চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে অবৈধ গরু-মহিষ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ মাদক সম্রাটদের হাতে

মো: সজিব ইসলাম,চারঘাট: রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা চারঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে চোরাই পথে ভারত থেকে আসছে গরু-মহিষ। আর এসব গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসতে সক্রিয় রয়েছে কয়েকজন মাদক সম্রাটের নেতৃত্বে একটি চক্র। সীমান্ত এলাকার এসব চোরাকারবারীদের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতে চারঘাটে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ।
জানা যায়, স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় সীমান্তে ভারতীয় গরু আনা নেয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং ভারতীয় গরু করিডোরের মাধ্যমে ছাড়পত্র নিয়ে নির্বিঘ্নে দেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিট বা খাটাল প্রথা চালু করে। এর অংশ হিসেবে উপজেলার ইউসুফপুর ও চারঘাটে বিওপি’র অধীনে খাটালের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ চারঘাটে খাটাল বন্ধ রয়েছে। চারঘাট উপজেলা আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে বারবার খাটাল চালুর কথা উপস্থাপন করলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ রেখেছেন।
জানা গেছে, ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা গরুর কোন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এতে এসব গরুর মাংস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন ডাক্তাররা। এসব গরুর শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের ফলে সেগুলো এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মারা যায়। এসব রোগাক্রান্ত গরু নিয়ে এসে দেশীয় গরুর সাথে বেধে রাখা হয়। তাতে দেশীয় পশুর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,চারঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ভাবে গরু ও মহিষ ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী।এদের মূল হোতা উপজেলার দক্ষিণ পিরোজপুর গ্রামের মাদক সম্রাট হ্যাপি(হাপি) ও তার সিন্ডিকেট।তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ পর্যায়ের একজন মাদক ব্যবসায়ী।তার নামে তিনটি মাদক মামলা ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে।হ্যাপি নিজেকে আত্নগোপনে রেখে এই অবৈধ গরু-মহিষের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
অবৈধ ভারতীয় গরু-মহিষ ব্যবসা মাদক কারবারিরা নিয়ন্ত্রণ করায় এলাকাবাসী ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছেন।মাদক কারবারিরা গরু মহিষের সাথে অবৈধ উপায়ে মাদক নিয়ে আসতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা।আর এতে চারঘাট উপজেলার মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন থমকে যেতে পারে আফসোস করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হ্যাপি বলেন,আপনারা আমার নামে যা খুশি লেখেন।আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই।
চারঘাটের বৈধ গরু ব্যবসায়ীরা জানান,চোরাকারবারীরা অবৈধ ভাবে ভারত থেকে নিয়ে আসা গরু-মহিষ বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির পর ক্রেতাদের হাতে বিক্রয় রশিদ প্রদান করছে। এতে করে ক্রেতারা বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে ভারতীয় গরু-মহিষ ক্রয় করলেও রশিদ গ্রহন করছে স্থানীয় এলাকার গৃহ পালিত গরু-মহিষ বিক্রয়ের মতো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট বিকল্প বিওপির হাবিলদার আব্দুল আওয়াল বলেন, সীমান্ত এলাকায় ও সীমান্ত নিকটবর্তী প্রতিটি রাস্তায় বিজিবি’র নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাতে করে চোরাকারবারীরা অবৈধভাবে ভারতীয় গরু-মহিষ দেশের ভিতরে নিয়ে আসতে না পারে। তিনি বলেন,গত ৮ অক্টোবর বুধবার আমরা ১৩ টি গরু ও ১১টি মহিষ আটক হয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close