুর পাকিয়ান পাড়া গ্রামে ধর্ষনের শিকার সেই কিশোরীর বাড়িতে গেলে দেখা যায় কিশোরীর কোলে ফুটফুটে ছেলে শিশু। বুকে চাপা থাকা নানা কষ্টের মাঝেও কিশোরী মা চুম্বনে আদর দিচ্ছে সদ্যোজাত শিশুকে। ওইসময় কথা হয় সেই কিশোরী মা, দাদী ও প্রতিবেশীদের সাথে।
ধর্ষনের শিকার শিশুর মা অভিযোগ করে বলেন,ফিরোজের ছোবলে আমার মেয়ের সর্বনাশের পর এখন তার কোলে বাচ্চা।বাচ্চাটি নিওমোনিয়া রোগে আক্রান্ত।আমি নিজেই বিধবা মানুষ।টাকা-পয়সার অভাবে এখন অন্যদের সহায়তায় চলতে হচ্ছে।ফিরোজ ও তার পরিবার ফোন পর্যন্ত ধরে না।উল্টো আমাদের প্রতি থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপসহ নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করার জন্য বলছে।কিন্তু আমি আমার মেয়ের স্ত্রীর মর্যাদা ও জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃ পরিচয় চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাতক ফিরোজের চাচা বাবলু আলী বলেন,আমরা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে নিয়ে এ বিষটির একটা সমাধান করার চেষ্টা করছি।আর আমার ভাতিজা পলাতক না,সে ঢ়াকায় কাজ করে।
এ ব্যাপারে এনজিও এসিডির সোসাল সাপোর্ট কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন,কিশোরী ও ফুটফুটে ছেলে শিশুটির দায়িত্ব ফিরোজকে অবশ্যই নিতে হবে।আমরা এ ব্যাপারে কিশোরী ও তার পরিবারকে সহযোগিতা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন,মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে আমরা পরিবারটিকে সাপোর্ট দেবো।আর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কিশোরী ও তার ছেলে শিশুটিকে ফিরোজ যেনো দায়িত্ব নেয়,সে ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

Close