চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে রাস্তার ধারে বিন্যাবনে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা

মো. সজিব ইসলাম, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে বিভিন্ন সড়কে বিন্যাবনে (কাশ ঝাড়) যাতয়াত বিপদজনক হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের এই বিন্যাবনের কারণে ভয়ানক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে এসব রাস্তার ঝুকিপূর্ন বাঁকগুলোতে অবৈধ বিন্যাবন চাষে প্রায় যানবহনের দূর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরদহ ইউনিয়ন পরিষদের নিতাই শাহার মোড় থেকে নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া পর্যন্ত এবং শলুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় সবচেয়ে বিন্যাবন বেশি। এছাড়া চারঘাট ইউনিয়ন,ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন ও ইউসুফ ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় বিন্যাবন রয়েছে। এসব রাস্তা দিয়ে হরদম চলাচল করছে সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল, আটো, মিনি ট্রাকসহ ভারী যানবাহন। মুষ্টিমেয় ব্যক্তিরা এসব বিন্যাবন রোপণ করে তা থেকে সামান্যই ফায়দা পেলেও ওই সব বিন্যাবনের কারণে সৃষ্ট দূর্ঘটনায় ঝড়ে পড়ছে অমূল্য জীবন।
ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের রায়পুর বাজারের ব্যাবসায়ী আলতাব হোসেন জানান, এসব বিন্যাবনের কোন বৈধতা নেই। সরকারি রাস্তার দু’ধার যে যেমন পারে দখল করে বিন্যাগাছের শাখা রোপণ করে রাখে। পরে বৃষ্টি নামলে ওই বিন্যাবনের শাখা বিশাল গাছে পরিনত হয়। এক সময় এসব বিন্যাগাছ পরিপক্ক হলে তা কেটে রোদে শুকিয়ে ছাউনির কাজে ব্যবহার করা হয়।
অথচ সামান্য লাভের আশায় কথিপয় স্বার্থন্বেষী মহল সরকারি রাস্তার দু’ধার দখল করে বিন্যাগাছ রোপণ করে দূর্ঘটনার আশংকা বাড়িয়ে তুলেছে।
শলুয়ার ব্যাটারী চালিত আটো চালক সাইফুল ইসলাম জানান, বিন্যাবনের কারণে গাড়ি চালাতে তাদের প্রচন্ড অসুবিধা হয়। ওই সময় রানিং গাড়ির হর্ন বাজালেও তা খুব একটা বোঝা যায় না। তখন উভয় গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে প্রতিনিয়ত। নিমপাড়া ইউনিয়নের কৈ ডাঙা গ্রামের মোটারসাইকেল চালক আব্দুল কাদের জানান,ঝিকড়া থেকে নিমপাড়া পর্যন্ত এমন অবস্থা হয়েছে সামনে কোন গাড়ি আসলে চমকে যায় হৃদপিন্ড। প্রতি নিয়তই ঘটে দূর্ঘটনা। অথচ থানা ও উপজেলার এই গুরুত্বপুর্ণ সড়ক কেউ দেখার নেই।তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান।
উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় চলাচলকারী সচেতন ব্যাক্তিবর্গ জনসার্থে বিবেচনায় আমলে নিয়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ এসব বিন্যাগাছ অপসারনের ব্যবস্থা নিতে দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক জানান, বিভিন্ন সড়কে বিন্যাবনে যাতয়াত ব্যবস্থা যেনো বিপদজনক না হয় সেজন্য মাসিক মিটিং এ তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রকে গ্রাম্য পুলিশকে সাথে নিয়ে ব্যাবস্থা নিতে বলেছেন।প্রয়োজনে বিন্যাবন উজাড় করতে উপজেলা প্রশাসন সব রকম সহায়তা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দিবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close