নওগাঁমহানগরশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

রামেক হাসপাতালে সাপে কাটা দম্পতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাপে কাটা এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১০টার দিকে তারা মারা যান। এর আগে রাত ২টার দিকে তাদের সাপে কাটে।
মৃতরা হলেন- নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রামচরণপুর গ্রামের নূর ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মৌসুমী খাতুন (২৬)। ২৯ দিন আগে নূর ইসলামের বাবা সিরাজুল ইসলামেরও মৃত্যু হয়েছে সাপে কেটে।
রামেক হাসপাতালে নূর ও মৌসুমীকে আনার পাশাপাশি তাদের বিছানা থেকে একটি সাপও ধরে আনেন স্বজনরা। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলাল হোসেন দেখে জানান, সাপটির নাম ‘কমন ক্র্যাট’। এই সাপ ফনা তোলে না। কিন্তু গোখরার চেয়ে চারগুণ বেশি বিষধর। বালতিতে করে জালে জড়িয়ে আনা সাপটি দেখার পর তিনি এটিকে মেরে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন।
নূরের চাচা আবদুর রহিম জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নূর ও মৌসুমী ঘরে খাটের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন। মশারির ভেতরে ঢুকে সাপটি তাদের দুজনকেই কামড় দেয়। এরপর তাদের ঘুম ভেঙে গেলে তারা দেখেন, বিছানার ওপর একটি সাপ। পরে মাছ ধরা জাল দিয়ে সাপটিকে ধরা হয়।
এরপর তাদের দুজনকেই মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সাপে কাটার কোনো ওষুধ না থাকার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। শুক্রবার ভোর ৬টায় তাদের রামেকে ভর্তি করা হয়। নূর হাসপাতালের ৪২ ও মৌসুমীকে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে এন্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টা ও বেলা ১০টার দিকে পরপর তারা দুজনই মারা যান।
আবদুর রহিম আরও জানান, ২৯ দিন আগে নূরের বাবা সিরাজুল ইসলামেরও মৃত্যু হয়েছে সাপে কেটে। বাড়িতে সাপে কাটার পর তাকে হাসপাতালে নেয়ারও সময় পাওয়া যায়নি। নূর ও মৌসুমীকে হাসপাতালে নেয়া হলেও বাঁচানো গেল না। রহিম বলেন, মহাদেবপুরের হাসপাতালে সাপে কাটার ওষুধ নেই। সেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিলে হয়তো নূর ও মৌসুমীকে বাঁচানো যেত।
রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বেলাল হোসেন বলেন, মহাদেবপুর থেকে রামেক হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। কমপক্ষে দুই ঘণ্টার পথ। এই দুই ঘণ্টা আগে যদি নূর ও মৌসুমীকে এন্টিভেনম প্রয়োগ করা যেত তাহলে তাদের প্রাণরক্ষার সম্ভাবনা ছিলো।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ.ম. আখতারুজ্জামান বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের জন্য এন্টিভেনমের সরবরাহ নেই। আর এন্টিভেনম ছাড়া সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসাও হয় না। তাই তাদের এখানে সাপে কাটা রোগী গেলে নওগাঁ অথবা রাজশাহী পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে অনেকেরই জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close